দৈনিক লাল বার্তা

জীবনের তাগিদে হীরা এখন চলনবিল পাড়ে ‘কুচিয়া শিকারি’



জীবনের তাগিদে হীরা এখন চলনবিল পাড়ে ‘কুচিয়া শিকারি’

সাব্বির মির্জা:

ভোর হতে না হতেই কাঁধে শিকারে সরঞ্জাম আর জীবনের ভার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন হীরা। গন্তব্য চলনবিলের কর্দমাক্ত মাঠ কিংবা জলাশয়ের ধার। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল গ্রামের এই বাসিন্দা এখন জীবন সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। অভাবের তাড়নায় হীরা আজ পেশায় কুচিয়া শিকারি।

তীব্র রোদ কিংবা হাড়কাঁপানো শীত—কোনো কিছুই দমাতে পারে না হীরাকে। যখন সাধারণ মানুষ বিশ্রামে থাকেন, হীরা তখন কর্দমাক্ত নালার ধারে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে খুঁজে চলেন কুচিয়ার গর্ত। লোহার তৈরি ‘বর্ষি’ বা বিশেষ সরঞ্জাম (ভার) কাঁধে নিয়ে মাইলের পর মাইল পথ চলা এখন তার নিত্যদিনের রুটিন।

বস্তুল গ্রাম এবং আশপাশের বিলে দীর্ঘ সময় কাদা-পানিতে ভিজে তিনি কুচিয়া ধরেন। সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে যা জোটে, তা দিয়েই চলে তার পরিবারের চাকা।

হীরার এই কাজে নেই কোনো আধুনিক প্রযুক্তি, আছে কেবল অভিজ্ঞতা আর অদম্য সাহসিকতা। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর কাক্সিক্ষত শিকার না মিললে শূন্য হাতেও ফিরতে হয় বাড়িতে। তবুও জীবনের তাগিদে পরদিন আবার নতুন উদ্যমে বের হন তিনি।

চলনবিল অঞ্চলের এই কুচিয়া এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। হীরার মতো শ্রমজীবীদের হাত ধরেই টিকে আছে এই অপ্রচলিত খাতের জোগান। তবে হীরা কোনো বড় ব্যবসায়ী নন; তিনি কেবল টিকে থাকার লড়াইয়ে লিপ্ত একজন সাধারণ মানুষ।

বস্তুল গ্রামের আব্দুল হান্নান বলেন, হীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ। জীবনের টানাপোড়েনে পড়ে তিনি এই কঠিন কাজকে বেছে নিয়েছেন। তার এই নিরলস সংগ্রাম বস্তুল গ্রামের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা আর জীবন যুদ্ধের নিষ্ঠুর বাস্তবতার এক অনন্য উদাহরণ।

হীরার কাঁধের ‘ভার’ শুধু কুচিয়া ধরার সরঞ্জাম নয়, যেন তার পুরো পরিবারের দায়িত্ব। সমাজের আর দশটা মানুষের মতো স্বাচ্ছন্দে বাঁচার স্বপ্ন তার চোখেও আছে, তবে আপাতত কর্দমাক্ত বিলের মাঝেই হীরা খুঁজে চলেছেন তার বেঁচে থাকার রসদ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


জীবনের তাগিদে হীরা এখন চলনবিল পাড়ে ‘কুচিয়া শিকারি’

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image


সাব্বির মির্জা:


ভোর হতে না হতেই কাঁধে শিকারে সরঞ্জাম আর জীবনের ভার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন হীরা। গন্তব্য চলনবিলের কর্দমাক্ত মাঠ কিংবা জলাশয়ের ধার। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল গ্রামের এই বাসিন্দা এখন জীবন সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। অভাবের তাড়নায় হীরা আজ পেশায় কুচিয়া শিকারি।


তীব্র রোদ কিংবা হাড়কাঁপানো শীত—কোনো কিছুই দমাতে পারে না হীরাকে। যখন সাধারণ মানুষ বিশ্রামে থাকেন, হীরা তখন কর্দমাক্ত নালার ধারে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে খুঁজে চলেন কুচিয়ার গর্ত। লোহার তৈরি ‘বর্ষি’ বা বিশেষ সরঞ্জাম (ভার) কাঁধে নিয়ে মাইলের পর মাইল পথ চলা এখন তার নিত্যদিনের রুটিন।


বস্তুল গ্রাম এবং আশপাশের বিলে দীর্ঘ সময় কাদা-পানিতে ভিজে তিনি কুচিয়া ধরেন। সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে যা জোটে, তা দিয়েই চলে তার পরিবারের চাকা।


হীরার এই কাজে নেই কোনো আধুনিক প্রযুক্তি, আছে কেবল অভিজ্ঞতা আর অদম্য সাহসিকতা। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর কাক্সিক্ষত শিকার না মিললে শূন্য হাতেও ফিরতে হয় বাড়িতে। তবুও জীবনের তাগিদে পরদিন আবার নতুন উদ্যমে বের হন তিনি।


চলনবিল অঞ্চলের এই কুচিয়া এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। হীরার মতো শ্রমজীবীদের হাত ধরেই টিকে আছে এই অপ্রচলিত খাতের জোগান। তবে হীরা কোনো বড় ব্যবসায়ী নন; তিনি কেবল টিকে থাকার লড়াইয়ে লিপ্ত একজন সাধারণ মানুষ।


বস্তুল গ্রামের আব্দুল হান্নান বলেন, হীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ। জীবনের টানাপোড়েনে পড়ে তিনি এই কঠিন কাজকে বেছে নিয়েছেন। তার এই নিরলস সংগ্রাম বস্তুল গ্রামের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা আর জীবন যুদ্ধের নিষ্ঠুর বাস্তবতার এক অনন্য উদাহরণ।


হীরার কাঁধের ‘ভার’ শুধু কুচিয়া ধরার সরঞ্জাম নয়, যেন তার পুরো পরিবারের দায়িত্ব। সমাজের আর দশটা মানুষের মতো স্বাচ্ছন্দে বাঁচার স্বপ্ন তার চোখেও আছে, তবে আপাতত কর্দমাক্ত বিলের মাঝেই হীরা খুঁজে চলেছেন তার বেঁচে থাকার রসদ।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা