মাঠে সোনালী ধান পেকেছে ঠিকই, কিন্তু চলনবিলের কৃষকদের মুখে হাসির বদলে এখন চরম উদ্বেগের রেখা। আগাম পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে গলাসমান পানিতে। আর এই থৈ থৈ পানির মধ্যেই জীবন বাজি রেখে চলছে নাবী জাতের বোরো ধান কাটার লড়াই। ধান কাটা থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খরচ আকাশচুম্বী হওয়ায় মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই চলে যাচ্ছে খরচ মেটাতে। ফলে লাভের অঙ্ক নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা, মাগুড়া বিনোদ, বারুহাঁস ও নওগাঁ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে এক মর্মান্তিক চিত্র। ঈদের পর ধান কাটার মৌসুম শুরু হতেই উত্তরের ঢলে তলিয়ে গেছে নিচু জমি ও খাল-বিল। কোথাও শুকনো কোনো উঠান বা জায়গা নেই। যান্ত্রিক উপায়ে ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার) কাদা ও পানির কারণে জমিতে পৌঁছাতেই পারছে না। ফলে বাধ্য হয়েই কৃষকদের সনাতন পদ্ধতিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হচ্ছে।
ধামাইচ এলাকার কৃষিশ্রমিক আয়নাল হক বলেন, "ধান কাটার প্রতিটি ধাপে এখন বাড়তি কষ্ট করতে হচ্ছে। পানির কারণে শ্রমিকদের মজুরিও অনেক বেড়েছে।"
বিলাঞ্চলের কুন্দইল ও কুশাবাড়ী গ্রামের মাঠগুলোতে দেখা যায়, শ্রমিকরা বুক সমান কিংবা গলাসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। কুশাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক জানান, শ্রমিকরা পানির মধ্যে ধান কাটলেও সেই ধানের বোঝা বাঁধার মতো কোনো শুকনো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষিশ্রমিক আব্দুল বারিক তাঁর ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন,ধান কাটার পর গলাসমান পানি মাড়িয়ে মাথায় বা কাঁধে ধানের বোঝা নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। এতে যেমন হাড়ভাঙা খাটুনি হচ্ছে, তেমনি যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তাড়াশে মোট ২৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে নাবী জাতের ধান চাষ করা হয়। মূলত সরিষা কাটার পর দেরিতে রোপণ করায় এসব ধান পাকতেও কিছুটা দেরি হয়েছে এবং তা এই অকাল বন্যার কবলে পড়েছে।
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, "নাবী জাতের ধান কাটতে খরচ কিছুটা বেশি হলেও এবার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আশা করছি সব খরচ বাদ দিয়েও কৃষক শেষ পর্যন্ত লাভবান হবেন।" একই সাথে তিনি কৃষকদের আর দেরি না করে দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেন।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
মাঠে সোনালী ধান পেকেছে ঠিকই, কিন্তু চলনবিলের কৃষকদের মুখে হাসির বদলে এখন চরম উদ্বেগের রেখা। আগাম পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে গলাসমান পানিতে। আর এই থৈ থৈ পানির মধ্যেই জীবন বাজি রেখে চলছে নাবী জাতের বোরো ধান কাটার লড়াই। ধান কাটা থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খরচ আকাশচুম্বী হওয়ায় মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই চলে যাচ্ছে খরচ মেটাতে। ফলে লাভের অঙ্ক নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা, মাগুড়া বিনোদ, বারুহাঁস ও নওগাঁ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে এক মর্মান্তিক চিত্র। ঈদের পর ধান কাটার মৌসুম শুরু হতেই উত্তরের ঢলে তলিয়ে গেছে নিচু জমি ও খাল-বিল। কোথাও শুকনো কোনো উঠান বা জায়গা নেই। যান্ত্রিক উপায়ে ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার) কাদা ও পানির কারণে জমিতে পৌঁছাতেই পারছে না। ফলে বাধ্য হয়েই কৃষকদের সনাতন পদ্ধতিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হচ্ছে।
ধামাইচ এলাকার কৃষিশ্রমিক আয়নাল হক বলেন, "ধান কাটার প্রতিটি ধাপে এখন বাড়তি কষ্ট করতে হচ্ছে। পানির কারণে শ্রমিকদের মজুরিও অনেক বেড়েছে।"
বিলাঞ্চলের কুন্দইল ও কুশাবাড়ী গ্রামের মাঠগুলোতে দেখা যায়, শ্রমিকরা বুক সমান কিংবা গলাসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। কুশাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক জানান, শ্রমিকরা পানির মধ্যে ধান কাটলেও সেই ধানের বোঝা বাঁধার মতো কোনো শুকনো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষিশ্রমিক আব্দুল বারিক তাঁর ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন,ধান কাটার পর গলাসমান পানি মাড়িয়ে মাথায় বা কাঁধে ধানের বোঝা নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। এতে যেমন হাড়ভাঙা খাটুনি হচ্ছে, তেমনি যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তাড়াশে মোট ২৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে নাবী জাতের ধান চাষ করা হয়। মূলত সরিষা কাটার পর দেরিতে রোপণ করায় এসব ধান পাকতেও কিছুটা দেরি হয়েছে এবং তা এই অকাল বন্যার কবলে পড়েছে।
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, "নাবী জাতের ধান কাটতে খরচ কিছুটা বেশি হলেও এবার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আশা করছি সব খরচ বাদ দিয়েও কৃষক শেষ পর্যন্ত লাভবান হবেন।" একই সাথে তিনি কৃষকদের আর দেরি না করে দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেন।

আপনার মতামত লিখুন