দৈনিক লাল বার্তা

বর্ষার জলে ফিরেছে দেশীয় মাছ ধরার ঐতিহ্য



বর্ষার জলে ফিরেছে দেশীয় মাছ ধরার ঐতিহ্য

বর্ষাকালের মাঝামাঝি আষাঢ় মাসে টানা বৃষ্টিতে খাল-বিল,নদী-নালা ও মাঠ পানিতে ভরে উঠেছে।আর বর্ষার এই পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ ধরার প্রাচীন উপকরণ চাঁই বা খলশানির চাহিদা। তবে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় এ উপকরণ ‘ধিয়াল’ বা ‘দারকি’ নামে বেশি পরিচিত।

সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক সলঙ্গা হাটসহ থানার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন ধিয়াল-খলশানি বিক্রির ধুম পড়েছে।বর্ষার পানি যত বাড়ছে,ধিয়াল-খলশানির বিক্রিও তত বাড়ছে।

আজ সোমবার সলঙ্গা হাট ঘুরে দেখা যায়,বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারা পছন্দমতো ধিয়াল-খলশানি দরদাম করে কিনছেন।অনেক পরিবারই বাঁশ দিয়ে এসব মাছ ধরার ফাঁদ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আকারভেদে প্রতিটি ধিয়াল-খলশানি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সলঙ্গা ছাড়াও নলকা,সাহেবগঞ্জ, ভুইয়াগাঁতী,ঘুড়কা,পাঁচলিয়া ও উনুখা হাটে নিয়মিত এসব ধিয়াল-খলশানি বিক্রি হয়।

সলঙ্গা হাটে ধিয়াল-খলশানি বিক্রি করতে আসা ধুবিল কাটার মহল,কালিবাড়ি ও মালতিনগর গ্রামের কারিগর পরিমল চন্দ্র,বাসুদেব,নিজাম ও জফের আলী জানান,বাঁশ দিয়ে ধিয়াল-খলশানি তৈরি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ।পরিবারের নারীদের সহযোগীতা ছাড়া এ কাজ করা সম্ভব নয়। গৃহস্থালির কাজের ফাঁকে নারীরা এসব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।প্রতি সপ্তাহে তারা পাঁচ থেকে ছয়টি ধিয়াল-খলশানি তৈরি করেন।

কারিগরদের অভিযোগ,প্রচুর পরিশ্রমের তুলনায় তারা আশানুরূপ দাম পান না তারা।এ ছাড়া কৃষিজমিতে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় ছোট মাছের সংখ্যা কমে গেছে।ফলে আগের মতো ধিয়াল-খলশানির চাহিদাও আর নেই।

থানার বওলাতলা গ্রামের কৃষক জসমত আলী জানান,খাল-বিল ও মাঠে মাছ ধরার জন্য তিনি ৩৫০ টাকা করে তিনটি ধিয়াল-খলশানি কিনেছেন।এসব ধিয়ালে পুঁটি,মোয়া,চিংড়ি,দাড়কিয়া ও ছোট কৈসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ ধরা পড়ে।

গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ধিয়াল-খলশানি এখনও বর্ষা মৌসুমে অনেক মানুষের আয়ের উৎস এবং দেশীয় মাছ ধরার অন্যতম কার্যকর উপকরণ হলেও পরিবেশগত পরিবর্তন ও মাছের সংকটের কারণে এ প্রাচীন পেশা এখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


বর্ষার জলে ফিরেছে দেশীয় মাছ ধরার ঐতিহ্য

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image



বর্ষাকালের মাঝামাঝি আষাঢ় মাসে টানা বৃষ্টিতে খাল-বিল,নদী-নালা ও মাঠ পানিতে ভরে উঠেছে।আর বর্ষার এই পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ ধরার প্রাচীন উপকরণ চাঁই বা খলশানির চাহিদা। তবে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় এ উপকরণ ‘ধিয়াল’ বা ‘দারকি’ নামে বেশি পরিচিত।

সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক সলঙ্গা হাটসহ থানার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন ধিয়াল-খলশানি বিক্রির ধুম পড়েছে।বর্ষার পানি যত বাড়ছে,ধিয়াল-খলশানির বিক্রিও তত বাড়ছে।

আজ সোমবার সলঙ্গা হাট ঘুরে দেখা যায়,বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারা পছন্দমতো ধিয়াল-খলশানি দরদাম করে কিনছেন।অনেক পরিবারই বাঁশ দিয়ে এসব মাছ ধরার ফাঁদ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আকারভেদে প্রতিটি ধিয়াল-খলশানি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সলঙ্গা ছাড়াও নলকা,সাহেবগঞ্জ, ভুইয়াগাঁতী,ঘুড়কা,পাঁচলিয়া ও উনুখা হাটে নিয়মিত এসব ধিয়াল-খলশানি বিক্রি হয়।

সলঙ্গা হাটে ধিয়াল-খলশানি বিক্রি করতে আসা ধুবিল কাটার মহল,কালিবাড়ি ও মালতিনগর গ্রামের কারিগর পরিমল চন্দ্র,বাসুদেব,নিজাম ও জফের আলী জানান,বাঁশ দিয়ে ধিয়াল-খলশানি তৈরি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ।পরিবারের নারীদের সহযোগীতা ছাড়া এ কাজ করা সম্ভব নয়। গৃহস্থালির কাজের ফাঁকে নারীরা এসব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।প্রতি সপ্তাহে তারা পাঁচ থেকে ছয়টি ধিয়াল-খলশানি তৈরি করেন।

কারিগরদের অভিযোগ,প্রচুর পরিশ্রমের তুলনায় তারা আশানুরূপ দাম পান না তারা।এ ছাড়া কৃষিজমিতে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় ছোট মাছের সংখ্যা কমে গেছে।ফলে আগের মতো ধিয়াল-খলশানির চাহিদাও আর নেই।

থানার বওলাতলা গ্রামের কৃষক জসমত আলী জানান,খাল-বিল ও মাঠে মাছ ধরার জন্য তিনি ৩৫০ টাকা করে তিনটি ধিয়াল-খলশানি কিনেছেন।এসব ধিয়ালে পুঁটি,মোয়া,চিংড়ি,দাড়কিয়া ও ছোট কৈসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ ধরা পড়ে।

গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ধিয়াল-খলশানি এখনও বর্ষা মৌসুমে অনেক মানুষের আয়ের উৎস এবং দেশীয় মাছ ধরার অন্যতম কার্যকর উপকরণ হলেও পরিবেশগত পরিবর্তন ও মাছের সংকটের কারণে এ প্রাচীন পেশা এখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা