দৈনিক লাল বার্তা

২’শ ৫০ থেকে ৩’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে হাতপাখা



২’শ ৫০ থেকে ৩’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে হাতপাখা

২’শ ৫০ থেকে ৩’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা। ডিজাইন সমৃদ্ধ গুণগতমান ও টেকসই পাখাগুলোর দাম একটু বেশি। পাখা শিল্পীদের মতে ৭, ৯, ১১, ১৩ তারি হিসেবে প্রকারভেদে বিবেচনা হয়। যতটি বেতের বর্ডার পাখাতে সংযুক্ত হয়, সেটি তত তারি পাখা হিসেবে চিহ্নিত হয়। লালদীঘির মেলা, বিভিন্ন বৈশাখী মেলা, বলিখেলা, গরুর লড়াই, হাট-বাজার ইত্যাদিতে বিপুল পরিমাণ হাতপাখা বিক্রি হয় চৈত্র-বৈশাখ মাসে। বছর ব্যাপী এ হাতপাখার চাহিদা রয়েছে। কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে হাতপাখা কিনে নিয়ে যায় চন্দনাইশের জিহস ফকির পাড়া থেকে। পাখা শিল্পীদের কয়েকজন জানালেন, বাংলাদেশ কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জিহস ফকির পাড়ায় তৈরি হাতপাখা নিয়মিত চীন, কোরিয়া ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে বাজার সৃষ্টি করার লক্ষ্যে। তবে অনেক আগে থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান ও দুবাইতে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ হাতপাখা রপ্তানি হয়। সরকারিভাবে এ পাখা শিল্পীদের কোনরকম প্রশিক্ষণ বা ঋণ সুবিধা নেই বলে অভিযোগ করেছেন তারা। সরকারিভাবে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কোন পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি এ পর্যন্ত। এলাকার সচেতন মহল এ শিল্পকে আরো সমৃদ্ধশালী করতে সরকারিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন। জিহস ফকির পাড়ার ৭২ বছরের মমতাজ মিয়া ও ৬৭ বছরের আলী হোসেন জানালেন, তারা পূর্ব পুরুষের স্মৃতি ধরে রাখতে এখনোও হাত পাখা তৈরি করে যাচ্ছেন। লাভ কমে যাওয়ায় দিন দিন এ ব্যবসা থেকে সরে পড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে অনেকে। সরকারীভাবে এ শিল্পকে ধরে রাখতে সহজ শর্তে ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতা পেলে এ শিল্পের কদর দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাবে। যুগের পরিবর্তনের কারণে এখন হাতপাখার শোভা পাচ্ছে ধর্নাঢ্য ব্যক্তিদের ডয়িং রুমে ও দর্শনীয় স্থানে। হারিয়ে যাচ্ছে বাঙ্গালী জাতির ঐতিহ্য। এ শিল্পকে ধরে রাখতে সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


২’শ ৫০ থেকে ৩’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে হাতপাখা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image



২’শ ৫০ থেকে ৩’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা। ডিজাইন সমৃদ্ধ গুণগতমান ও টেকসই পাখাগুলোর দাম একটু বেশি। পাখা শিল্পীদের মতে ৭, ৯, ১১, ১৩ তারি হিসেবে প্রকারভেদে বিবেচনা হয়। যতটি বেতের বর্ডার পাখাতে সংযুক্ত হয়, সেটি তত তারি পাখা হিসেবে চিহ্নিত হয়। লালদীঘির মেলা, বিভিন্ন বৈশাখী মেলা, বলিখেলা, গরুর লড়াই, হাট-বাজার ইত্যাদিতে বিপুল পরিমাণ হাতপাখা বিক্রি হয় চৈত্র-বৈশাখ মাসে। বছর ব্যাপী এ হাতপাখার চাহিদা রয়েছে। কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে হাতপাখা কিনে নিয়ে যায় চন্দনাইশের জিহস ফকির পাড়া থেকে। পাখা শিল্পীদের কয়েকজন জানালেন, বাংলাদেশ কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জিহস ফকির পাড়ায় তৈরি হাতপাখা নিয়মিত চীন, কোরিয়া ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে বাজার সৃষ্টি করার লক্ষ্যে। তবে অনেক আগে থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান ও দুবাইতে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ হাতপাখা রপ্তানি হয়। সরকারিভাবে এ পাখা শিল্পীদের কোনরকম প্রশিক্ষণ বা ঋণ সুবিধা নেই বলে অভিযোগ করেছেন তারা। সরকারিভাবে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কোন পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি এ পর্যন্ত। এলাকার সচেতন মহল এ শিল্পকে আরো সমৃদ্ধশালী করতে সরকারিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন। জিহস ফকির পাড়ার ৭২ বছরের মমতাজ মিয়া ও ৬৭ বছরের আলী হোসেন জানালেন, তারা পূর্ব পুরুষের স্মৃতি ধরে রাখতে এখনোও হাত পাখা তৈরি করে যাচ্ছেন। লাভ কমে যাওয়ায় দিন দিন এ ব্যবসা থেকে সরে পড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে অনেকে। সরকারীভাবে এ শিল্পকে ধরে রাখতে সহজ শর্তে ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতা পেলে এ শিল্পের কদর দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাবে। যুগের পরিবর্তনের কারণে এখন হাতপাখার শোভা পাচ্ছে ধর্নাঢ্য ব্যক্তিদের ডয়িং রুমে ও দর্শনীয় স্থানে। হারিয়ে যাচ্ছে বাঙ্গালী জাতির ঐতিহ্য। এ শিল্পকে ধরে রাখতে সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। 


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা