রাঙ্গামাটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের মধ্যে স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে আন্দোলনরত দুটি সংগঠন। বুধবার (৪ নভেম্বর) থেকে এ ছাড় কার্যকর হবে। তবে নিজেদের পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মূল সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা বহাল রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতেই যানবাহনগুলোকে অবরোধের আওতামুক্ত রাখার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে সাজেকে লাগাতার সড়ক অবরোধের প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার (৪ ও ৫ নভেম্বর) টানা ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির সদস্যসচিব বিন্দু লাল চাকমা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, সাজেকে গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর, ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর চতুর্থ দফায় ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক সড়ক, স্থানীয় পর্যটনশিল্প ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সংগঠনটির দাবি, চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের পৃষ্ঠপোষকতায় তথাকথিত সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অবরোধ কর্মসূচি চাপিয়ে দিচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বারবার অবরোধের ফলে স্থানীয় জুমচাষিরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে সেগুলো পচে নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও সাধারণ শ্রমিকসহ লাখো মানুষের রুটিরুজি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপুল অঙ্কের রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে সরকারও।
সংগঠনটির অভিযোগ, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো সাধারণ জুমচাষিদের অস্ত্রের মুখে এবং জরিমানার ভয় দেখিয়ে অবরোধ পালনে বাধ্য করছে। মূলত চাঁদাবাজি, অপহরণ, আধিপত্য বিস্তার ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গোটা পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৪৮ ঘণ্টার এ শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
রাঙ্গামাটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের মধ্যে স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে আন্দোলনরত দুটি সংগঠন। বুধবার (৪ নভেম্বর) থেকে এ ছাড় কার্যকর হবে। তবে নিজেদের পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মূল সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা বহাল রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতেই যানবাহনগুলোকে অবরোধের আওতামুক্ত রাখার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে সাজেকে লাগাতার সড়ক অবরোধের প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার (৪ ও ৫ নভেম্বর) টানা ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির সদস্যসচিব বিন্দু লাল চাকমা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, সাজেকে গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর, ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর চতুর্থ দফায় ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক সড়ক, স্থানীয় পর্যটনশিল্প ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সংগঠনটির দাবি, চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের পৃষ্ঠপোষকতায় তথাকথিত সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অবরোধ কর্মসূচি চাপিয়ে দিচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বারবার অবরোধের ফলে স্থানীয় জুমচাষিরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে সেগুলো পচে নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও সাধারণ শ্রমিকসহ লাখো মানুষের রুটিরুজি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপুল অঙ্কের রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে সরকারও।
সংগঠনটির অভিযোগ, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো সাধারণ জুমচাষিদের অস্ত্রের মুখে এবং জরিমানার ভয় দেখিয়ে অবরোধ পালনে বাধ্য করছে। মূলত চাঁদাবাজি, অপহরণ, আধিপত্য বিস্তার ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গোটা পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৪৮ ঘণ্টার এ শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি।

আপনার মতামত লিখুন