সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। খরিপ মৌসুমের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভাতা হিসেবে প্রত্যেক কৃষকের পাওনা ২ হাজার ৮০০ টাকার বিপরীতে মাত্র ২ হাজার টাকা প্রদান করায় স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার পৌরসভার দাশেরপাড়া আইপিএম (ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট) কৃষক মাঠ স্কুলে পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ শেষে অংশ গ্রহণকারী প্রত্যেক কৃষকের জন্য ২ হাজার ৮০০ টাকা ভাতা নির্ধারিত ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, তাদের হাতে মাত্র ২ হাজার টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৮০০ টাকা করে কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কৃষক চান মিয়া, মুসলিম উদ্দিন ও রেজাউল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি বরাদ্দের পুরো টাকা আমরা পাইনি। বারবার কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেও বাকি ৮০০ টাকা পাওয়ার কোনো সুরাহা হয়নি। আমাদের প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে তৎকালীন দাপ্তরিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানীর দিকে আঙুল তুলেছেন অনেকেই। অভিযোগের বিষয়ে গোলাম রব্বানী জানান, “বিষয়টি নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। আমি কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারবো।”
সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, “সমিতির রেজুলেশন অনুযায়ী অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা ছিল। সেই টাকা গোলাম রব্বানীর কাছে রাখা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।”
ঘটনার বিষয়ে বর্তমান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুমিনুল ইসলাম বলেন, “যোগদানের পর বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। তবে বিষয়টি যেহেতু গুরুতর, তাই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের পাওনা অর্থ পরিশোধের বিষয়টিও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হবে।”
সরকারি প্রকল্পের অর্থ নয়-ছয়ের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। খরিপ মৌসুমের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভাতা হিসেবে প্রত্যেক কৃষকের পাওনা ২ হাজার ৮০০ টাকার বিপরীতে মাত্র ২ হাজার টাকা প্রদান করায় স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার পৌরসভার দাশেরপাড়া আইপিএম (ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট) কৃষক মাঠ স্কুলে পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ শেষে অংশ গ্রহণকারী প্রত্যেক কৃষকের জন্য ২ হাজার ৮০০ টাকা ভাতা নির্ধারিত ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, তাদের হাতে মাত্র ২ হাজার টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৮০০ টাকা করে কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কৃষক চান মিয়া, মুসলিম উদ্দিন ও রেজাউল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি বরাদ্দের পুরো টাকা আমরা পাইনি। বারবার কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেও বাকি ৮০০ টাকা পাওয়ার কোনো সুরাহা হয়নি। আমাদের প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে তৎকালীন দাপ্তরিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানীর দিকে আঙুল তুলেছেন অনেকেই। অভিযোগের বিষয়ে গোলাম রব্বানী জানান, “বিষয়টি নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। আমি কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারবো।”
সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, “সমিতির রেজুলেশন অনুযায়ী অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা ছিল। সেই টাকা গোলাম রব্বানীর কাছে রাখা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।”
ঘটনার বিষয়ে বর্তমান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুমিনুল ইসলাম বলেন, “যোগদানের পর বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। তবে বিষয়টি যেহেতু গুরুতর, তাই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের পাওনা অর্থ পরিশোধের বিষয়টিও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হবে।”
সরকারি প্রকল্পের অর্থ নয়-ছয়ের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন