রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে চার দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন চারুকলা এলাকার রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার সময় কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে সরকারি রসিদ ছাড়া অর্থ নেওয়া হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক টিটিই ফোরকানকে মারধর করেন।
ফোরকানের ভাষ্য, টিকিট দেখানোর পর তিনি সামনের আসনে থাকা দুজন যাত্রীর টিকিট না দেখে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে পেছন থেকে এক টিটিই তাঁর ওপর হামলা করেন। এ সময় তাঁর গলা চেপে ধরা, পায়ে আঘাত করা এবং টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনাটি রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। এরপরই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে রেললাইনে অবস্থান নেন তারা।
অবরোধের কারণে ঢাকামুখী বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশনে আটকে আছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময় পার হলেও অবরোধের কারণে ট্রেন দুটি ছেড়ে যেতে পারেনি। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত টিটিইকে সশরীরে হাজির করা, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিও তুলেছেন তারা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারি রসিদ ছাড়া অর্থ আদায় এবং টিকিটবিহীন যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদ করায় একজন সহপাঠীকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। রেলে অনিয়ম এবং প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুনুর রশীদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে রেলপথ অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে অভিযুক্ত টিটিইকে হাজির করে দাবি পূরণের বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত রেললাইন ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করায় রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেসসহ কোনো ট্রেন ছেড়ে যেতে পারেনি। একইভাবে রাজশাহীগামী ট্রেনগুলোর চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েন বিপুলসংখ্যক যাত্রী।
অবরোধের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি এবং বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি চাইলে রেলওয়ে হাসপাতাল অথবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। গভীর রাতে রাজশাহী পৌঁছানো তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল বাস চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আবারও সভা হবে।
সভা শেষে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীদের যে সাময়িক অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহাবুবর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে এবং কয়েকটি দাবিতে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছিলেন। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তাদের অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন ও রেলওয়ের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ সময় অবরোধের কারণে অন্তত ১০টি ট্রেনের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিলের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। অবরোধ প্রত্যাহারের পর আটকে থাকা ট্রেনগুলো বিকেল থেকে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে চার দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন চারুকলা এলাকার রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার সময় কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে সরকারি রসিদ ছাড়া অর্থ নেওয়া হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক টিটিই ফোরকানকে মারধর করেন।
ফোরকানের ভাষ্য, টিকিট দেখানোর পর তিনি সামনের আসনে থাকা দুজন যাত্রীর টিকিট না দেখে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে পেছন থেকে এক টিটিই তাঁর ওপর হামলা করেন। এ সময় তাঁর গলা চেপে ধরা, পায়ে আঘাত করা এবং টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনাটি রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। এরপরই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে রেললাইনে অবস্থান নেন তারা।
অবরোধের কারণে ঢাকামুখী বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশনে আটকে আছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময় পার হলেও অবরোধের কারণে ট্রেন দুটি ছেড়ে যেতে পারেনি। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত টিটিইকে সশরীরে হাজির করা, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিও তুলেছেন তারা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারি রসিদ ছাড়া অর্থ আদায় এবং টিকিটবিহীন যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদ করায় একজন সহপাঠীকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। রেলে অনিয়ম এবং প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুনুর রশীদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে রেলপথ অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে অভিযুক্ত টিটিইকে হাজির করে দাবি পূরণের বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত রেললাইন ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করায় রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেসসহ কোনো ট্রেন ছেড়ে যেতে পারেনি। একইভাবে রাজশাহীগামী ট্রেনগুলোর চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েন বিপুলসংখ্যক যাত্রী।
অবরোধের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি এবং বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি চাইলে রেলওয়ে হাসপাতাল অথবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। গভীর রাতে রাজশাহী পৌঁছানো তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল বাস চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আবারও সভা হবে।
সভা শেষে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীদের যে সাময়িক অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহাবুবর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে এবং কয়েকটি দাবিতে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছিলেন। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তাদের অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন ও রেলওয়ের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ সময় অবরোধের কারণে অন্তত ১০টি ট্রেনের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিলের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। অবরোধ প্রত্যাহারের পর আটকে থাকা ট্রেনগুলো বিকেল থেকে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

আপনার মতামত লিখুন