সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার নীতির পরিপন্থী হওয়ায় পূর্বের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়, যার ফলে সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষার ব্যয়ভার কমাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জানান, মূলত অর্থ বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রাথমিকভাবে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমানে বাতিল করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান রয়েছে এবং এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক দ্রুত বিস্তারিত অবহিত করবেন।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে চলমান মিড-ডে মিল কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা খাতে পরিবারের ব্যয় কমিয়ে আনাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং অভিভাবকদের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকার কারণ দেখিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির জন্য ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ টাকা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করেছিল। গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, বরাদ্দ সংকটের কারণে আপাতত সরকারিভাবে পরীক্ষার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ফি নেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এই সমস্যা থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই ফি আদায়ের সিদ্ধান্তকে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হওয়ার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেন। গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত প্রচলিত শিক্ষা আইনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সরকার তার অবস্থান পরিবর্তন করে ফি না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার নীতির পরিপন্থী হওয়ায় পূর্বের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়, যার ফলে সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষার ব্যয়ভার কমাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জানান, মূলত অর্থ বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রাথমিকভাবে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমানে বাতিল করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান রয়েছে এবং এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক দ্রুত বিস্তারিত অবহিত করবেন।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে চলমান মিড-ডে মিল কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা খাতে পরিবারের ব্যয় কমিয়ে আনাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং অভিভাবকদের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকার কারণ দেখিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির জন্য ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ টাকা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করেছিল। গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, বরাদ্দ সংকটের কারণে আপাতত সরকারিভাবে পরীক্ষার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ফি নেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এই সমস্যা থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই ফি আদায়ের সিদ্ধান্তকে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হওয়ার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেন। গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত প্রচলিত শিক্ষা আইনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সরকার তার অবস্থান পরিবর্তন করে ফি না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।

আপনার মতামত লিখুন