কোন মাধ্যমে জানলাম একটা মেয়ে গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কম বয়সের মেয়ে। বিমর্ষ লাগছিল। এমন সংবাদ প্রথম শুনলাম এমন নয়, তবে ঈদের দিন এমন একটা বিষয় মেনে নিতে মন সায় দিচ্ছে না।
অপরাধ বিষয়ে আমরা যারা কাজ করি, মৃত্যু আর ডেড বডি তাদের কাছে ডালভাত। একটা গলাকাটা লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে একজন উপস্থিত নিকটাত্মীয়কে বলতে শুনলাম, তিনি আজ রাতে ঘুমাতে পারবেন না, চোখ বন্ধ করলেই নাকি এই লাশ তাকে ধরতে আসবে। রাতে প্রাকৃতিক কর্ম কিভাবে করবেন এই নিয়ে তিনি ভীষণ চিন্তায় পরে গেছেন। গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করলে লাশের মুখ অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা বিকৃত হয়ে যায়, নিহতের নিকটজনও ভয়পান, লাশের কাছে যেতে চায় না অনেক সময়।
রায়গঞ্জ এবং সলংগা থানায় কাজ করতে গিয়ে দেখলাম, অতি তুচ্ছ কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে। মায়ের সাথে ভাত খাওয়া নিয়ে রাগ করে মেয়ে ফাঁসি দিয়েছে; বউ বাপের বাড়ি চলে গেছে বিধায় অভিমানে বিষ খেয়েছে; প্রেম করতে গিয়ে কারো কাছে ধরা পরেছে তাই সম্মানের ভয়ে বিষ খেয়েছে; বাবা বকা দিয়েছে তাই ফাঁসি লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে; মোটর সাইকেল কিনে দেয়নি বলে বিষ খেয়েছে; এমন আরো অনেক কারণেই উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা আত্মহণনের পথ বেছে নিচ্ছে। অথচ সামান্য কাউন্সিলিং পেলেই হয়ৎ এই সব মৃত্যু এড়ানো যেত। চিকিৎসা বিজ্ঞান মনে করে, আত্মহত্যা করার প্রবণতা এক ধরণের মানসিক রোগ, যা নিরাময় যোগ্য।
উত্তরবঙ্গের যে অংশে আমি চাকুরি করি, এখানে অধিকাংশ মানুষ খুব সাধারন জীবন যাপন করে, বলতে গেলে দিন আনে দিন খায় গোছের সংখ্যাই বেশি। এমন পরিবারে একটা মেয়ে যখন আত্মহত্যা করে, সবসময় আমার বিমর্ষ লাগে। এই মেয়েদের জীবনে খুব বেশি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি থাকে না। একটা নতুন জামা পাবে এমন আশায় ঈদের অপেক্ষা করে; একবেলা ভাল খাবারের জন্য ঈদের অপেক্ষা করে; যাদের মা-বাবা ঢাকায় চাকরি করে তারা মা-বাবার সাথে আনন্দ করার জন্য ঈদের অপেক্ষা করে; ঈদের আনন্দের জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে; অথচ সেই অপেক্ষার দিনেই আত্মহত্যা করেছে। খোজ নিয়ে জানলাম, মেয়েটা আত্মীয়ের বাসায় থাকে, কুরবানীর মাংস কম-বেশি খাওয়া নিয়ে কারো কথায় অভিমান করে সে আত্মঘাতী হয়েছে, বিষটা জানার পর থেকে কেমন যেন অবসাদ লাগছে, আমার নিজেরই আর মাংস খেতে ইচ্ছে করছে না। See less

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
কোন মাধ্যমে জানলাম একটা মেয়ে গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কম বয়সের মেয়ে। বিমর্ষ লাগছিল। এমন সংবাদ প্রথম শুনলাম এমন নয়, তবে ঈদের দিন এমন একটা বিষয় মেনে নিতে মন সায় দিচ্ছে না।
অপরাধ বিষয়ে আমরা যারা কাজ করি, মৃত্যু আর ডেড বডি তাদের কাছে ডালভাত। একটা গলাকাটা লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে একজন উপস্থিত নিকটাত্মীয়কে বলতে শুনলাম, তিনি আজ রাতে ঘুমাতে পারবেন না, চোখ বন্ধ করলেই নাকি এই লাশ তাকে ধরতে আসবে। রাতে প্রাকৃতিক কর্ম কিভাবে করবেন এই নিয়ে তিনি ভীষণ চিন্তায় পরে গেছেন। গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করলে লাশের মুখ অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা বিকৃত হয়ে যায়, নিহতের নিকটজনও ভয়পান, লাশের কাছে যেতে চায় না অনেক সময়।
রায়গঞ্জ এবং সলংগা থানায় কাজ করতে গিয়ে দেখলাম, অতি তুচ্ছ কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে। মায়ের সাথে ভাত খাওয়া নিয়ে রাগ করে মেয়ে ফাঁসি দিয়েছে; বউ বাপের বাড়ি চলে গেছে বিধায় অভিমানে বিষ খেয়েছে; প্রেম করতে গিয়ে কারো কাছে ধরা পরেছে তাই সম্মানের ভয়ে বিষ খেয়েছে; বাবা বকা দিয়েছে তাই ফাঁসি লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে; মোটর সাইকেল কিনে দেয়নি বলে বিষ খেয়েছে; এমন আরো অনেক কারণেই উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা আত্মহণনের পথ বেছে নিচ্ছে। অথচ সামান্য কাউন্সিলিং পেলেই হয়ৎ এই সব মৃত্যু এড়ানো যেত। চিকিৎসা বিজ্ঞান মনে করে, আত্মহত্যা করার প্রবণতা এক ধরণের মানসিক রোগ, যা নিরাময় যোগ্য।
উত্তরবঙ্গের যে অংশে আমি চাকুরি করি, এখানে অধিকাংশ মানুষ খুব সাধারন জীবন যাপন করে, বলতে গেলে দিন আনে দিন খায় গোছের সংখ্যাই বেশি। এমন পরিবারে একটা মেয়ে যখন আত্মহত্যা করে, সবসময় আমার বিমর্ষ লাগে। এই মেয়েদের জীবনে খুব বেশি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি থাকে না। একটা নতুন জামা পাবে এমন আশায় ঈদের অপেক্ষা করে; একবেলা ভাল খাবারের জন্য ঈদের অপেক্ষা করে; যাদের মা-বাবা ঢাকায় চাকরি করে তারা মা-বাবার সাথে আনন্দ করার জন্য ঈদের অপেক্ষা করে; ঈদের আনন্দের জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে; অথচ সেই অপেক্ষার দিনেই আত্মহত্যা করেছে। খোজ নিয়ে জানলাম, মেয়েটা আত্মীয়ের বাসায় থাকে, কুরবানীর মাংস কম-বেশি খাওয়া নিয়ে কারো কথায় অভিমান করে সে আত্মঘাতী হয়েছে, বিষটা জানার পর থেকে কেমন যেন অবসাদ লাগছে, আমার নিজেরই আর মাংস খেতে ইচ্ছে করছে না। See less

আপনার মতামত লিখুন