সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া চরঘুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে দেখা গেছে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত বুধবার(৭ অক্টোবর) সকাল সারে ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে অফিসকক্ষে বসে আছেন। অন্যদিকে, প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এ সময় শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও কেন একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে, তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক চিকিৎসাজনিত ছুটিতে রয়েছেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। কোনো সমস্যা বা দুর্ঘটনা ঘটলে কে দায়িত্ব পালন করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনজন শিক্ষক মিলে বিষয়টি দেখবেন।
প্রধান শিক্ষকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোন নম্বর চাইলে তা দিতেও দিতে পারবেন না জানান তিনি। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের ছুটির বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি জানানোর প্রয়োজন মনে করেন না।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তিনটি শ্রেণির পাঠদানের জন্য তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। তবে শিক্ষক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে প্রথম শ্রেণির পাঠদান করানোর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়টির লেখাপড়ার মান সন্তোষজনক নয়। শিক্ষকেরা নিয়মিত সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন না এবং বিদ্যালয়ে এলেও ঠিকমতো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করান না। তাঁরা বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রধান শিক্ষক কোনো কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য লিখিত বা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার পরও অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীকে দিয়ে পাঠদান করানো হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া চরঘুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে দেখা গেছে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত বুধবার(৭ অক্টোবর) সকাল সারে ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে অফিসকক্ষে বসে আছেন। অন্যদিকে, প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এ সময় শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও কেন একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে, তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক চিকিৎসাজনিত ছুটিতে রয়েছেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। কোনো সমস্যা বা দুর্ঘটনা ঘটলে কে দায়িত্ব পালন করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনজন শিক্ষক মিলে বিষয়টি দেখবেন।
প্রধান শিক্ষকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোন নম্বর চাইলে তা দিতেও দিতে পারবেন না জানান তিনি। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের ছুটির বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি জানানোর প্রয়োজন মনে করেন না।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তিনটি শ্রেণির পাঠদানের জন্য তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। তবে শিক্ষক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে প্রথম শ্রেণির পাঠদান করানোর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়টির লেখাপড়ার মান সন্তোষজনক নয়। শিক্ষকেরা নিয়মিত সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন না এবং বিদ্যালয়ে এলেও ঠিকমতো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করান না। তাঁরা বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রধান শিক্ষক কোনো কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য লিখিত বা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার পরও অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীকে দিয়ে পাঠদান করানো হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন