বর্ষার নতুন পানিতে কানায় কানায় ভরে উঠেছে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় জলাভূমি চলনবিল। আর এই নতুন পানির আগমনের সাথেই চলনবিল অঞ্চলের নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের কৃষকদের মাঝে শুরু হয়েছে পাট জাগ দেওয়া এবং সোনালী আঁশ ছড়ানোর উৎসবমুখর ব্যস্ততা।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চলনবিলের নদী-নালা, খাল-বিল এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। এই সময়টার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন স্থানীয় পাট চাষিরা। পানি আসায় বিলের যত্রতত্র এখন দেখা যাচ্ছে পাট জাগ দেওয়ার দৃশ্য।
চলনবিল এলাকার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও পাট ধোয়ার কাজে হাত বাড়িয়েছেন। কেউ খেত থেকে পাট কেটে আঁটি বাঁধছেন, কেউ সেই আঁটি পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ পানির মধ্যে বসেই পরম যত্নে পাট থেকে সোনালী আঁশ ছাড়াচ্ছেন। এরপর সেই আঁশ ধুয়ে বাঁশের আড়া বা রাস্তার পাশে রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
স্থানীয় এক পাট চাষি জানান, এ বছর পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে কিছুদিন আগে পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলাম। আল্লাহর রহমতে সময়মতো বিলের নতুন পানি চলে আসায় এখন আর সমস্যা নেই। দিনরাত এক করে আমরা পাট ধোয়ার কাজ করছি।
কৃষকরা জানান, বিলের নতুন ও পরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দেওয়ার কারণে এবার আঁশের রঙ খুব সুন্দর ও উজ্জ্বল হচ্ছে। বাজারে এই উজ্জ্বল ও মানসম্মত পাটের (সোনালী আঁশ) চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। ফলে এবার ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, চলতি মৌসুমে চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা যদি পাটের সঠিক মূল্য পান, তবে গত কয়েক মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি সার্থক হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আবার চাঙ্গা ভাব ফিরে আসবে বলে মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
বর্ষার নতুন পানিতে কানায় কানায় ভরে উঠেছে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় জলাভূমি চলনবিল। আর এই নতুন পানির আগমনের সাথেই চলনবিল অঞ্চলের নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের কৃষকদের মাঝে শুরু হয়েছে পাট জাগ দেওয়া এবং সোনালী আঁশ ছড়ানোর উৎসবমুখর ব্যস্ততা।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চলনবিলের নদী-নালা, খাল-বিল এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। এই সময়টার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন স্থানীয় পাট চাষিরা। পানি আসায় বিলের যত্রতত্র এখন দেখা যাচ্ছে পাট জাগ দেওয়ার দৃশ্য।
চলনবিল এলাকার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও পাট ধোয়ার কাজে হাত বাড়িয়েছেন। কেউ খেত থেকে পাট কেটে আঁটি বাঁধছেন, কেউ সেই আঁটি পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ পানির মধ্যে বসেই পরম যত্নে পাট থেকে সোনালী আঁশ ছাড়াচ্ছেন। এরপর সেই আঁশ ধুয়ে বাঁশের আড়া বা রাস্তার পাশে রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
স্থানীয় এক পাট চাষি জানান, এ বছর পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে কিছুদিন আগে পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলাম। আল্লাহর রহমতে সময়মতো বিলের নতুন পানি চলে আসায় এখন আর সমস্যা নেই। দিনরাত এক করে আমরা পাট ধোয়ার কাজ করছি।
কৃষকরা জানান, বিলের নতুন ও পরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দেওয়ার কারণে এবার আঁশের রঙ খুব সুন্দর ও উজ্জ্বল হচ্ছে। বাজারে এই উজ্জ্বল ও মানসম্মত পাটের (সোনালী আঁশ) চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। ফলে এবার ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, চলতি মৌসুমে চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা যদি পাটের সঠিক মূল্য পান, তবে গত কয়েক মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি সার্থক হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আবার চাঙ্গা ভাব ফিরে আসবে বলে মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন