‘
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পারকোদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি ছুটি নিয়েই বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। অনেক সময় বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল্লাহ শফিক বলেন, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী ছুটির কথা জানান। তবে ওইদিন ছুটি দেওয়া সম্ভব নয় বলে তাকে জানানো হয়েছিল। এরপরও তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। এ সময় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণেরও অভিযোগ করেন তিনি। পরে কাউকে না জানিয়ে ওই শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে চলে যান বলেও জানান প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ওই শিক্ষক অনেক সময় নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে আসেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আবার ইচ্ছেমতো চলে যান। এতে বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অভিভাবক রুবেল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করা জরুরি। কোনো শিক্ষক নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী বলেন, ‘আমি ছুটি নিয়েই বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি ওই শিক্ষককে ফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেছি। তবে এখনো পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টি এইমাত্র জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
‘
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পারকোদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি ছুটি নিয়েই বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। অনেক সময় বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল্লাহ শফিক বলেন, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী ছুটির কথা জানান। তবে ওইদিন ছুটি দেওয়া সম্ভব নয় বলে তাকে জানানো হয়েছিল। এরপরও তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। এ সময় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণেরও অভিযোগ করেন তিনি। পরে কাউকে না জানিয়ে ওই শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে চলে যান বলেও জানান প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ওই শিক্ষক অনেক সময় নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে আসেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আবার ইচ্ছেমতো চলে যান। এতে বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অভিভাবক রুবেল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করা জরুরি। কোনো শিক্ষক নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী বলেন, ‘আমি ছুটি নিয়েই বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি ওই শিক্ষককে ফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেছি। তবে এখনো পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টি এইমাত্র জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন