দৈনিক লাল বার্তা

ফলন কম, দাম আকাশছোঁয়া: রায়গঞ্জের চায়না-৩ লিচু মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে



ফলন কম, দাম আকাশছোঁয়া: রায়গঞ্জের চায়না-৩ লিচু মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মৌসুমি ফল লিচুর বাজারে এবার দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। বাগান থেকে শুরু করে খুচরা বাজার—সব জায়গাতেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লিচু। বিশেষ করে জনপ্রিয় ‘চায়না-৩’ জাতের লিচুর দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বর্তমানে এই জাতের লিচু পিসপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ১০০টি লিচু কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

ফলন কম ও চাহিদা বেশি থাকায় চায়না-৩ লিচুর দাম এবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চায়না-৩ জাতের পাশাপাশি বোম্বাই, মাদ্রাজি, বেদানা ও কাঠালি জাতের লিচুর সরবরাহও বেড়েছে। তবে এসব জাতের দাম তুলনামূলক কম। বোম্বাই ও মাদ্রাজি লিচু প্রতি ১০০টি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বেদানা ও কাঠালি জাতের লিচুর চাহিদা কম থাকায় প্রতি ১০০টির দাম ২২০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দফা শিলাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে লিচুর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের চায়না-৩ জাতের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।

ব্যবসায়ীরা জানান, আকারে বড়, আকর্ষণীয় রং এবং মিষ্টি স্বাদের কারণে চায়না-৩ জাতের লিচুর চাহিদা বরাবরই বেশি। তবে এ বছর ফলন কম হওয়ায় বাজারে এই জাতের লিচুর সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

লিচুর বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, একসময় যে মৌসুমি ফল সহজেই কেনা যেত, এখন তা ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় গৃহিণী সাবিনা বলেন, “একসময় অতিথি আপ্যায়নে লিচু রাখা স্বাভাবিক ছিল। এখন ১০০ লিচুর দাম ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বড় চাপ।”

অটোরিকশাচালক সুইট বলেন, “বাচ্চারা লিচু খেতে চায়, কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনে ফিরে যেতে হয়। নিত্যপণ্যের খরচ সামলে মৌসুমি ফল কেনা এখন বিলাসিতা হয়ে গেছে।”

মধ্যবিত্ত ক্রেতা হাসেমের ভাষ্য, “আগে মৌসুমে অন্তত এক-দু’শ লিচু কিনে পরিবার নিয়ে খাওয়া যেত। এখন ১০টা লিচু কিনতেই প্রায় ৫০ থেকে ৮০ টাকা লাগে। সাধারণ মানুষের জন্য এটা কষ্টের।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিজীবী বলেন, “ফলন কমেছে, এটা ঠিক। কিন্তু প্রতি পিস ৭-৮ টাকা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি। 

রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল হক জানান, উপজেলায় প্রায় পাঁচ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে চায়না-৩ জাতের লিচুর ফলন আশানুরূপ হয়নি। তবে অন্যান্য জাতের লিচুর উৎপাদন ভালো হয়েছে।

তিনি বলেন, “চায়না-৩ লিচুর ফলন কম হওয়ায় এর বাজারমূল্য বেড়েছে। 

অন্যদিকে অন্যান্য জাতের ফলন ভালো হলেও অনেক কৃষক গত বছরের তুলনায় কম দাম পেয়েছেন। প্রতিবছরই রায়গঞ্জে লিচুর আবাদ বাড়ছে, যা এ অঞ্চলের কৃষির জন্য ইতিবাচক দিক।”

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ুগত পরিবর্তন ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে মৌসুমি ফলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হয় এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দামের ওপর। 

রায়গঞ্জের লিচুর বাজারেও এবার সেই চিত্রই দেখা যাচ্ছে। ফলে মৌসুমের শুরুতেই লিচুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের মধ্যেআলোচনা-সমালোচনা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


ফলন কম, দাম আকাশছোঁয়া: রায়গঞ্জের চায়না-৩ লিচু মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image


সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মৌসুমি ফল লিচুর বাজারে এবার দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। বাগান থেকে শুরু করে খুচরা বাজার—সব জায়গাতেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লিচু। বিশেষ করে জনপ্রিয় ‘চায়না-৩’ জাতের লিচুর দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বর্তমানে এই জাতের লিচু পিসপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ১০০টি লিচু কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।



ফলন কম ও চাহিদা বেশি থাকায় চায়না-৩ লিচুর দাম এবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।






স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চায়না-৩ জাতের পাশাপাশি বোম্বাই, মাদ্রাজি, বেদানা ও কাঠালি জাতের লিচুর সরবরাহও বেড়েছে। তবে এসব জাতের দাম তুলনামূলক কম। বোম্বাই ও মাদ্রাজি লিচু প্রতি ১০০টি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বেদানা ও কাঠালি জাতের লিচুর চাহিদা কম থাকায় প্রতি ১০০টির দাম ২২০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে।






চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দফা শিলাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে লিচুর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের চায়না-৩ জাতের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।




ব্যবসায়ীরা জানান, আকারে বড়, আকর্ষণীয় রং এবং মিষ্টি স্বাদের কারণে চায়না-৩ জাতের লিচুর চাহিদা বরাবরই বেশি। তবে এ বছর ফলন কম হওয়ায় বাজারে এই জাতের লিচুর সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।





লিচুর বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, একসময় যে মৌসুমি ফল সহজেই কেনা যেত, এখন তা ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।




স্থানীয় গৃহিণী সাবিনা বলেন, “একসময় অতিথি আপ্যায়নে লিচু রাখা স্বাভাবিক ছিল। এখন ১০০ লিচুর দাম ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বড় চাপ।”




অটোরিকশাচালক সুইট বলেন, “বাচ্চারা লিচু খেতে চায়, কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনে ফিরে যেতে হয়। নিত্যপণ্যের খরচ সামলে মৌসুমি ফল কেনা এখন বিলাসিতা হয়ে গেছে।”




মধ্যবিত্ত ক্রেতা হাসেমের ভাষ্য, “আগে মৌসুমে অন্তত এক-দু’শ লিচু কিনে পরিবার নিয়ে খাওয়া যেত। এখন ১০টা লিচু কিনতেই প্রায় ৫০ থেকে ৮০ টাকা লাগে। সাধারণ মানুষের জন্য এটা কষ্টের।”




নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিজীবী বলেন, “ফলন কমেছে, এটা ঠিক। কিন্তু প্রতি পিস ৭-৮ টাকা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি। 



রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল হক জানান, উপজেলায় প্রায় পাঁচ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে চায়না-৩ জাতের লিচুর ফলন আশানুরূপ হয়নি। তবে অন্যান্য জাতের লিচুর উৎপাদন ভালো হয়েছে।



তিনি বলেন, “চায়না-৩ লিচুর ফলন কম হওয়ায় এর বাজারমূল্য বেড়েছে। 



অন্যদিকে অন্যান্য জাতের ফলন ভালো হলেও অনেক কৃষক গত বছরের তুলনায় কম দাম পেয়েছেন। প্রতিবছরই রায়গঞ্জে লিচুর আবাদ বাড়ছে, যা এ অঞ্চলের কৃষির জন্য ইতিবাচক দিক।”



কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ুগত পরিবর্তন ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে মৌসুমি ফলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হয় এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দামের ওপর। 





রায়গঞ্জের লিচুর বাজারেও এবার সেই চিত্রই দেখা যাচ্ছে। ফলে মৌসুমের শুরুতেই লিচুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের মধ্যেআলোচনা-সমালোচনা চলছে।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা