কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইন করা নারী ও শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি নাগরিক প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় (নোম্যান্স ল্যান্ড) মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
জানা গেছে, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ১০৬০/১-এস এবং মানকারচর ১০৬৬ সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে পৃথক দুটি দলে মোট ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্তে এনে রেখে যায় বিএসএফ। এর মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তে ৬ জন এবং মানকারচর সীমান্তে ৩ জনকে পুশইন করা হয়।
পুশইনের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির টহল দল তাদের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখে। এরপর বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
স্থানীয়রা জানান, প্রচণ্ড গরমে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করায় পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে নেওয়া বা সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিভিন্ন গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থানরত ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বংশেরকুল গ্রামের বিল্লাল হোসেন, সাব্বির হোসেন, হিমেল, সুমি আক্তার এবং বিল্লাল হোসেনের দুই কন্যা শিশু ২ বছরের ফাতেমা ও ৬ মাস বয়সী ফাহিমা।
অন্যদিকে মানকারচর সীমান্তে অবস্থানরত তিনজন হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের মো. জহিরুল (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাওতা গ্রামের মো. পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কাউছিয়া গ্রামের মো. নাঈম (২২)।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১০ জুন সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে দালালের সহায়তায় কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন তারা। পরে ভারতের গৌহাটিতে ট্রেনে থাকা অবস্থায় ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। ভারতীয় আইনে সাজা ভোগ শেষে ১৪ জুন ভোরে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিএসএফের ১৮৩ মাইনকারচর ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের সীমান্তে এনে রেখে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোনা মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ছয়জনকে গতকাল ভোর ৬টার দিকে রবিবার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি ও এলাকাবাসীর বাধার মুখে তারা সফল হয়নি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”
৩৫ বিজিবির অধীন গয়টাপাড়া বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, “রোববার ভোরে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে ছয়জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, পুশইন করা কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকেন, তবে দুই দেশের প্রচলিত প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ না করে রাতের আঁধারে একতরফাভাবে পুশ-ইন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সীমান্তে আটকে পড়া নারী, শিশু ও পুরুষদের মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইন করা নারী ও শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি নাগরিক প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় (নোম্যান্স ল্যান্ড) মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
জানা গেছে, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ১০৬০/১-এস এবং মানকারচর ১০৬৬ সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে পৃথক দুটি দলে মোট ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্তে এনে রেখে যায় বিএসএফ। এর মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তে ৬ জন এবং মানকারচর সীমান্তে ৩ জনকে পুশইন করা হয়।
পুশইনের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির টহল দল তাদের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখে। এরপর বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
স্থানীয়রা জানান, প্রচণ্ড গরমে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করায় পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে নেওয়া বা সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিভিন্ন গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থানরত ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বংশেরকুল গ্রামের বিল্লাল হোসেন, সাব্বির হোসেন, হিমেল, সুমি আক্তার এবং বিল্লাল হোসেনের দুই কন্যা শিশু ২ বছরের ফাতেমা ও ৬ মাস বয়সী ফাহিমা।
অন্যদিকে মানকারচর সীমান্তে অবস্থানরত তিনজন হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের মো. জহিরুল (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাওতা গ্রামের মো. পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কাউছিয়া গ্রামের মো. নাঈম (২২)।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১০ জুন সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে দালালের সহায়তায় কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন তারা। পরে ভারতের গৌহাটিতে ট্রেনে থাকা অবস্থায় ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। ভারতীয় আইনে সাজা ভোগ শেষে ১৪ জুন ভোরে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিএসএফের ১৮৩ মাইনকারচর ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের সীমান্তে এনে রেখে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোনা মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ছয়জনকে গতকাল ভোর ৬টার দিকে রবিবার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি ও এলাকাবাসীর বাধার মুখে তারা সফল হয়নি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”
৩৫ বিজিবির অধীন গয়টাপাড়া বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, “রোববার ভোরে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে ছয়জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, পুশইন করা কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকেন, তবে দুই দেশের প্রচলিত প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ না করে রাতের আঁধারে একতরফাভাবে পুশ-ইন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সীমান্তে আটকে পড়া নারী, শিশু ও পুরুষদের মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আপনার মতামত লিখুন