দৈনিক লাল বার্তা

করতোয়া নদীর হাজির ঘাটে একটি ব্রিজের অপেক্ষা: থমকে আছে ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য ও সামাজিক সম্পর্ক।



করতোয়া নদীর হাজির ঘাটে একটি ব্রিজের অপেক্ষা: থমকে আছে ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য ও সামাজিক সম্পর্ক।

এক পাশে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়ন, অন্য পাশে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট পৌরসভার সীমানা। মাঝখানে প্রবহমান করতোয়া নদী। এই দুই জেলার কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন জরাজীর্ণ একটি নৌকা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ব্রিজের আশ্বাস শোনা গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন না ঘটায় চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগে দিন কাটছে স্থানীয়দের। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ও ঘোড়াঘাট উপজেলার প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৩০ হাজার মানুষের চলাচলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু এই ‘হাজির ঘাট’। নৌকা পারাপারের সময় জটলায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের। বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। নৌকা পারাপারে দেরি হওয়ার কারণে অনেক সময় যথাসময়ে ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না তারা। যাতায়াত ব্যবস্থার এই বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন মুমূর্ষু রোগীরা। নদী পারাপারের ভোগান্তির ভয়ে অনেক সময় ভালো ডাক্তার বা ফার্মাসিস্ট এই এলাকায় আসতে চান না। এর প্রভাব পড়ছে সামাজিক সম্পর্কের ওপরও। স্থানীয়রা জানান, যাতায়াতের চরম কষ্টের কারণে এই এলাকার ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে অনীহা প্রকাশ করেন বাইরের আত্মীয়রা। কাশিয়াবাড়ী এলাকার নাম শুনলে যাতায়াত সমস্যার অজুহাতে অনেক সময় বিয়ের প্রস্তাব ও ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। করতোয়া নদীর এই ঘাটটি ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ। দৈনন্দিন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ঘোড়াঘাট বাজারে আসা লাগে কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের। পাশাপাশি এ ইউনিয়নের কৃষকদের তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে ঘোড়াঘাট বাজারে যেতে হয়। কিন্তু ব্রিজের অভাবে রবিশস্য সবজি ও কৃষি পণ্য পারাপারে অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে। জরাজীর্ণ নৌকা দিয়ে পণ্যবাহী যানবাহন তোলা ও নামানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে এই ঘাট থেকে পড়ে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, তবুও প্রশাসনের টনক নড়ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। নদী ভাঙনের ফলে দুই পাড়ের রাস্তাঘাটও সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। জরাজীর্ণ নৌকায় যাত্রী ও মালামাল ধারণক্ষমতার বেশি তোলায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা কাজ করে। সচেতন মহল মনে করছেন, হাজির ঘাটে দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে দুই জেলার মানুষের যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে এপার ও ওপারের স্থানীয় মানুষ রংপুর মেডিকেল কলেজসহ সদরে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে দ্রুত পৌঁছাতে পারবে। এতে সাশ্রয় হবে সময় এবং অর্থ। জনগণের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী হাজারো মানুষ। এবিষয়ে পৌর প্রশাসক ও সহকারি ভূমি কমিশনার জানান যে উর্ধোতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, দ্রত প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


করতোয়া নদীর হাজির ঘাটে একটি ব্রিজের অপেক্ষা: থমকে আছে ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য ও সামাজিক সম্পর্ক।

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image



এক পাশে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়ন, অন্য পাশে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট পৌরসভার সীমানা। মাঝখানে প্রবহমান করতোয়া নদী। এই দুই জেলার কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন জরাজীর্ণ একটি নৌকা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ব্রিজের আশ্বাস শোনা গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন না ঘটায় চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগে দিন কাটছে স্থানীয়দের। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ও ঘোড়াঘাট উপজেলার প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৩০ হাজার মানুষের চলাচলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু এই ‘হাজির ঘাট’। নৌকা পারাপারের সময় জটলায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের। বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। নৌকা পারাপারে দেরি হওয়ার কারণে অনেক সময় যথাসময়ে ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না তারা। যাতায়াত ব্যবস্থার এই বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন মুমূর্ষু রোগীরা। নদী পারাপারের ভোগান্তির ভয়ে অনেক সময় ভালো ডাক্তার বা ফার্মাসিস্ট এই এলাকায় আসতে চান না। এর প্রভাব পড়ছে সামাজিক সম্পর্কের ওপরও। স্থানীয়রা জানান, যাতায়াতের চরম কষ্টের কারণে এই এলাকার ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে অনীহা প্রকাশ করেন বাইরের আত্মীয়রা। কাশিয়াবাড়ী এলাকার নাম শুনলে যাতায়াত সমস্যার অজুহাতে অনেক সময় বিয়ের প্রস্তাব ও ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। করতোয়া নদীর এই ঘাটটি ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ। দৈনন্দিন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ঘোড়াঘাট বাজারে আসা লাগে কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের। পাশাপাশি এ ইউনিয়নের কৃষকদের তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে ঘোড়াঘাট বাজারে যেতে হয়। কিন্তু ব্রিজের অভাবে রবিশস্য সবজি ও কৃষি পণ্য পারাপারে অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে। জরাজীর্ণ নৌকা দিয়ে পণ্যবাহী যানবাহন তোলা ও নামানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে এই ঘাট থেকে পড়ে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, তবুও প্রশাসনের টনক নড়ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। নদী ভাঙনের ফলে দুই পাড়ের রাস্তাঘাটও সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। জরাজীর্ণ নৌকায় যাত্রী ও মালামাল ধারণক্ষমতার বেশি তোলায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা কাজ করে। সচেতন মহল মনে করছেন, হাজির ঘাটে দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে দুই জেলার মানুষের যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে এপার ও ওপারের স্থানীয় মানুষ রংপুর মেডিকেল কলেজসহ সদরে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে দ্রুত পৌঁছাতে পারবে। এতে সাশ্রয় হবে সময় এবং অর্থ। জনগণের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী হাজারো মানুষ। এবিষয়ে পৌর প্রশাসক ও সহকারি ভূমি কমিশনার জানান যে উর্ধোতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, দ্রত প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহন করা হবে।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা