দৈনিক লাল বার্তা

হারিয়ে যাচ্ছে কাজিপুরের চরগিরিশ গ্রাম: নির্ঘুম রাত কাটে যমুনা পাড়ের মানুষের



হারিয়ে যাচ্ছে কাজিপুরের চরগিরিশ গ্রাম: নির্ঘুম রাত কাটে যমুনা পাড়ের মানুষের

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ এলাকায় যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় দুই শতাধিক বসতভিটা, কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি ও পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার ও ফসলি জমি।

নবনির্মিত পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা ভাঙনের হুমকির মুখে আছে। ভাঙন রোধে কোন কাজ করা হচ্ছে না। গত বছর ভেটুয়া, চরগিরিশ পশ্চিম অংশে গ্রামটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবার গত একমাস ভাঙনে ভেটুয়া ও চরগিরিশ গ্রামটির মোমিন, কোহিনুর খাতুন, রফিকুল ইসলাম ও রোজাউল করিমের পরিবারসহ প্রায় দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে তীব্র আকারে ভাঙন চলছে। এ অবস্থায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষগুলো। দ্রুত ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে পুরোনো ভেটুয়া ও চরগিরিশ গ্রামটি। এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন।

স্থানীয় লোকজন বলেন, যমুনার ভাঙনে বিগত দিনে চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রাম বিলীন হয়ে গিয়েছে। অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। আগ্রাসী যমুনা কয়েকদিন আগেও অনেক দূরে ছিল। এবার ভাঙতে ভাঙতে শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গিয়েছে। বিগত দিনে কয়েক গ্রামের মানুষ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে মানববন্ধন করেও কোনও প্রতিকার পায়নি। 

চরগিরিশ ইউনিয়ন বিএনপি'র সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কয়েক দিনের মধ্যেই বিলীন হয়ে যেতে পারে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা না হলে এ অঞ্চলে শিক্ষার মান পিছিয়ে যাবে। পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, আমার স্কুল থেকে কয়েক শ গজ দূরে যমুনা নদীর অবস্থান। এই স্কুলে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই।

ওই ওয়ার্ডের সদস্য আল আমিন সরকার বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমিসহ অসংখ্য বসতঘর নদীতে চলে যাবে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। সরকার দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিলে আমরা এ অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবো। অসময়ে নদীভাঙন আমাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে গেছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনার চর বিশাল একটি জায়গা। এখানে অল্প ডাম্পিংয়ে ভাঙন প্রতিরোধ হবে না। বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। সমীক্ষা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


হারিয়ে যাচ্ছে কাজিপুরের চরগিরিশ গ্রাম: নির্ঘুম রাত কাটে যমুনা পাড়ের মানুষের

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image



সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ এলাকায় যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় দুই শতাধিক বসতভিটা, কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি ও পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার ও ফসলি জমি।


নবনির্মিত পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা ভাঙনের হুমকির মুখে আছে। ভাঙন রোধে কোন কাজ করা হচ্ছে না। গত বছর ভেটুয়া, চরগিরিশ পশ্চিম অংশে গ্রামটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবার গত একমাস ভাঙনে ভেটুয়া ও চরগিরিশ গ্রামটির মোমিন, কোহিনুর খাতুন, রফিকুল ইসলাম ও রোজাউল করিমের পরিবারসহ প্রায় দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে তীব্র আকারে ভাঙন চলছে। এ অবস্থায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষগুলো। দ্রুত ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে পুরোনো ভেটুয়া ও চরগিরিশ গ্রামটি। এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন।


স্থানীয় লোকজন বলেন, যমুনার ভাঙনে বিগত দিনে চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রাম বিলীন হয়ে গিয়েছে। অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। আগ্রাসী যমুনা কয়েকদিন আগেও অনেক দূরে ছিল। এবার ভাঙতে ভাঙতে শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গিয়েছে। বিগত দিনে কয়েক গ্রামের মানুষ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে মানববন্ধন করেও কোনও প্রতিকার পায়নি। 


চরগিরিশ ইউনিয়ন বিএনপি'র সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কয়েক দিনের মধ্যেই বিলীন হয়ে যেতে পারে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা না হলে এ অঞ্চলে শিক্ষার মান পিছিয়ে যাবে। পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, আমার স্কুল থেকে কয়েক শ গজ দূরে যমুনা নদীর অবস্থান। এই স্কুলে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই।


ওই ওয়ার্ডের সদস্য আল আমিন সরকার বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমিসহ অসংখ্য বসতঘর নদীতে চলে যাবে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। সরকার দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিলে আমরা এ অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবো। অসময়ে নদীভাঙন আমাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে গেছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।


এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনার চর বিশাল একটি জায়গা। এখানে অল্প ডাম্পিংয়ে ভাঙন প্রতিরোধ হবে না। বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। সমীক্ষা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। 


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা