দৈনিক লাল বার্তা

রায়গঞ্জে নষ্ট হয়ে গেছে অর্ধ শতাধিক বিঘা জমির ধান: কৃষকের মাথায় হাত



রায়গঞ্জে নষ্ট হয়ে গেছে অর্ধ শতাধিক বিঘা জমির ধান: কৃষকের মাথায় হাত

সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক বিঘা জমির ধান।

যে সময়ে কৃষকের গোলায় ধান ওঠার কথা, সেই সময়ে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে এখন কেবল হাহাকার আর পোড়া ধানের গন্ধ। এমনই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের খামারগাতী গ্রামে। এলাকায় লামিয়া হাই চয়েস ব্রিকস নামে গড়ে ওঠা ইটভাটার নির্গত মাত্রাতিরিক্ত তাপ ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে

অর্ধশতাধিক বিঘা জমির আধাপাকা ও পাকা ধান। তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্ন চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অসংখ্য প্রান্তিক কৃষক।

সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা যায়, লামিয়া হাইচয়েস ব্রিকস নামক একটি ইটভাটার  উত্তর পাশে কৃষি জমিগুলোর ধান সাদাটে অথবা লালচে  হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে ইটভাটার চিমনি দিয়ে অস্বাভাবিক উচ্চতাপে ধোঁয়া ও গ্যাস নির্গত হচ্ছে।

বিশেষ করে রাতে এবং ভোরে যখন বাতাসের প্রবাহ একমুখী থাকে, তখন আগুনের তাপে ধানগাছগুলো ঝলসে যাচ্ছে।

কৃষক আজের আলী, নজরুল ইসলাম, কামাল হোসেন, বেল্লাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম ও ফজর আলী বলেন, "আর মাত্র ১০-১৫ দিন গেলেই ধান ঘরে তুলতাম। কিন্তু ইটভাটার আগুনের তাপে এবং দূষিত গ্যাসের কারণে রাতেই সব ধান  সাদা হয়ে গেছে। এখন ধানগাছে কোনো চাল নেই, শুধু চিটা পড়ে আছে।"

প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী আক্রান্ত জমির পরিমাণ প্রায় শতাধিক বিঘা। আর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় তিনশত জনেরও বেশি। সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক কয়েক লক্ষ টাকা লক্ষ টাকা। কেবল ধানই নয়, আশেপাশের আম ও অন্যান্য ফলদ গাছের মুকুল ও কচি পাতা ঝরে যাচ্ছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি এই ইটভাটাটি লোকালয় ও আবাদি জমির একদম কাছে হওয়ায় এটি দীর্ঘকাল ধরেই চাষাবাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কৃষিজমির নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইট ভাটার ম্যানেজার বাবুল হোসেন বলেন, ইটভাটার তাপ অথবা গ্যাসে ধানের কোন ক্ষতি হয়নি। বৈরী আবহাওয়া এবং পোকার আক্রমণে এরকম হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

সর্বশেষে কৃষকরা এখন ক্ষতিপূরণের দাবিতে এবং এই অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে  স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন । তাদের দাবি, অবিলম্বে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে এই এলাকায় কোনো আবাদ করা সম্ভব হবে না। জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন এই অঞ্চলের অসহায় কৃষকদের একমাত্র ভরসা।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মমিনুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ   পাইনি। তবে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পরে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে জমির ফসল নষ্ট হওয়ার চিত্র দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল খালেক পাটোয়ারী সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


রায়গঞ্জে নষ্ট হয়ে গেছে অর্ধ শতাধিক বিঘা জমির ধান: কৃষকের মাথায় হাত

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image


সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক বিঘা জমির ধান।

যে সময়ে কৃষকের গোলায় ধান ওঠার কথা, সেই সময়ে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে এখন কেবল হাহাকার আর পোড়া ধানের গন্ধ। এমনই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের খামারগাতী গ্রামে। এলাকায় লামিয়া হাই চয়েস ব্রিকস নামে গড়ে ওঠা ইটভাটার নির্গত মাত্রাতিরিক্ত তাপ ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে

অর্ধশতাধিক বিঘা জমির আধাপাকা ও পাকা ধান। তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্ন চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অসংখ্য প্রান্তিক কৃষক।


সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা যায়, লামিয়া হাইচয়েস ব্রিকস নামক একটি ইটভাটার  উত্তর পাশে কৃষি জমিগুলোর ধান সাদাটে অথবা লালচে  হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে ইটভাটার চিমনি দিয়ে অস্বাভাবিক উচ্চতাপে ধোঁয়া ও গ্যাস নির্গত হচ্ছে।

বিশেষ করে রাতে এবং ভোরে যখন বাতাসের প্রবাহ একমুখী থাকে, তখন আগুনের তাপে ধানগাছগুলো ঝলসে যাচ্ছে।


কৃষক আজের আলী, নজরুল ইসলাম, কামাল হোসেন, বেল্লাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম ও ফজর আলী বলেন, "আর মাত্র ১০-১৫ দিন গেলেই ধান ঘরে তুলতাম। কিন্তু ইটভাটার আগুনের তাপে এবং দূষিত গ্যাসের কারণে রাতেই সব ধান  সাদা হয়ে গেছে। এখন ধানগাছে কোনো চাল নেই, শুধু চিটা পড়ে আছে।"


প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী আক্রান্ত জমির পরিমাণ প্রায় শতাধিক বিঘা। আর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় তিনশত জনেরও বেশি। সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক কয়েক লক্ষ টাকা লক্ষ টাকা। কেবল ধানই নয়, আশেপাশের আম ও অন্যান্য ফলদ গাছের মুকুল ও কচি পাতা ঝরে যাচ্ছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।


স্থানীয়দের দাবি এই ইটভাটাটি লোকালয় ও আবাদি জমির একদম কাছে হওয়ায় এটি দীর্ঘকাল ধরেই চাষাবাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কৃষিজমির নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইট ভাটার ম্যানেজার বাবুল হোসেন বলেন, ইটভাটার তাপ অথবা গ্যাসে ধানের কোন ক্ষতি হয়নি। বৈরী আবহাওয়া এবং পোকার আক্রমণে এরকম হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।


সর্বশেষে কৃষকরা এখন ক্ষতিপূরণের দাবিতে এবং এই অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে  স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন । তাদের দাবি, অবিলম্বে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে এই এলাকায় কোনো আবাদ করা সম্ভব হবে না। জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন এই অঞ্চলের অসহায় কৃষকদের একমাত্র ভরসা।


এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মমিনুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ   পাইনি। তবে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পরে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে জমির ফসল নষ্ট হওয়ার চিত্র দেখা গেছে।


এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল খালেক পাটোয়ারী সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা