দৈনিক লাল বার্তা

ধানকাটা মহাউৎসবে মেতেছে চলনবিলের কৃষক



ধানকাটা মহাউৎসবে মেতেছে চলনবিলের কৃষক

সাব্বির মির্জা।। 

সোনালি পাকা ধানের গন্ধে মুখরিত চলনবিলের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে। রাতের আধার পেরিয়ে ভোর হলেই কৃষকরা দলবদ্ধ হয়ে পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত হয়ে পরে।

সূর্য গড়িয়ে পশ্চিম আকাশে অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত চলে ধান কাটা, বহন ও মারাইয়ের কাজ। শ্রমিকদের সারিবদ্ধ হয়ে ধান কাটার এমনই দৃশ্য দেখা মিলে চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- মাঠ জুড়ে ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-৫৮, ব্রিধান-৭৪, ব্রিধান-৮৯সহ উন্নত জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। হাতে কাস্তে মাথায় গামছা বেধে গুন গুন গান গাওয়ার ছলে এবং মুখে উলু ধ্বনি দিয়ে ধান কাটছে কৃষকরা।

প্রখর রোদে ধান কাটার মাঝেও তাদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দের উৎসব। দিন শেষে মাথায় ধানের বোঝা নিয়ে লম্বা লাইনে বাড়ি ফিরে কৃষকরা। কেন না তাদের স্বপ্নের সোনালি ধান যাচ্ছে বাড়ি।

চলনবিলের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় এবছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ধানের ফলন ভালো হলেও বাজার দর কম হওয়ায় কিছুটা হতাশায় রয়েছে কৃষকরা। তারা যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন কৃষকরা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মওসুমে এ বছর ২২ হাজার ৫শত ১০হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৪হাজার ৫১০ মেট্রিক টন।

কৃষক জাহিদ , মালেকও কবির হোসেন বলেন, গত বছর বিঘাতে ২২-২৪ মণ হারে ধানের ফলন হয়েছিল। পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় এবং সময়মতো ভর্তুকি মূল্যে সার ও বীজ পাওয়ায় এ বছর ফলন ২৫-৩০ মণ হারে হয়েছে। তবে গত বছরের চেয়ে এবার জমি লিজের মূল্য বেছে বিঘাপ্রতি ৩-৫ হাজার টাকা ও শ্রমিকের মূল্য বেড়েছে ১০০-১৫০ টাকা। গড়ে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, এ বছর পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এবং সময়মতো কৃষকরা ভর্তুকি মূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ পাওয়ায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিসের মাধ্যমে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাড়াশে ১শতাংশ জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে সব ধান কাটা হয়ে যাবে এবং আশা করছি কৃষক এবার ভালো লাভবান হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


ধানকাটা মহাউৎসবে মেতেছে চলনবিলের কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image



সাব্বির মির্জা।। 

সোনালি পাকা ধানের গন্ধে মুখরিত চলনবিলের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে। রাতের আধার পেরিয়ে ভোর হলেই কৃষকরা দলবদ্ধ হয়ে পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত হয়ে পরে।

সূর্য গড়িয়ে পশ্চিম আকাশে অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত চলে ধান কাটা, বহন ও মারাইয়ের কাজ। শ্রমিকদের সারিবদ্ধ হয়ে ধান কাটার এমনই দৃশ্য দেখা মিলে চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে।



সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- মাঠ জুড়ে ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-৫৮, ব্রিধান-৭৪, ব্রিধান-৮৯সহ উন্নত জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। হাতে কাস্তে মাথায় গামছা বেধে গুন গুন গান গাওয়ার ছলে এবং মুখে উলু ধ্বনি দিয়ে ধান কাটছে কৃষকরা।


প্রখর রোদে ধান কাটার মাঝেও তাদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দের উৎসব। দিন শেষে মাথায় ধানের বোঝা নিয়ে লম্বা লাইনে বাড়ি ফিরে কৃষকরা। কেন না তাদের স্বপ্নের সোনালি ধান যাচ্ছে বাড়ি।


চলনবিলের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় এবছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ধানের ফলন ভালো হলেও বাজার দর কম হওয়ায় কিছুটা হতাশায় রয়েছে কৃষকরা। তারা যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন কৃষকরা।


কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মওসুমে এ বছর ২২ হাজার ৫শত ১০হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৪হাজার ৫১০ মেট্রিক টন।


কৃষক জাহিদ , মালেকও কবির হোসেন বলেন, গত বছর বিঘাতে ২২-২৪ মণ হারে ধানের ফলন হয়েছিল। পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় এবং সময়মতো ভর্তুকি মূল্যে সার ও বীজ পাওয়ায় এ বছর ফলন ২৫-৩০ মণ হারে হয়েছে। তবে গত বছরের চেয়ে এবার জমি লিজের মূল্য বেছে বিঘাপ্রতি ৩-৫ হাজার টাকা ও শ্রমিকের মূল্য বেড়েছে ১০০-১৫০ টাকা। গড়ে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।


তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, এ বছর পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এবং সময়মতো কৃষকরা ভর্তুকি মূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ পাওয়ায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিসের মাধ্যমে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাড়াশে ১শতাংশ জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে সব ধান কাটা হয়ে যাবে এবং আশা করছি কৃষক এবার ভালো লাভবান হবে।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা