দৈনিক লাল বার্তা

বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে রায়গঞ্জ পৌর বাজার: জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ



বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে রায়গঞ্জ পৌর বাজার: জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

দীর্ঘ দুই দশক অতিবাহিত হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ পৌরসভার বয়স। ইতিমধ্যে পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণী মর্যাদা লাভ করেছে। কিন্তু এখনো রায়গঞ্জ পৌরবাসী পায়নি কাঙ্ক্ষিত সেবা। রায়গঞ্জ পৌরসভার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ধানগড়া বাজার, রায়গঞ্জ বাজার, পূর্বলক্ষীখোলা বাজারসহ উপজেলা পরিষদ চত্ব্বর পাশের রাস্তা লোডশেডিংয়ের সময় পর্যাপ্ত বিকল্প আলোকসজ্জা না থাকায় চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

 রায়গঞ্জ পৌর এলাকার প্রধান বাজারগুলোতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথেই নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার, যার ফলে একদিকে যেমন বেচাকেনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে চুরির ছিনতাই এর ঝুঁকি। তবে পৌর প্রশাসক দাবি করেছেন কিছু কিছু জায়গায় আলোর ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা ও জনজীবনে প্রভাব রায়গঞ্জ পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাজারগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে যে, সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে অধিকাংশ দোকানেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে না।

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় হঠাৎ অন্ধকারে ক্রেতারা অস্বস্তিতে পড়েন। অনেক সময় দোকানগুলোতে অন্ধকার থাকায় ক্রেতারা ভেতরে ঢুকতে আগ্রহী হন না, ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। জনসাধারণের দাবি ও প্রত্যাশা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়ে বেশ কিছু দাবি উঠে এসেছে।

ধুনট উপজেলার কুড়িগাতী গ্রাম থেকে বাজারে আসা আব্দুল খালেক বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারনে ঘুটঘুটে অন্ধকারে পকেটমার ও ছোটখাটো চুরির উপদ্রব বেড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য এই অন্ধকার পরিবেশে চলাফেরা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অটো ভ্যান চালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, বাজারের সংযোগ সড়কগুলো ভাঙাচোরা হওয়ায় অন্ধকারে রিকশা বা ভ্যান চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী শাহিনুল ইসলাম বলেন, হাতেগোনা কয়েকটি বড় শোরুমে আইপিএস থাকলেও সাধারণ খুচরা দোকানদাররা মোমবাতি বা টর্চের ওপর নির্ভরশীল, যা বড় বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়।

ধানগড়া এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, বিগত সময়ে কিছু সোলার লাইট এর মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করলেও বর্তমানে তা অকেজ অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে সাধারণ মানুষ পথচারী হাটবাজারে আসা লোকজনের মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধানগড়া বাজারের বিশিষ্ট এক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন যাবত পৌরসভার মেয়র না থাকায় দায়িত্বে থাকা প্রশাসক অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হাত দিচ্ছেন না। এর ফলে পৌরসভার মানুষ অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন,পৌরসভার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও বাজারগুলোতে শক্তিশালী সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা প্রয়োজন। পূর্ব লক্ষীখোলা এলাকার 

আব্দুল করিম বলেন,লোডশেডিং চলাকালীন অন্ধকার সময়ে বাজারে পুলিশ বা আনসার সদস্যদের বিশেষ টহলের ব্যবস্থা করা হলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা সংক্রামুক্ত থাকতেন।

রায়গঞ্জ বাজারের কম্পিউটার দোকানদার সামিদুল ইসলাম বলেন,অহেতুক লোডশেডিং কমিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো দরকার।

রায়গঞ্জ উপজেলা সদর ধানগড়া মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক  আবুল কালাম আজাদ বলেন, আইপিএস সাপোর্টের মাধ্যমে বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল রাখা দরকার । যাতে অন্ধকারের সুযোগে কোনো অপরাধ না ঘটে।

রায়গঞ্জ পৌর বাজারগুলো অত্র অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। এখানকার ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্ধকার নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। পৌর কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ বিভাগ সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা চুরির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ আব্দুল খালেক পাটোয়ারীর সাথে যোগাযোগ করা হলো তিনি বলেন, পৌরসভাটি আর্থিক সংকটে রয়েছে। এমনকি পৌরসভায় যারা কর্মরত আছেন তাদের বেতন ভাতাদির সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তারপরও কিছু কিছু স্থানে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।  

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে রায়গঞ্জ পৌর বাজার: জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image


দীর্ঘ দুই দশক অতিবাহিত হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ পৌরসভার বয়স। ইতিমধ্যে পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণী মর্যাদা লাভ করেছে। কিন্তু এখনো রায়গঞ্জ পৌরবাসী পায়নি কাঙ্ক্ষিত সেবা। রায়গঞ্জ পৌরসভার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ধানগড়া বাজার, রায়গঞ্জ বাজার, পূর্বলক্ষীখোলা বাজারসহ উপজেলা পরিষদ চত্ব্বর পাশের রাস্তা লোডশেডিংয়ের সময় পর্যাপ্ত বিকল্প আলোকসজ্জা না থাকায় চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

 রায়গঞ্জ পৌর এলাকার প্রধান বাজারগুলোতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথেই নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার, যার ফলে একদিকে যেমন বেচাকেনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে চুরির ছিনতাই এর ঝুঁকি। তবে পৌর প্রশাসক দাবি করেছেন কিছু কিছু জায়গায় আলোর ব্যবস্থা রয়েছে।


বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা ও জনজীবনে প্রভাব রায়গঞ্জ পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাজারগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে যে, সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে অধিকাংশ দোকানেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে না।

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় হঠাৎ অন্ধকারে ক্রেতারা অস্বস্তিতে পড়েন। অনেক সময় দোকানগুলোতে অন্ধকার থাকায় ক্রেতারা ভেতরে ঢুকতে আগ্রহী হন না, ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। জনসাধারণের দাবি ও প্রত্যাশা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়ে বেশ কিছু দাবি উঠে এসেছে।


ধুনট উপজেলার কুড়িগাতী গ্রাম থেকে বাজারে আসা আব্দুল খালেক বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারনে ঘুটঘুটে অন্ধকারে পকেটমার ও ছোটখাটো চুরির উপদ্রব বেড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য এই অন্ধকার পরিবেশে চলাফেরা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


অটো ভ্যান চালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, বাজারের সংযোগ সড়কগুলো ভাঙাচোরা হওয়ায় অন্ধকারে রিকশা বা ভ্যান চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী শাহিনুল ইসলাম বলেন, হাতেগোনা কয়েকটি বড় শোরুমে আইপিএস থাকলেও সাধারণ খুচরা দোকানদাররা মোমবাতি বা টর্চের ওপর নির্ভরশীল, যা বড় বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়।


ধানগড়া এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, বিগত সময়ে কিছু সোলার লাইট এর মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করলেও বর্তমানে তা অকেজ অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে সাধারণ মানুষ পথচারী হাটবাজারে আসা লোকজনের মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধানগড়া বাজারের বিশিষ্ট এক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন যাবত পৌরসভার মেয়র না থাকায় দায়িত্বে থাকা প্রশাসক অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হাত দিচ্ছেন না। এর ফলে পৌরসভার মানুষ অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


রায়গঞ্জ উপজেলা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন,পৌরসভার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও বাজারগুলোতে শক্তিশালী সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা প্রয়োজন। পূর্ব লক্ষীখোলা এলাকার 

আব্দুল করিম বলেন,লোডশেডিং চলাকালীন অন্ধকার সময়ে বাজারে পুলিশ বা আনসার সদস্যদের বিশেষ টহলের ব্যবস্থা করা হলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা সংক্রামুক্ত থাকতেন।


রায়গঞ্জ বাজারের কম্পিউটার দোকানদার সামিদুল ইসলাম বলেন,অহেতুক লোডশেডিং কমিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো দরকার।


রায়গঞ্জ উপজেলা সদর ধানগড়া মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক  আবুল কালাম আজাদ বলেন, আইপিএস সাপোর্টের মাধ্যমে বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল রাখা দরকার । যাতে অন্ধকারের সুযোগে কোনো অপরাধ না ঘটে।


রায়গঞ্জ পৌর বাজারগুলো অত্র অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। এখানকার ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্ধকার নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। পৌর কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ বিভাগ সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা চুরির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ আব্দুল খালেক পাটোয়ারীর সাথে যোগাযোগ করা হলো তিনি বলেন, পৌরসভাটি আর্থিক সংকটে রয়েছে। এমনকি পৌরসভায় যারা কর্মরত আছেন তাদের বেতন ভাতাদির সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তারপরও কিছু কিছু স্থানে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।  



দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা