সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ফুলজোড় নদীর ওপর নির্মিত ভুঁইয়াগাতী সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক ভেঙে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও শত শত যানবাহন।
রায়গঞ্জ, তাড়াশ, সলঙ্গাসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সেতুটি। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও প্রতিনিয়ত এই পথ ব্যবহার করে দাপ্তরিক কাজে যাতায়াত করেন। চোখের সামনেই সেতুর এমন জরাজীর্ণ অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক দেবে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে ইটের খোয়া ও বালু সরে যাওয়ায় পথচারীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি কাঁপতে থাকে, যা স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ছোট-বড় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গর্তের কারণে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হয়, ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের নজর পড়ছে না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই সেতু মেরামতের দাবি জানিয়ে আসছি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।"
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে সেতুর দুই পাশের ভাঙা অংশ দ্রুত সংস্কার করে জনচলাচলের উপযোগী করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
ভ্যান চালক আব্দুর রশিদ বলেন, অনেকদিন ধরে আমরা ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান চালিয়ে আসছি। অনেক সময় ভাঙ্গা অংশের কথা মনে থাকে না। এর ফলে হঠাৎ করে ব্রেক করলে আমাদের ভ্যান উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। ট্রাকচালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, সেতু থেকে নামা এবং ওঠার সময় দুটি গাড়ির ওভারটেকিং করতে গেলে ভাঙ্গা অংশে গাড়ি চলে যায়। এর ফলে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী মন্ডল বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুর দুই পাশে ভাঙ্গা অংশে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রবিউল আলম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই সেতুর দুই পাশে সংস্কার কাজ করে ঝুকিমুক্ত করা হবে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ফুলজোড় নদীর ওপর নির্মিত ভুঁইয়াগাতী সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক ভেঙে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও শত শত যানবাহন।
রায়গঞ্জ, তাড়াশ, সলঙ্গাসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সেতুটি। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও প্রতিনিয়ত এই পথ ব্যবহার করে দাপ্তরিক কাজে যাতায়াত করেন। চোখের সামনেই সেতুর এমন জরাজীর্ণ অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক দেবে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে ইটের খোয়া ও বালু সরে যাওয়ায় পথচারীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি কাঁপতে থাকে, যা স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ছোট-বড় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গর্তের কারণে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হয়, ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের নজর পড়ছে না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই সেতু মেরামতের দাবি জানিয়ে আসছি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।"
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে সেতুর দুই পাশের ভাঙা অংশ দ্রুত সংস্কার করে জনচলাচলের উপযোগী করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
ভ্যান চালক আব্দুর রশিদ বলেন, অনেকদিন ধরে আমরা ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান চালিয়ে আসছি। অনেক সময় ভাঙ্গা অংশের কথা মনে থাকে না। এর ফলে হঠাৎ করে ব্রেক করলে আমাদের ভ্যান উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। ট্রাকচালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, সেতু থেকে নামা এবং ওঠার সময় দুটি গাড়ির ওভারটেকিং করতে গেলে ভাঙ্গা অংশে গাড়ি চলে যায়। এর ফলে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী মন্ডল বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুর দুই পাশে ভাঙ্গা অংশে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রবিউল আলম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই সেতুর দুই পাশে সংস্কার কাজ করে ঝুকিমুক্ত করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন