সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং সর্বগ্রাসী চায়না দুয়ারী জাল। অথচ জেলা মৎস্য বিভাগ বাজারে মূল বিক্রেতা ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে, লোকালয় থেকে দূরে বিভিন্ন খাল বা বিলে ‘লোক দেখানো’ অভিযান চালাচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগ উঠেছে, বড় বড় ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা বা অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে মৎস্য অফিস বাজারে এই প্রকাশ্য বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছের প্রজনন, অন্যদিকে মৎস্য পোনা উৎপাদনের প্রাকৃতিক উৎসগুলো দ্রুত মৎস্যশূন্য হয়ে পড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন ছোট-বড় হাট-বাজারে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে কোটি টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এবং বিল-জলাশয়ে নতুন পানি আসার এই সময়ে এই জালের চাহিদা তুঙ্গে। নিষিদ্ধ জেনেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই এসব জাল সাজিয়ে বসে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মৎস্য অফিস মূল উৎস অর্থাৎ বাজারগুলোতে কোনো অভিযান চালায় না। তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন বিল বা চকে গিয়ে সাধারণ কিছু কৃষকের পাতানো জাল পুড়িয়ে বা জব্দ করে দায়িত্ব শেষ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন:"বাজারে যেখানে পাইকারি ও খুচরা শত শত পিস নিষিদ্ধ জাল বিক্রি হচ্ছে, সেখানে মৎস্য অফিস যায় না। তারা বিলে গিয়ে দুটি জাল ধরে ছবি তুলে পেপারে দেয়। এটা আসলে মূল অপরাধীদের আড়াল করার একটা লোক দেখানো কৌশল মাত্র।"
চায়না দুয়ারী জালের ভয়াবহতা সম্পর্কে মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বরাবরই সতর্ক করে আসছেন। এই জালে মাছের ডিম, রেণু পোনা থেকে শুরু করে জলজ পোকামাকড় এবং কাঁকড়াও আটকে মারা যায়। সচেতন মহলের মতে, এই জালের অবাধ ব্যবহারের কারণে উপজেলার বিল ও চলনবিলের একাংশের মৎস্য পোনা উৎপাদনের প্রাকৃতিক ক্ষেত্রগুলো এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই নিষিদ্ধ ব্যবসার পেছনে প্রশাসনের একাংশের পরোক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজারগুলোতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট নিয়মিত 'মাসোহারা' বা মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করছে বলে ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকেরা দাবি করেছেন। টাকার বিনিময়ে এই সুযোগ দেওয়ার কারণেই বাজারে অভিযানগুলো থমকে আছে।
জেলা মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন,
জেলার কোথাও নিষিদ্ধ জাল বিক্রি হচ্ছে এমন তথ্য আমাদের নিকট নেই। নিষিদ্ধ জালে ধরা খুদে ডিম্বাকারের ছোট ছোট পোনা মাছ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তার ও কোন সদর উত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন তথ্য থাকলে আমাদেরকে জানাতে পারেন। তিনি আরো বলেন, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোন অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। অভিযান পরিচালনার বিষয়ে একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি জানান। নানা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে জনবল সংকটের কারণে সবসময় সব জায়গায় অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। তবে খুব দ্রুতই বাজারেও অভিযান চালানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
মৎস্য সম্পদকে রক্ষা করতে হলে শুধু খাল বিলে লোক দেখানো অভিযান বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে উপজেলার বড় বড় পাইকারি বাজারে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে চিরুনি অভিযান চালিয়ে এই নিষিদ্ধ জালের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ।

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং সর্বগ্রাসী চায়না দুয়ারী জাল। অথচ জেলা মৎস্য বিভাগ বাজারে মূল বিক্রেতা ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে, লোকালয় থেকে দূরে বিভিন্ন খাল বা বিলে ‘লোক দেখানো’ অভিযান চালাচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগ উঠেছে, বড় বড় ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা বা অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে মৎস্য অফিস বাজারে এই প্রকাশ্য বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছের প্রজনন, অন্যদিকে মৎস্য পোনা উৎপাদনের প্রাকৃতিক উৎসগুলো দ্রুত মৎস্যশূন্য হয়ে পড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন ছোট-বড় হাট-বাজারে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে কোটি টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এবং বিল-জলাশয়ে নতুন পানি আসার এই সময়ে এই জালের চাহিদা তুঙ্গে। নিষিদ্ধ জেনেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই এসব জাল সাজিয়ে বসে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মৎস্য অফিস মূল উৎস অর্থাৎ বাজারগুলোতে কোনো অভিযান চালায় না। তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন বিল বা চকে গিয়ে সাধারণ কিছু কৃষকের পাতানো জাল পুড়িয়ে বা জব্দ করে দায়িত্ব শেষ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন:"বাজারে যেখানে পাইকারি ও খুচরা শত শত পিস নিষিদ্ধ জাল বিক্রি হচ্ছে, সেখানে মৎস্য অফিস যায় না। তারা বিলে গিয়ে দুটি জাল ধরে ছবি তুলে পেপারে দেয়। এটা আসলে মূল অপরাধীদের আড়াল করার একটা লোক দেখানো কৌশল মাত্র।"
চায়না দুয়ারী জালের ভয়াবহতা সম্পর্কে মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বরাবরই সতর্ক করে আসছেন। এই জালে মাছের ডিম, রেণু পোনা থেকে শুরু করে জলজ পোকামাকড় এবং কাঁকড়াও আটকে মারা যায়। সচেতন মহলের মতে, এই জালের অবাধ ব্যবহারের কারণে উপজেলার বিল ও চলনবিলের একাংশের মৎস্য পোনা উৎপাদনের প্রাকৃতিক ক্ষেত্রগুলো এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই নিষিদ্ধ ব্যবসার পেছনে প্রশাসনের একাংশের পরোক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজারগুলোতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট নিয়মিত 'মাসোহারা' বা মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করছে বলে ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকেরা দাবি করেছেন। টাকার বিনিময়ে এই সুযোগ দেওয়ার কারণেই বাজারে অভিযানগুলো থমকে আছে।
জেলা মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন,
জেলার কোথাও নিষিদ্ধ জাল বিক্রি হচ্ছে এমন তথ্য আমাদের নিকট নেই। নিষিদ্ধ জালে ধরা খুদে ডিম্বাকারের ছোট ছোট পোনা মাছ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তার ও কোন সদর উত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন তথ্য থাকলে আমাদেরকে জানাতে পারেন। তিনি আরো বলেন, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোন অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। অভিযান পরিচালনার বিষয়ে একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি জানান। নানা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে জনবল সংকটের কারণে সবসময় সব জায়গায় অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। তবে খুব দ্রুতই বাজারেও অভিযান চালানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
মৎস্য সম্পদকে রক্ষা করতে হলে শুধু খাল বিলে লোক দেখানো অভিযান বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে উপজেলার বড় বড় পাইকারি বাজারে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে চিরুনি অভিযান চালিয়ে এই নিষিদ্ধ জালের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ।

আপনার মতামত লিখুন