দৈনিক লাল বার্তা

শিক্ষার্থীদের দিয়ে অমানবিক কাজ: এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা



শিক্ষার্থীদের দিয়ে অমানবিক কাজ: এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুরা বি এম হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসা’র প্রধান শিক্ষক হাফেজ মো. শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোরপূর্বক শরীরের বিভিন্ন অংশ টিপিয়ে নেওয়া ও চুল তোলানোসহ নানা অনৈতিক কাজ করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রধান শিক্ষক শিহাব উদ্দিন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে এমন অমানবিক কাজ করিয়ে আসছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা তার নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হচ্ছে, যা নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

জানা গেছে, এর আগেও একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রধান শিক্ষকের আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

 সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা এবং পরে তাকে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই পরিবার ও একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন একের পর এক অনৈতিক ঘটনার অভিযোগ ওঠায় মাদ্রাসার সামগ্রিক নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক শিহাব উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলেও বর্তমানে তাকে পুনরায় মাদ্রাসায় পুনর্বহাল করার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এমন খবরে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী চরম আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, কোনোভাবেই অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে যেন পুনরায় নিয়োগ দেওয়া না হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, "মাদ্রাসায় সন্তানদের নিরাপদে শিক্ষা গ্রহণের জন্য পাঠাই। কিন্তু সেখানে শিক্ষকদের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


শিক্ষার্থীদের দিয়ে অমানবিক কাজ: এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image




সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুরা বি এম হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসা’র প্রধান শিক্ষক হাফেজ মো. শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোরপূর্বক শরীরের বিভিন্ন অংশ টিপিয়ে নেওয়া ও চুল তোলানোসহ নানা অনৈতিক কাজ করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রধান শিক্ষক শিহাব উদ্দিন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে এমন অমানবিক কাজ করিয়ে আসছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা তার নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হচ্ছে, যা নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।


জানা গেছে, এর আগেও একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রধান শিক্ষকের আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

 সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা এবং পরে তাকে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই পরিবার ও একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন একের পর এক অনৈতিক ঘটনার অভিযোগ ওঠায় মাদ্রাসার সামগ্রিক নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক শিহাব উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলেও বর্তমানে তাকে পুনরায় মাদ্রাসায় পুনর্বহাল করার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এমন খবরে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী চরম আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, কোনোভাবেই অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে যেন পুনরায় নিয়োগ দেওয়া না হয়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, "মাদ্রাসায় সন্তানদের নিরাপদে শিক্ষা গ্রহণের জন্য পাঠাই। কিন্তু সেখানে শিক্ষকদের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"


এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা