যমুনা নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠা একটি ব্যস্ততম বানিজ্যিক শহর সিরাজগঞ্জ। জেলা সদর হওয়ায় প্রতিদিনই নানা প্রয়োজনে উপজেলা এবং গ্রাম থেকে শহরে আসে শত শত মানুষ। পাশাপাশি শহরেও বসবাস করে প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ। শহরে বসবাসরত সাধারন মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্তের জন্য ২০২১ সালে পুরো শহরকে উচ্চ রেজুলেশন সম্পূর্ণ ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনে জেলা পুলিশ। শহরের ৬৫ টি পয়েন্টে ১০০ টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। যা পর্যবেক্ষণ করা হত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মনিটরিং সেল থেকে। তবে ক্যামেরা স্থাপনের ৩ থেকে ৪ বছরেই বিকল ও খোয়া গেছে প্রায় সবগুলো ক্যামেরাই। শহরবাসী বলছে, ক্যামেরা সচল না থাকায় সেই সুযোগ নিচ্ছে অপরাধ চক্র। যা সিরাজগঞ্জ শহরকে অনিরাপদ করে তুলছে।তই সংশ্লিষ্টদের দাবি,শহরের মানুষদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে, সিরাজগঞ্জ শহরকে ফের ক্যামেরার সিসিটিভির আওতায় আনা হোক।তবে জেলা পুলিশ বলছে, সিসি ক্যামেরা সচল ও পুনঃস্থাপনে কাজ করছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকমাস পূর্বে শহরের চৌরাস্তা বাহিরগোলা এলাকায় দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে আব্দুল রহমান রিয়াদ নামে এক কিশোরকে।এছাড়াও প্রতিনিয়ত ইভটিজিংয়ের পাশপাশি পাড়া মহল্লায়, বসত বাড়ীতে ঘটছে ছোট-বড় চুরি, ছিনতাইসহ নানা ঘটনা।তবে ব্যক্তিগত সিসি ক্যামেরায় কিছু অপরাধ শনাক্ত করা গেলেও অধিকাংশ অপরাধীই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে। এসকল ঘটনায় উদ্বিগ্ন শহরের বসবাসরত বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও বিভিন্ন পয়েন্টে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা থাকলে শনাক্ত হবার ভয়েই কমবে অপরাধের প্রবণতা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল রানা বলেন,সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে গেলে অনেকটা দূ’চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়।কখন না জানি দোকানে চুরি হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্তের জন্য পুরো সিরাজগঞ্জ শহরকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনা হলেও নিয়মিত তদারকি আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন হলো বিকল হয়ে পড়ে আছে এসব ক্যামেরা।
আসলাম উদ্দিন নামে আরো এক ব্যবসায়ী জানা, নিরাপত্তার স্বার্থে লাগানো এসব ক্যামেরা পৌরবাসী ও ব্যবসায়ীর কোন কাজে আসছে না। যার কারণে সিরাজগঞ্জ শহরে বেড়েছে অপরাধ প্রবনতা। ঘটছে মারামারি, চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ নানা ঘটনা।তাই সিসিটিভি ক্যামেরা আবারো পুনঃস্থাপন চাই।
শহরের বাহিরগোলা রোডের বাসিন্দা জাকিরুল ইসলাম সান্টু বলেন কয়েক মাস পূর্বে এই শহরের বাহিরগোলা রোডে দিনে দুপুরে কিশোর গ্যাংরা এক শিক্ষার্থীকে ছুরিঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।হত্যাকান্ডটি ব্যক্তিগত সিসিটিভির ক্যামেরায় পুরো দৃশ্যটি ধরা পড়ায় সহজেই আসামীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।এরকম ঘটনা মাঝে মাঝে বিভিন্ন স্থানে ঘটলেও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় তা উঠে আসছে না।তাই পুরো শহরকে আবারও সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, অপরাধ দমনের জন্য সিরাজগঞ্জ শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে আনা হয়েছিলো কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেগুলো আজ বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে । সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে ইভটিজিংকারী, চুরি, ছিনতাই ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধীকে সহজেই সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া যায়। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য এই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই পুরো শহরকে আবারো এই সিসিটিভি ক্যামেরা আওতায় নিয়ে আসার জন্য দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, স্বাভাবিকভাবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) থাকা মানে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ এবং আমাদের জন্য অপরাধ চিহ্নিত করা সহজ। ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে সহজেই চুরি,ছিনতাইসহ সকল অপরাধ ও আসামীদের সনাক্ত করতে সহজ হয়। তাই সিসিটিভি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুপূর্ণ।বিভিন্ন কারণে ক্যামেরাগুলো বিকল হয়ে গেছে।তাই বিকলকৃত ক্যামেরাগুলোকে আবার কিভাবে সচল করা যায় এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
যমুনা নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠা একটি ব্যস্ততম বানিজ্যিক শহর সিরাজগঞ্জ। জেলা সদর হওয়ায় প্রতিদিনই নানা প্রয়োজনে উপজেলা এবং গ্রাম থেকে শহরে আসে শত শত মানুষ। পাশাপাশি শহরেও বসবাস করে প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ। শহরে বসবাসরত সাধারন মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্তের জন্য ২০২১ সালে পুরো শহরকে উচ্চ রেজুলেশন সম্পূর্ণ ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনে জেলা পুলিশ। শহরের ৬৫ টি পয়েন্টে ১০০ টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। যা পর্যবেক্ষণ করা হত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মনিটরিং সেল থেকে। তবে ক্যামেরা স্থাপনের ৩ থেকে ৪ বছরেই বিকল ও খোয়া গেছে প্রায় সবগুলো ক্যামেরাই। শহরবাসী বলছে, ক্যামেরা সচল না থাকায় সেই সুযোগ নিচ্ছে অপরাধ চক্র। যা সিরাজগঞ্জ শহরকে অনিরাপদ করে তুলছে।তই সংশ্লিষ্টদের দাবি,শহরের মানুষদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে, সিরাজগঞ্জ শহরকে ফের ক্যামেরার সিসিটিভির আওতায় আনা হোক।তবে জেলা পুলিশ বলছে, সিসি ক্যামেরা সচল ও পুনঃস্থাপনে কাজ করছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকমাস পূর্বে শহরের চৌরাস্তা বাহিরগোলা এলাকায় দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে আব্দুল রহমান রিয়াদ নামে এক কিশোরকে।এছাড়াও প্রতিনিয়ত ইভটিজিংয়ের পাশপাশি পাড়া মহল্লায়, বসত বাড়ীতে ঘটছে ছোট-বড় চুরি, ছিনতাইসহ নানা ঘটনা।তবে ব্যক্তিগত সিসি ক্যামেরায় কিছু অপরাধ শনাক্ত করা গেলেও অধিকাংশ অপরাধীই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে। এসকল ঘটনায় উদ্বিগ্ন শহরের বসবাসরত বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও বিভিন্ন পয়েন্টে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা থাকলে শনাক্ত হবার ভয়েই কমবে অপরাধের প্রবণতা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল রানা বলেন,সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে গেলে অনেকটা দূ’চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়।কখন না জানি দোকানে চুরি হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্তের জন্য পুরো সিরাজগঞ্জ শহরকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনা হলেও নিয়মিত তদারকি আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন হলো বিকল হয়ে পড়ে আছে এসব ক্যামেরা।
আসলাম উদ্দিন নামে আরো এক ব্যবসায়ী জানা, নিরাপত্তার স্বার্থে লাগানো এসব ক্যামেরা পৌরবাসী ও ব্যবসায়ীর কোন কাজে আসছে না। যার কারণে সিরাজগঞ্জ শহরে বেড়েছে অপরাধ প্রবনতা। ঘটছে মারামারি, চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ নানা ঘটনা।তাই সিসিটিভি ক্যামেরা আবারো পুনঃস্থাপন চাই।
শহরের বাহিরগোলা রোডের বাসিন্দা জাকিরুল ইসলাম সান্টু বলেন কয়েক মাস পূর্বে এই শহরের বাহিরগোলা রোডে দিনে দুপুরে কিশোর গ্যাংরা এক শিক্ষার্থীকে ছুরিঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।হত্যাকান্ডটি ব্যক্তিগত সিসিটিভির ক্যামেরায় পুরো দৃশ্যটি ধরা পড়ায় সহজেই আসামীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।এরকম ঘটনা মাঝে মাঝে বিভিন্ন স্থানে ঘটলেও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় তা উঠে আসছে না।তাই পুরো শহরকে আবারও সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, অপরাধ দমনের জন্য সিরাজগঞ্জ শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে আনা হয়েছিলো কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেগুলো আজ বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে । সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে ইভটিজিংকারী, চুরি, ছিনতাই ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধীকে সহজেই সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া যায়। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য এই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই পুরো শহরকে আবারো এই সিসিটিভি ক্যামেরা আওতায় নিয়ে আসার জন্য দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, স্বাভাবিকভাবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) থাকা মানে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ এবং আমাদের জন্য অপরাধ চিহ্নিত করা সহজ। ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে সহজেই চুরি,ছিনতাইসহ সকল অপরাধ ও আসামীদের সনাক্ত করতে সহজ হয়। তাই সিসিটিভি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুপূর্ণ।বিভিন্ন কারণে ক্যামেরাগুলো বিকল হয়ে গেছে।তাই বিকলকৃত ক্যামেরাগুলোকে আবার কিভাবে সচল করা যায় এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন