দৈনিক লাল বার্তা

আলমপুর সড়ক এখন কসাইখানা: প্রশাসনের উদাসীনতায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে



আলমপুর সড়ক এখন কসাইখানা: প্রশাসনের উদাসীনতায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

সিরাজগঞ্জের অন্যতম ব্যস্ততম কাঠেরপুল-রায়গঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের আলমপুর অংশটি এখন কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন প্রকাশ্য দিবালোকে প্রধান সড়কের ওপর পশু জবাই এবং রক্ত-বর্জ্য ফেলে রাখায় হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ পথচারী ও যানবাহন আরোহীরা। অবাক করার বিষয় হলো, এই সড়ক দিয়েই প্রতিনিয়ত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যাতায়াত করলেও বিষয়টি যেন তাদের চোখেই পড়ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের এমন চরম উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় কসাইরা।

সোমবার ভোরে (১জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলমপুর বাজারের পাশে আঞ্চলিক সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে প্রতিদিন সকাল থেকেই শুরু হয় পশু জবাইয়ের ধুম। পশুর রক্ত, চামড়া, নাড়িভুঁড়ি ও বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে সড়কের ওপর এবং পার্শ্ববর্তী খালেক। এতে করে পুরো এলাকায় এক তীব্র ও অসহনীয় দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বাতাসে এই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত যানবাহন চলাচল করে। রাস্তায় রক্ত ও পশুর বর্জ্য জমে থাকায় পথচারীদের কাপড় নষ্ট হচ্ছে, আর মোটরসাইকেল  বা  অটোরিকশা   ভ্যান যাওয়ার সময় নোংরা পানি ছিটকে শরীরে লাগছে।

আব্দুর রহমান নামে স্থানীয় এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাস্তা দিয়ে হাঁটার কোনো পরিবেশ নেই। নাকে রুমাল দিয়েও দুর্গন্ধ ঠেকানো যায় না। পশুর রক্ত আর নোংরা মাড়িয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এটা কোনো সভ্য সমাজের  চিত্র হতে পারে না।"

স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় ক্ষোভের জায়গাটি হলো প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। আলমপুরের বাসিন্দাদের দাবি, এই সড়কটি দিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তারা নিয়মিত যাতায়াত করেন। তাদের গাড়ির চাকা এই রক্ত আর বর্জ্য মাড়িয়েই চলে। অথচ আজ পর্যন্ত এই অবৈধ কসাইখানার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এমন চিত্র চোখে পড়েনি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে কসাইরা এক ধরণের 'সবুজ সংকেত' হিসেবে ধরে নিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জরুরি সড়কের ওপর এভাবে পশু জবাই করায় শুধু পরিবেশ দূষণই হচ্ছে না, বরং পশুর বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে নানা রকম জীবাণু, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সড়কের ওপর পশু জবাই বন্ধ করে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে কসাইখানা স্থানান্তর করা হোক। একই সাথে, জনস্বার্থ রক্ষায় এবং সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, কে কোথায় কসাইখানা করেছে সেটি তাদের দেখার বিষয় নয়। তাদের দায়িত্ব হল জবাইকৃত গরু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা। তবে জবাইকৃত গরুগুলো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রোকনুজ্জামান এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোন রিসিভ করলেও তিনি বারবার কেটে দেওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ  সড়ক ও জনপথ বিভাগের  নির্বাহী প্রকৌশলী  মোঃ ইমরান ফারহান সুমেল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পথচারী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করে রাস্তাকে কসাইখানা হিসেবে ব্যবহার করা হবে এমন সুযোগ দেয়া হবে না। খুব শীঘ্রই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


আলমপুর সড়ক এখন কসাইখানা: প্রশাসনের উদাসীনতায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image




সিরাজগঞ্জের অন্যতম ব্যস্ততম কাঠেরপুল-রায়গঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের আলমপুর অংশটি এখন কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন প্রকাশ্য দিবালোকে প্রধান সড়কের ওপর পশু জবাই এবং রক্ত-বর্জ্য ফেলে রাখায় হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ পথচারী ও যানবাহন আরোহীরা। অবাক করার বিষয় হলো, এই সড়ক দিয়েই প্রতিনিয়ত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যাতায়াত করলেও বিষয়টি যেন তাদের চোখেই পড়ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের এমন চরম উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় কসাইরা।



সোমবার ভোরে (১জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলমপুর বাজারের পাশে আঞ্চলিক সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে প্রতিদিন সকাল থেকেই শুরু হয় পশু জবাইয়ের ধুম। পশুর রক্ত, চামড়া, নাড়িভুঁড়ি ও বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে সড়কের ওপর এবং পার্শ্ববর্তী খালেক। এতে করে পুরো এলাকায় এক তীব্র ও অসহনীয় দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বাতাসে এই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।



ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত যানবাহন চলাচল করে। রাস্তায় রক্ত ও পশুর বর্জ্য জমে থাকায় পথচারীদের কাপড় নষ্ট হচ্ছে, আর মোটরসাইকেল  বা  অটোরিকশা   ভ্যান যাওয়ার সময় নোংরা পানি ছিটকে শরীরে লাগছে।

আব্দুর রহমান নামে স্থানীয় এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাস্তা দিয়ে হাঁটার কোনো পরিবেশ নেই। নাকে রুমাল দিয়েও দুর্গন্ধ ঠেকানো যায় না। পশুর রক্ত আর নোংরা মাড়িয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এটা কোনো সভ্য সমাজের  চিত্র হতে পারে না।"



স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় ক্ষোভের জায়গাটি হলো প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। আলমপুরের বাসিন্দাদের দাবি, এই সড়কটি দিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তারা নিয়মিত যাতায়াত করেন। তাদের গাড়ির চাকা এই রক্ত আর বর্জ্য মাড়িয়েই চলে। অথচ আজ পর্যন্ত এই অবৈধ কসাইখানার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এমন চিত্র চোখে পড়েনি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে কসাইরা এক ধরণের 'সবুজ সংকেত' হিসেবে ধরে নিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।



জরুরি সড়কের ওপর এভাবে পশু জবাই করায় শুধু পরিবেশ দূষণই হচ্ছে না, বরং পশুর বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে নানা রকম জীবাণু, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সড়কের ওপর পশু জবাই বন্ধ করে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে কসাইখানা স্থানান্তর করা হোক। একই সাথে, জনস্বার্থ রক্ষায় এবং সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, কে কোথায় কসাইখানা করেছে সেটি তাদের দেখার বিষয় নয়। তাদের দায়িত্ব হল জবাইকৃত গরু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা। তবে জবাইকৃত গরুগুলো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।


জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রোকনুজ্জামান এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোন রিসিভ করলেও তিনি বারবার কেটে দেওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ  সড়ক ও জনপথ বিভাগের  নির্বাহী প্রকৌশলী  মোঃ ইমরান ফারহান সুমেল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পথচারী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করে রাস্তাকে কসাইখানা হিসেবে ব্যবহার করা হবে এমন সুযোগ দেয়া হবে না। খুব শীঘ্রই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা