স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশের চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা ডানা মেলতে পারে নি। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সুবিধাসমূহ ও চিকিৎসকদের প্রাপ্য সুযোগসুবিধা কোথায় যেনো বন্ধি হয়ে আছে। যে দেশের এতো মেধাবিরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়া লেখা করে, সে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা দেশের মানুষের মধ্যে হতাশা ব্যতিত অন্য কিছুই জাগাতে পারে নি। তথাকথিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার জনক ড. ইউনূস কত সংস্কারের জন্য কত কমিশন করলেন, কত শত লক্ষ টাকার পান তামাক খেলেন কিন্তু শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কোন কমিশন করলেন না কেন? কোন জবাব নেই।
বর্তমানে দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে অচল অবস্থা চলছে। এফসিপিএস প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের সকলকে সমহারে ভাতা প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতাই এর মূল কারণ। মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা সচল রাখতে এই নবীন চিকিৎসকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। ইন্টার্ণ চিকিৎসক ব্যতিত কি কোন মেডিকেল কলেজ একদিন সচল থাকতে পারে? অথচ তাদের ভাতা বা পারিশ্রমিক নিয়ে মাঝেমধ্যে সৃষ্ট অসন্তোষে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যহত হচ্ছে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এছাড়াও চিকিৎসকদের সাথে দুর্ব্যবহার, এযেন নিত্য দিনের চর্চ্চা। চিকিৎসা প্রদানে অবহেলার অভিযোগ তুলে চিকিৎসকদের শারিরীক হেনস্তা প্রায়শ দেখা যায়। দেশের একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক মাসুদ কামাল তো তাদের চামার বলে গালমন্দ করেছেন। এতো নোংরা কথা একটা মেধাবী সম্প্রদায়কে বলা যায়? যারা দেশটা বেঁচে দিয়ে গেলো, তাদের উদ্দেশ্য এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন কি না, আমার জানা নেই...
অন্যসকল মেধাবিদের মতো চিকিৎসক নামক অতিমেধাবি এ সন্তানগুলো পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোনদের স্নেহ ও ছায়ায় বড় হয়ে উঠে। মহল্লাবাসি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ তাদের বিশেষ মর্যাদার চোখে দেখেন। তাদের ডানপিটে হয়ে উঠার তেমন সুযোগ খুবই সীমিত। প্রকৃত অর্থে এ নিরীহ ও ভদ্র মানুষরা চাকরিতে এসে নানা ধরণের অনিয়ম, অনাচার, দুর্নীতি, ফাঁকিবাজি দেখে তাদের নরম মন বিষিয়ে উঠে। অপর দিকে জোটবদ্ধ ঔষধ ব্যবসায়িদের অসৎ উদ্দেশ্য মোকাবেলা করতে হয়। এছাড়াও প্রশাসনিক হয়রানি তো তাদের নিত্য পিছনে দৌড়ায়। এমন প্রতিকূল পরিবেশে পেশাগত দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে। একটা মেধাবী সম্প্রদায়ের সীমাবদ্ধতা অনুধাবন না করে তাদের এভাবে চামার বলাটা শুধু অন্যায় বলব না, এটা অপরাধও বটে। এজন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থণা করা উচিৎ...
আমাদের দেশের চিকিৎসকদের বড় একটি অংশ নারী। তাদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে থাকার মতো অভিভাবক সমাজে অপ্রতুল। হঠাৎ করে পরিবার বিচ্যুত এসব নারী চিকিৎসকদের দূরবর্তী কর্মস্থলে বসবাসের মতো ব্যবস্থাও নেই। যখন তারা একটা সুবিধামতো স্থানে বদলি হয় তখন তারা সর্বদা বদলি আতঙ্কে থাকে।
উচ্চ মেধাবি অতি সংবেদনশীল সম্প্রদায়ের নিকট থেকে উত্তম সেবা পেতে হলে তাদের জন্য একটা প্রশাসনিক শক্ত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সেটা হতে পারে "স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষা কমিশন"। অন্যথায় দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কখনও সময়োপযোগী হবে না, হবে না মানসম্মত।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশের চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা ডানা মেলতে পারে নি। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সুবিধাসমূহ ও চিকিৎসকদের প্রাপ্য সুযোগসুবিধা কোথায় যেনো বন্ধি হয়ে আছে। যে দেশের এতো মেধাবিরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়া লেখা করে, সে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা দেশের মানুষের মধ্যে হতাশা ব্যতিত অন্য কিছুই জাগাতে পারে নি। তথাকথিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার জনক ড. ইউনূস কত সংস্কারের জন্য কত কমিশন করলেন, কত শত লক্ষ টাকার পান তামাক খেলেন কিন্তু শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কোন কমিশন করলেন না কেন? কোন জবাব নেই।
বর্তমানে দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে অচল অবস্থা চলছে। এফসিপিএস প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের সকলকে সমহারে ভাতা প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতাই এর মূল কারণ। মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা সচল রাখতে এই নবীন চিকিৎসকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। ইন্টার্ণ চিকিৎসক ব্যতিত কি কোন মেডিকেল কলেজ একদিন সচল থাকতে পারে? অথচ তাদের ভাতা বা পারিশ্রমিক নিয়ে মাঝেমধ্যে সৃষ্ট অসন্তোষে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যহত হচ্ছে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এছাড়াও চিকিৎসকদের সাথে দুর্ব্যবহার, এযেন নিত্য দিনের চর্চ্চা। চিকিৎসা প্রদানে অবহেলার অভিযোগ তুলে চিকিৎসকদের শারিরীক হেনস্তা প্রায়শ দেখা যায়। দেশের একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক মাসুদ কামাল তো তাদের চামার বলে গালমন্দ করেছেন। এতো নোংরা কথা একটা মেধাবী সম্প্রদায়কে বলা যায়? যারা দেশটা বেঁচে দিয়ে গেলো, তাদের উদ্দেশ্য এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন কি না, আমার জানা নেই...
অন্যসকল মেধাবিদের মতো চিকিৎসক নামক অতিমেধাবি এ সন্তানগুলো পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোনদের স্নেহ ও ছায়ায় বড় হয়ে উঠে। মহল্লাবাসি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ তাদের বিশেষ মর্যাদার চোখে দেখেন। তাদের ডানপিটে হয়ে উঠার তেমন সুযোগ খুবই সীমিত। প্রকৃত অর্থে এ নিরীহ ও ভদ্র মানুষরা চাকরিতে এসে নানা ধরণের অনিয়ম, অনাচার, দুর্নীতি, ফাঁকিবাজি দেখে তাদের নরম মন বিষিয়ে উঠে। অপর দিকে জোটবদ্ধ ঔষধ ব্যবসায়িদের অসৎ উদ্দেশ্য মোকাবেলা করতে হয়। এছাড়াও প্রশাসনিক হয়রানি তো তাদের নিত্য পিছনে দৌড়ায়। এমন প্রতিকূল পরিবেশে পেশাগত দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে। একটা মেধাবী সম্প্রদায়ের সীমাবদ্ধতা অনুধাবন না করে তাদের এভাবে চামার বলাটা শুধু অন্যায় বলব না, এটা অপরাধও বটে। এজন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থণা করা উচিৎ...
আমাদের দেশের চিকিৎসকদের বড় একটি অংশ নারী। তাদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে থাকার মতো অভিভাবক সমাজে অপ্রতুল। হঠাৎ করে পরিবার বিচ্যুত এসব নারী চিকিৎসকদের দূরবর্তী কর্মস্থলে বসবাসের মতো ব্যবস্থাও নেই। যখন তারা একটা সুবিধামতো স্থানে বদলি হয় তখন তারা সর্বদা বদলি আতঙ্কে থাকে।
উচ্চ মেধাবি অতি সংবেদনশীল সম্প্রদায়ের নিকট থেকে উত্তম সেবা পেতে হলে তাদের জন্য একটা প্রশাসনিক শক্ত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সেটা হতে পারে "স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষা কমিশন"। অন্যথায় দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কখনও সময়োপযোগী হবে না, হবে না মানসম্মত।

আপনার মতামত লিখুন