দৈনিক লাল বার্তা

চান্দাইকোনায় মহাসড়কের পাশে পশুর হাট: পুলিশি নিরাপত্তায় ছিল উৎসবমুখর বেচাকেনা



চান্দাইকোনায় মহাসড়কের পাশে পশুর হাট: পুলিশি নিরাপত্তায় ছিল উৎসবমুখর বেচাকেনা

উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সিরাজগঞ্জ জেলার বৃহত্তম পশুর হাট চান্দাইকোনায় ঈদুল আযহার  শেষ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার(২৬মে) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই হাটে হাজার হাজার গরু ও ছাগল আমদানি হয়। তীব্র গরম উপেক্ষা করেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে চলে পশুর বেচাকেনা। মহাসড়কের পাশে হাটটি অবস্থিত হওয়ায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ঈদুল আযহার শেষ হাট।

মঙ্গলবার ভোর থেকেই সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের  বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শত শত খামারি এবং সাধারণ বিক্রেতারা তাদের পালিত পশু নিয়ে চান্দাইকোনা হাটে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে হাট প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে আশেপাশের এলাকা পশুর আমদানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। হাটে ছোট, মাঝারি ও বড়—সব সাইজের গরুর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ছাগলের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। হাটে আসা  সাধারণ ক্রেতা মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, পশুর সমাগম বেশি থাকায় তারা যাচাই-বাছাই করে পছন্দের পশু কেনার সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে, আশানুরূপ দাম পেয়ে বিক্রেতা ও স্থানীয় খামারিদের মুখেও হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। শেরপুর থেকে আসা খামারি মালিক চিত্তরঞ্জন বাবু জানান, ঈদুল আযহার শেষ হাটে গরুর ভালো দাম পেয়েছেন। এজন্য তিনি অত্যন্ত খুশি।

যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে তৎপর প্রশাসন চান্দাইকোনা পশুর হাটটি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের একদম পাশে অবস্থিত হওয়ায় প্রতি হাটবারেই যানজট ও দুর্ঘটনার একটি বড় ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের হাটে সেই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মহাসড়ক সচল রাখতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে তৎপর ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রায়গঞ্জ থানা পুলিশ এবং হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশের সমন্বিত ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে হাটের দিন মহাসড়কে কোনো প্রকার যানজটের সৃষ্টি হয়নি। পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল দেওয়ার পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা পালন করেন।

তাড়াশ উপজেলার পৌসার থেকে  গরু নিয়ে আসা ভটভটিচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এবার রায়গঞ্জ থানা ও হাটিকুমরুল  হাইওয়ে পুলিশ তাদের ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন। মহাসড়কে সাধারণ মানুষ চলাচলে নিশ্ছিদ্র  নিরাপত্তা বলয় তৈরি করায় কোন উপকার দুর্ঘটনা ছাড়াই এবার ঈদের হাট শেষ হয়েছে।

ঢাকা থেকে আসা গরুর ব্যাপারী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, পকেটমার ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে পুলিশের বিশেষ নজরদারি এবং সুব্যবস্থাপনায় প্রত্যেকেই স্বাচ্ছন্দ্যে লেনদেন করতে পেরেছেন।

ইজারাদার কমিটির সভাপতি মোঃ শামসুল হক খান বলেন, গরু ছাগল আমদানিতে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। প্রচুর কেনাবেচা হয়েছে। মহাসড়কের যানবাহন চলাচল ও পথচারী চলাচলে পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক সহযোগিতা করেছে। কোন প্রকার দুর্ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্রেতা বিক্রেতারা বাড়িতে ফিরতে পেরেছেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, হাটের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইজারাদার কর্তৃপক্ষের যে ধরনের ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল তা নিয়ে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ রয়েছে। যানজট নিরসন ও পথচারীদের পারাপার নিয়ে তাদের কোন ভূমিকা ছিল এমন চিত্র দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, "হাটের অবস্থান মহাসড়কের সাথে হওয়ায় আমাদের মূল চ্যলেঞ্জ ছিল সড়কে যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা এবং হাট কেন্দ্রিক যে কোন অপরাধ সংগঠন প্রতিরোধ করে আগত ক্রেতা বিক্রেতার সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নজরদারির কারণে কোনো প্রকার দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এবারের হাটের বেচাকেনা শেষ হয়েছে।" স্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতা ও ইজারাদার হাটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


চান্দাইকোনায় মহাসড়কের পাশে পশুর হাট: পুলিশি নিরাপত্তায় ছিল উৎসবমুখর বেচাকেনা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image




উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সিরাজগঞ্জ জেলার বৃহত্তম পশুর হাট চান্দাইকোনায় ঈদুল আযহার  শেষ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার(২৬মে) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই হাটে হাজার হাজার গরু ও ছাগল আমদানি হয়। তীব্র গরম উপেক্ষা করেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে চলে পশুর বেচাকেনা। মহাসড়কের পাশে হাটটি অবস্থিত হওয়ায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ঈদুল আযহার শেষ হাট।



মঙ্গলবার ভোর থেকেই সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের  বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শত শত খামারি এবং সাধারণ বিক্রেতারা তাদের পালিত পশু নিয়ে চান্দাইকোনা হাটে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে হাট প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে আশেপাশের এলাকা পশুর আমদানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। হাটে ছোট, মাঝারি ও বড়—সব সাইজের গরুর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ছাগলের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। হাটে আসা  সাধারণ ক্রেতা মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, পশুর সমাগম বেশি থাকায় তারা যাচাই-বাছাই করে পছন্দের পশু কেনার সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে, আশানুরূপ দাম পেয়ে বিক্রেতা ও স্থানীয় খামারিদের মুখেও হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। শেরপুর থেকে আসা খামারি মালিক চিত্তরঞ্জন বাবু জানান, ঈদুল আযহার শেষ হাটে গরুর ভালো দাম পেয়েছেন। এজন্য তিনি অত্যন্ত খুশি।


যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে তৎপর প্রশাসন চান্দাইকোনা পশুর হাটটি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের একদম পাশে অবস্থিত হওয়ায় প্রতি হাটবারেই যানজট ও দুর্ঘটনার একটি বড় ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের হাটে সেই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মহাসড়ক সচল রাখতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে তৎপর ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রায়গঞ্জ থানা পুলিশ এবং হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশের সমন্বিত ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে হাটের দিন মহাসড়কে কোনো প্রকার যানজটের সৃষ্টি হয়নি। পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল দেওয়ার পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা পালন করেন।

তাড়াশ উপজেলার পৌসার থেকে  গরু নিয়ে আসা ভটভটিচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এবার রায়গঞ্জ থানা ও হাটিকুমরুল  হাইওয়ে পুলিশ তাদের ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন। মহাসড়কে সাধারণ মানুষ চলাচলে নিশ্ছিদ্র  নিরাপত্তা বলয় তৈরি করায় কোন উপকার দুর্ঘটনা ছাড়াই এবার ঈদের হাট শেষ হয়েছে।


ঢাকা থেকে আসা গরুর ব্যাপারী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, পকেটমার ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে পুলিশের বিশেষ নজরদারি এবং সুব্যবস্থাপনায় প্রত্যেকেই স্বাচ্ছন্দ্যে লেনদেন করতে পেরেছেন।



ইজারাদার কমিটির সভাপতি মোঃ শামসুল হক খান বলেন, গরু ছাগল আমদানিতে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। প্রচুর কেনাবেচা হয়েছে। মহাসড়কের যানবাহন চলাচল ও পথচারী চলাচলে পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক সহযোগিতা করেছে। কোন প্রকার দুর্ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্রেতা বিক্রেতারা বাড়িতে ফিরতে পেরেছেন।


তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, হাটের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইজারাদার কর্তৃপক্ষের যে ধরনের ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল তা নিয়ে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ রয়েছে। যানজট নিরসন ও পথচারীদের পারাপার নিয়ে তাদের কোন ভূমিকা ছিল এমন চিত্র দেখা যায়নি।


এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, "হাটের অবস্থান মহাসড়কের সাথে হওয়ায় আমাদের মূল চ্যলেঞ্জ ছিল সড়কে যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা এবং হাট কেন্দ্রিক যে কোন অপরাধ সংগঠন প্রতিরোধ করে আগত ক্রেতা বিক্রেতার সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নজরদারির কারণে কোনো প্রকার দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এবারের হাটের বেচাকেনা শেষ হয়েছে।" স্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতা ও ইজারাদার হাটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা