আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহীতে এখন পুরোদমে চলছে আমের মৌসুম। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, আড়ত ও আমবাগানে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষি, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় খুশি চাষিরা।
রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, তানোর, গোদাগাড়ী ও মোহনপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম চলছে। গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও ফজলি জাতের আম নিয়ে আড়তগুলোতে প্রতিদিন ভিড় করছেন পাইকারি ক্রেতারা।
চাষিরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। বাজারে দামও তুলনামূলক ভালো থাকায় তারা আশাবাদী। বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে দ্রুত আড়তে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।প্রথম দিকে ক্রেতা সংকট থাকলেও ভরা মৌসুমে আমের ত্রেতা যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন আম ব্যবসায়ীরা।
আম ব্যবসায়ী রনি বলেন, “প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা আসছেন। এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে আম বিক্রিও বেড়েছে। রাজশাহীর আমের প্রতি মানুষের আস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি।”
এদিকে নিরাপদ ও মানসম্মত আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে রাজশাহীর আম নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, রাজশাহীর আম দেশের অন্যতম সেরা ফল হিসেবে পরিচিত।আম ক্যালেন্ডার ঘোষনার ফলে ভোক্তা নিরাপদ ও মানসম্মত আম খেতে পারছে। ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল ছাড়া আম উৎপাদনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন সুবিধা উন্নত হওয়ায় কৃষকরা আগের তুলনায় বেশি লাভবান হচ্ছেন।
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন আরোও জানান, এ পর্যন্ত আমাদের লক্ষমাত্রার প্রায় ৫৮% বাজারজাত করন হয়েছে। এ বছর আম মৌসুমে প্রায় ৭৮০ কোটি টাকা লক্ষমাত্রা নির্ধারিত থাকলেও প্রায় ৯০০ কোটি টাকা লেনদেন হবে ।মৌসুমজুড়ে আমের ভালো উৎপাদন ও চাহিদা থাকায় রাজশাহীর অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চাষি ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এই বেচাকেনার ধারা অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমকেন্দ্রিক এই মৌসুমি ব্যবসার সঙ্গে হাজারো মানুষ জড়িত। বাগান শ্রমিক, পরিবহন কর্মী, আড়তদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগারের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে রাজশাহীর আমের বাজার।
চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে চাহিদা অব্যাহত থাকলে রাজশাহীর আম শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহীতে এখন পুরোদমে চলছে আমের মৌসুম। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, আড়ত ও আমবাগানে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষি, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় খুশি চাষিরা।
রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, তানোর, গোদাগাড়ী ও মোহনপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম চলছে। গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও ফজলি জাতের আম নিয়ে আড়তগুলোতে প্রতিদিন ভিড় করছেন পাইকারি ক্রেতারা।
চাষিরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। বাজারে দামও তুলনামূলক ভালো থাকায় তারা আশাবাদী। বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে দ্রুত আড়তে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।প্রথম দিকে ক্রেতা সংকট থাকলেও ভরা মৌসুমে আমের ত্রেতা যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন আম ব্যবসায়ীরা।
আম ব্যবসায়ী রনি বলেন, “প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা আসছেন। এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে আম বিক্রিও বেড়েছে। রাজশাহীর আমের প্রতি মানুষের আস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি।”
এদিকে নিরাপদ ও মানসম্মত আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে রাজশাহীর আম নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, রাজশাহীর আম দেশের অন্যতম সেরা ফল হিসেবে পরিচিত।আম ক্যালেন্ডার ঘোষনার ফলে ভোক্তা নিরাপদ ও মানসম্মত আম খেতে পারছে। ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল ছাড়া আম উৎপাদনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন সুবিধা উন্নত হওয়ায় কৃষকরা আগের তুলনায় বেশি লাভবান হচ্ছেন।
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন আরোও জানান, এ পর্যন্ত আমাদের লক্ষমাত্রার প্রায় ৫৮% বাজারজাত করন হয়েছে। এ বছর আম মৌসুমে প্রায় ৭৮০ কোটি টাকা লক্ষমাত্রা নির্ধারিত থাকলেও প্রায় ৯০০ কোটি টাকা লেনদেন হবে ।মৌসুমজুড়ে আমের ভালো উৎপাদন ও চাহিদা থাকায় রাজশাহীর অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চাষি ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এই বেচাকেনার ধারা অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমকেন্দ্রিক এই মৌসুমি ব্যবসার সঙ্গে হাজারো মানুষ জড়িত। বাগান শ্রমিক, পরিবহন কর্মী, আড়তদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগারের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে রাজশাহীর আমের বাজার।
চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে চাহিদা অব্যাহত থাকলে রাজশাহীর আম শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন