দৈনিক লাল বার্তা

ঘোড়াঘাটে কিডনি রোগে আক্রান্ত সাফিয়ার: পরিবারের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।



ঘোড়াঘাটে কিডনি রোগে আক্রান্ত সাফিয়ার: পরিবারের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।

বাবার চোখে ঘুম নেই, মা য়ের অশ্রু থামছে না, আর স্ত্রীর চোখে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এভাবেই প্রতিটি মুহূর্ত অজানা শঙ্কায় কাটছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ২ নং পালশা ইউনিয়নের চৌড়িয়া গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী সাফিয়ার রহমান সাদ্দামের পরিবারের। দীর্ঘদিনের মরণব্যাধি দুই কিডনি বিকল হওয়ার কারণে এখন জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াই করছেন তিনি।

আর্থিক সংকটে থমকে গেছে চিকিৎসা

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তারা নিজেদের সহায়-সম্বল ও জমিজমা বিক্রি করেছেন। শেষ করেছেন জমানো টাকা, এমনকি আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করেও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া তার জীবন টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।

দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালে সাফিয়ার গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে রংপুর প্রাইম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসে ১২টি ডায়ালাইসিসসহ পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর কিছু সময় সুস্থ থাকলেও চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে তিনি পুনরায় অসুস্থবোধ করেন। বর্তমানে তিনি বগুড়া টিএমএসএস হাসপাতালের নেফ্রোলজিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. মুহাম্মদ আবুল হাসনাত-এর অধীনে চিকিৎসাধীন। সপ্তাহে দুইবার নিয়মিত ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।

অসহায় বাবার আকুতি

সাফিয়ারের ষাটোর্ধ্ব বাবা সাইদুর রহমান কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, “তিন ছেলের মধ্যে বড় সাফিয়ারকে বাঁচাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। জমিজমা বিক্রিসহ ধার-দেনা করে এতদিন চিকিৎসা চালিয়েছি। কিন্তু এখন আর কুলাতে পারছি না। আমার সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কাছে আকুল আবেদন—আপনারা একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।”

ব্যয়ভার ও সাহায্যের আহ্বান

স্বজনদের তথ্যমতে, প্রতিটি ডায়ালাইসিসে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাতায়াত খরচ মিলিয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন হয় প্রায় ১২ হাজার টাকা। দীর্ঘমেয়াদী এই ব্যয় বহন করা এখন সাধ্যের বাইরে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন প্রধান বলেন, “সাফিয়ারের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। আমি সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে মানবিক জায়গা থেকে তার পরিবারের মোবাইল নম্বর: ০১৭২২-৭৫৯৮৩১-এ যোগাযোগ করে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হওয়ায় তাকে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের কোনো বিকল্প নেই এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য কিডনি প্রতিস্থাপন অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা এখন সাধ্যের অতীত হলেও সাফিয়ারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


ঘোড়াঘাটে কিডনি রোগে আক্রান্ত সাফিয়ার: পরিবারের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image




বাবার চোখে ঘুম নেই, মা য়ের অশ্রু থামছে না, আর স্ত্রীর চোখে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এভাবেই প্রতিটি মুহূর্ত অজানা শঙ্কায় কাটছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ২ নং পালশা ইউনিয়নের চৌড়িয়া গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী সাফিয়ার রহমান সাদ্দামের পরিবারের। দীর্ঘদিনের মরণব্যাধি দুই কিডনি বিকল হওয়ার কারণে এখন জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াই করছেন তিনি।

আর্থিক সংকটে থমকে গেছে চিকিৎসা

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তারা নিজেদের সহায়-সম্বল ও জমিজমা বিক্রি করেছেন। শেষ করেছেন জমানো টাকা, এমনকি আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করেও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া তার জীবন টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।

দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালে সাফিয়ার গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে রংপুর প্রাইম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসে ১২টি ডায়ালাইসিসসহ পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর কিছু সময় সুস্থ থাকলেও চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে তিনি পুনরায় অসুস্থবোধ করেন। বর্তমানে তিনি বগুড়া টিএমএসএস হাসপাতালের নেফ্রোলজিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. মুহাম্মদ আবুল হাসনাত-এর অধীনে চিকিৎসাধীন। সপ্তাহে দুইবার নিয়মিত ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।

অসহায় বাবার আকুতি

সাফিয়ারের ষাটোর্ধ্ব বাবা সাইদুর রহমান কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, “তিন ছেলের মধ্যে বড় সাফিয়ারকে বাঁচাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। জমিজমা বিক্রিসহ ধার-দেনা করে এতদিন চিকিৎসা চালিয়েছি। কিন্তু এখন আর কুলাতে পারছি না। আমার সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কাছে আকুল আবেদন—আপনারা একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।”

ব্যয়ভার ও সাহায্যের আহ্বান

স্বজনদের তথ্যমতে, প্রতিটি ডায়ালাইসিসে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাতায়াত খরচ মিলিয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন হয় প্রায় ১২ হাজার টাকা। দীর্ঘমেয়াদী এই ব্যয় বহন করা এখন সাধ্যের বাইরে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন প্রধান বলেন, “সাফিয়ারের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। আমি সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে মানবিক জায়গা থেকে তার পরিবারের মোবাইল নম্বর: ০১৭২২-৭৫৯৮৩১-এ যোগাযোগ করে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হওয়ায় তাকে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের কোনো বিকল্প নেই এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য কিডনি প্রতিস্থাপন অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা এখন সাধ্যের অতীত হলেও সাফিয়ারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা