দৈনিক লাল বার্তা

ভাঙায় ৯ বছর পর কুমার নদে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ উৎসব



ভাঙায় ৯ বছর পর কুমার নদে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ  উৎসব

দীর্ঘ ৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফরিদপুরের ভাঙায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত হলো প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শুক্রবার বিকেলে ভাঙা বাজারসংলগ্ন কুমার নদ এলাকা হাজারো দর্শনার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয়। ঢাক-ঢোল ও করতালি শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে নদীর দুই পার। দীর্ঘদিন পর আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ।

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ বাইচে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ২৫টি দ্রুতগতির নৌকা অংশ নেয়। বাইচকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন ধরেই এলাকায় চলে ব্যাপক প্রস্তুতি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।

দুপুরের পর থেকেই কুমার নদের দুই পাড়, সংলগ্ন সেতু এবং আশপাশের উঁচু ভবনগুলোতে নারী-পুরুষসহ সব বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। প্রতিযোগিতা শুরুর পর নৌকাগুলোর গতির লড়াই দর্শকদের মাঝে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে নদীর দুই পাড়ে বসেছিল বর্ণিল গ্রামীণ মেলা।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী এবং অংশগ্রহণকারী সব নৌকার মাঝিদের হাতে রেফ্রিজারেটর ও এলইডি টিভিসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ভাঙা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল, জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ভাঙা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, “সংস্কৃতি বাঁচাতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নৌকাবাইচ বাঙালির শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত একটি নির্মল জলক্রীড়া। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের সুস্থ বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই।”

পৃষ্ঠপোষক ও সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, “নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার প্রাণের ঐতিহ্য। দীর্ঘদিন পর এটি পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিতভাবে এই আয়োজন বজায় থাকলে গ্রামীণ সংস্কৃতি সুরক্ষার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য সুস্থ বিনোদনের চিরস্থায়ী সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভাঙায় ৯ বছর পর কুমার নদে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ উৎসব

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image



দীর্ঘ ৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফরিদপুরের ভাঙায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত হলো প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শুক্রবার বিকেলে ভাঙা বাজারসংলগ্ন কুমার নদ এলাকা হাজারো দর্শনার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয়। ঢাক-ঢোল ও করতালি শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে নদীর দুই পার। দীর্ঘদিন পর আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ।


ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ বাইচে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ২৫টি দ্রুতগতির নৌকা অংশ নেয়। বাইচকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন ধরেই এলাকায় চলে ব্যাপক প্রস্তুতি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।


দুপুরের পর থেকেই কুমার নদের দুই পাড়, সংলগ্ন সেতু এবং আশপাশের উঁচু ভবনগুলোতে নারী-পুরুষসহ সব বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। প্রতিযোগিতা শুরুর পর নৌকাগুলোর গতির লড়াই দর্শকদের মাঝে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে নদীর দুই পাড়ে বসেছিল বর্ণিল গ্রামীণ মেলা।


প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী এবং অংশগ্রহণকারী সব নৌকার মাঝিদের হাতে রেফ্রিজারেটর ও এলইডি টিভিসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।


ভাঙা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল, জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ভাঙা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, “সংস্কৃতি বাঁচাতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নৌকাবাইচ বাঙালির শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত একটি নির্মল জলক্রীড়া। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের সুস্থ বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই।”


পৃষ্ঠপোষক ও সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, “নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার প্রাণের ঐতিহ্য। দীর্ঘদিন পর এটি পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখা হবে।”


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিতভাবে এই আয়োজন বজায় থাকলে গ্রামীণ সংস্কৃতি সুরক্ষার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য সুস্থ বিনোদনের চিরস্থায়ী সুযোগ সৃষ্টি হবে।



দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা