দৈনিক লাল বার্তা

চলনবিলে বোয়াল নিধন: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দেশি প্রজাতির মাছ



চলনবিলে বোয়াল নিধন: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দেশি প্রজাতির মাছ

বর্ষার আগমনে চলনবিল এখন থই থই পানি। বৃষ্টির নতুন জলে প্লাবিত ফসলের মাঠগুলোতে প্রজননের জন্য আশ্রয় নিয়েছে দেশি প্রজাতির ‘পীর বোয়াল’সহ নানা জাতের মাছ। কিন্তু প্রকৃতির এই স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি মেতে উঠেছে ডিমওয়ালা মাছ নিধনের উৎসবে। নির্বিচারে পীর বোয়াল শিকারের ফলে চলনবিলে মৎস্য সম্পদের ভারসাম্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলনবিলের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ ও ডুবো জমিতে বৃষ্টির নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে পীর বোয়াল মাছগুলো ডিম ছাড়ার জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে। এই সুযোগে স্থানীয় কিছু অসাধু মৎস্যজীবী ও শৌখিন শিকারিরা কারেন্ট জাল, ফাঁদ এবং বিষ প্রয়োগের মতো বিধ্বংসী পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব মাছ ধরছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, মাছ ধরার এই অসাধু চক্রটি সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দলবদ্ধভাবে মাঠে নেমে পড়ছে। তারা ডিমওয়ালা মা মাছগুলোকে কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়ে নির্বিচারে শিকার করছে। এতে একদিকে যেমন মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে জলজ পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় মৎস্য চাষি ও পরিবেশকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পীর বোয়াল প্রজননের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা উচিত। এভাবে যদি মা মাছ নিধন চলতেই থাকে, তবে অদূর ভবিষ্যতে চলনবিল থেকে পীর বোয়ালসহ বিভিন্ন দেশি মাছ চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো নাসির উদ্দিন জানান, “প্রজনন মৌসুমে মা মাছ নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছি। তবে চলনবিলের মতো এত বিশাল এলাকায় জনসচেতনতা ছাড়া শতভাগ তদারকি করা কঠিন। অসাধু চক্রকে ধরতে আমরা শীঘ্রই বিশেষ টহল জোরদার করব।”

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, চলনবিলের প্রতিটি প্রবেশপথ ও মাছ ধরার আড়তগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়াতে। একইসঙ্গে পরিবেশের এই বিপর্যয় রোধে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিং ও উঠান বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

প্রকৃতির অকৃপণ দানে ভরপুর চলনবিলকে রক্ষা করতে এবং দেশি মাছের বংশধারা টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


চলনবিলে বোয়াল নিধন: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দেশি প্রজাতির মাছ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image




বর্ষার আগমনে চলনবিল এখন থই থই পানি। বৃষ্টির নতুন জলে প্লাবিত ফসলের মাঠগুলোতে প্রজননের জন্য আশ্রয় নিয়েছে দেশি প্রজাতির ‘পীর বোয়াল’সহ নানা জাতের মাছ। কিন্তু প্রকৃতির এই স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি মেতে উঠেছে ডিমওয়ালা মাছ নিধনের উৎসবে। নির্বিচারে পীর বোয়াল শিকারের ফলে চলনবিলে মৎস্য সম্পদের ভারসাম্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, চলনবিলের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ ও ডুবো জমিতে বৃষ্টির নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে পীর বোয়াল মাছগুলো ডিম ছাড়ার জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে। এই সুযোগে স্থানীয় কিছু অসাধু মৎস্যজীবী ও শৌখিন শিকারিরা কারেন্ট জাল, ফাঁদ এবং বিষ প্রয়োগের মতো বিধ্বংসী পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব মাছ ধরছে।


স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, মাছ ধরার এই অসাধু চক্রটি সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দলবদ্ধভাবে মাঠে নেমে পড়ছে। তারা ডিমওয়ালা মা মাছগুলোকে কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়ে নির্বিচারে শিকার করছে। এতে একদিকে যেমন মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে জলজ পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে।


এ বিষয়ে স্থানীয় মৎস্য চাষি ও পরিবেশকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পীর বোয়াল প্রজননের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা উচিত। এভাবে যদি মা মাছ নিধন চলতেই থাকে, তবে অদূর ভবিষ্যতে চলনবিল থেকে পীর বোয়ালসহ বিভিন্ন দেশি মাছ চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।


বিষয়টি নিয়ে কথা হলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো নাসির উদ্দিন জানান, “প্রজনন মৌসুমে মা মাছ নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছি। তবে চলনবিলের মতো এত বিশাল এলাকায় জনসচেতনতা ছাড়া শতভাগ তদারকি করা কঠিন। অসাধু চক্রকে ধরতে আমরা শীঘ্রই বিশেষ টহল জোরদার করব।”


স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, চলনবিলের প্রতিটি প্রবেশপথ ও মাছ ধরার আড়তগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়াতে। একইসঙ্গে পরিবেশের এই বিপর্যয় রোধে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিং ও উঠান বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


প্রকৃতির অকৃপণ দানে ভরপুর চলনবিলকে রক্ষা করতে এবং দেশি মাছের বংশধারা টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই এখন সময়ের দাবি।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা