দৈনিক লাল বার্তা

সাঘাটায় যমুনার তীর ভাঙন রক্ষার স্লোপিং ব্লকে ধস: আতঙ্কে শত শত পরিবার



সাঘাটায়  যমুনার তীর ভাঙন রক্ষার স্লোপিং ব্লকে ধস: আতঙ্কে শত শত পরিবার

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিসি ব্লক এবং জিও ব্যাগ ডাম্পিং বাঁধে ভয়াবহ ধস নেমেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যমুনা নদীর পানির সামান্য চাপেই ১০ নম্বর সাইডের ব্লকগুলো ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিডিউল বহির্ভূত গাফিলতির কাজ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার আগেই এই ধসের ঘটনায় স্থানীয় শত শত পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে শুরু থেকেই অনিয়ম হয়েছে। ব্লক স্লোপিং (ঢালু করা) করার ক্ষেত্রে যে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও সিডিউল ছিল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার পায়তারা করেছিল ।

নদী তীরের মাটি সঠিকভাবে ভরাট ও বিন্যস্ত না করেই সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার কারণে আজ পানির সামান্য চাপ আসতেই বাঁধটি তা সহ্য করতে পারেনি। চোখের পলকেই ১০ নং সাইডের বিশাল অংশের ব্লকগুলো ধসে নদীর পানিতে নিমজ্জিত হয়।

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বাঁধের এই নাজুক দশা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন যমুনা পাড়ের মানুষ। কাজ শেষ হতে না হতেই বাঁধ ধসে যাওয়ায় গোবিন্দপুর ও এর আশপাশের এলাকার শত শত পরিবার এখন নতুন করে নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন "সরকার আমাদের নদী ভাঙন থেকে বাঁচাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে, আর ঠিকাদাররা চুরি করে ফাঁকি দিয়ে কাজ করায় সামান্য পানিতেই সব ধসে গেল। আমরা এখন ঘরবাড়ি হারানোর ঝুঁকিতে আছি। এই অনিয়মের বিচার চাই।"

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ বুঝে নেওয়ার আগেই এই ধসের ঘটনা ঘটায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। 

তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন কবলিত এলাকায় পাউবো বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ধসের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত বাঁধটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

নদী পাড়ের মানুষের দাবি, অনতিবিলম্বে এই অনিয়মের তদন্ত করে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যমুনার গ্রাস থেকে গোবিন্দপুর এলাকাকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে টেকসই সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


সাঘাটায় যমুনার তীর ভাঙন রক্ষার স্লোপিং ব্লকে ধস: আতঙ্কে শত শত পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image




গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিসি ব্লক এবং জিও ব্যাগ ডাম্পিং বাঁধে ভয়াবহ ধস নেমেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যমুনা নদীর পানির সামান্য চাপেই ১০ নম্বর সাইডের ব্লকগুলো ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিডিউল বহির্ভূত গাফিলতির কাজ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার আগেই এই ধসের ঘটনায় স্থানীয় শত শত পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে শুরু থেকেই অনিয়ম হয়েছে। ব্লক স্লোপিং (ঢালু করা) করার ক্ষেত্রে যে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও সিডিউল ছিল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার পায়তারা করেছিল ।


নদী তীরের মাটি সঠিকভাবে ভরাট ও বিন্যস্ত না করেই সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার কারণে আজ পানির সামান্য চাপ আসতেই বাঁধটি তা সহ্য করতে পারেনি। চোখের পলকেই ১০ নং সাইডের বিশাল অংশের ব্লকগুলো ধসে নদীর পানিতে নিমজ্জিত হয়।


বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বাঁধের এই নাজুক দশা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন যমুনা পাড়ের মানুষ। কাজ শেষ হতে না হতেই বাঁধ ধসে যাওয়ায় গোবিন্দপুর ও এর আশপাশের এলাকার শত শত পরিবার এখন নতুন করে নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।


স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন "সরকার আমাদের নদী ভাঙন থেকে বাঁচাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে, আর ঠিকাদাররা চুরি করে ফাঁকি দিয়ে কাজ করায় সামান্য পানিতেই সব ধসে গেল। আমরা এখন ঘরবাড়ি হারানোর ঝুঁকিতে আছি। এই অনিয়মের বিচার চাই।"


পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ বুঝে নেওয়ার আগেই এই ধসের ঘটনা ঘটায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। 


তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন কবলিত এলাকায় পাউবো বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ধসের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত বাঁধটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।


নদী পাড়ের মানুষের দাবি, অনতিবিলম্বে এই অনিয়মের তদন্ত করে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যমুনার গ্রাস থেকে গোবিন্দপুর এলাকাকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে টেকসই সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা