শিল্প কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, পয়োনিষ্কাশনের ময়লা, প্লাস্টিক ও বাজারের আবর্জনায় খুলনার প্রধান দুই নদী রূপসা ও ভৈরব মারাত্মক দূষণের শিকার হয়েছে। এতে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ছে, কমছে মাছের উৎপাদন, হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য এবং বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় রূপসা-ভৈরবের পানি ছিল স্বচ্ছ ও ব্যবহারোপযোগী। বর্তমানে নদীর পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে এবং মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় জেলেদের জীবিকাও সংকটে পড়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়া হাসান বলেন, শিল্পবর্জ্য, পয়ঃনিষ্কাশন, প্লাস্টিক, বাজারের আবর্জনা এবং কৃষিজমির রাসায়নিক নদীতে মিশে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে। দূষিত পানির ক্ষতিকর রাসায়নিক মাছের শরীরে জমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপসা-ভৈরবের তীরে গড়ে ওঠা বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁর বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলায় দূষণ দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে নদী ও খাল দখল এবং অবৈধ স্থাপনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, প্রতি মাসে নদীর পানির মান পরীক্ষা করা হয়। বর্ষায় পানির মান তুলনামূলক ভালো থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা মানদণ্ডের নিচে নেমে যায়। পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, খুলনার নদীতীরে ৯০০টির বেশি অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, রূপসা-ভৈরব নদী রক্ষায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
শিল্প কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, পয়োনিষ্কাশনের ময়লা, প্লাস্টিক ও বাজারের আবর্জনায় খুলনার প্রধান দুই নদী রূপসা ও ভৈরব মারাত্মক দূষণের শিকার হয়েছে। এতে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ছে, কমছে মাছের উৎপাদন, হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য এবং বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় রূপসা-ভৈরবের পানি ছিল স্বচ্ছ ও ব্যবহারোপযোগী। বর্তমানে নদীর পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে এবং মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় জেলেদের জীবিকাও সংকটে পড়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়া হাসান বলেন, শিল্পবর্জ্য, পয়ঃনিষ্কাশন, প্লাস্টিক, বাজারের আবর্জনা এবং কৃষিজমির রাসায়নিক নদীতে মিশে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে। দূষিত পানির ক্ষতিকর রাসায়নিক মাছের শরীরে জমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপসা-ভৈরবের তীরে গড়ে ওঠা বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁর বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলায় দূষণ দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে নদী ও খাল দখল এবং অবৈধ স্থাপনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, প্রতি মাসে নদীর পানির মান পরীক্ষা করা হয়। বর্ষায় পানির মান তুলনামূলক ভালো থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা মানদণ্ডের নিচে নেমে যায়। পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, খুলনার নদীতীরে ৯০০টির বেশি অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, রূপসা-ভৈরব নদী রক্ষায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

আপনার মতামত লিখুন