দৈনিক লাল বার্তা

বাগমারায় ডাকাতিয়া নদী ও সড়কপাড়ে ময়লার ভাগাড়



বাগমারায় ডাকাতিয়া নদী ও সড়কপাড়ে ময়লার ভাগাড়

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাগমারা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। ফলে বাজারের সব ধরনের বর্জ্য প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে নতুন ডাকাতিয়া নদী ও মহাসড়কের পাশে। এতে করে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।

কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক ও নতুন ডাকাতিয়া নদী বাজারটি দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাগমারা বাজারের গুরুত্ব অনেক বেশি। বাজারটির বেশিরভাগ অংশ বাগমারা দক্ষণি ইউনিয়নের আওতাভুক্ত। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজারে সরকারি বা স্থানীয় কোনো উদ্যােগে ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়নি। ফলে বাজারের ব্যবসায়ী, রেস্টুরেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংগ্রহ করা ময়লা প্রতিদিন বাগমারা উত্তর বাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নদীতে ফেলা হচ্ছে।

নতুন কেউ এ এলাকায় এলে দূর থেকে দেখে বুঝার উপায় নেই এটি একটি নদী। ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়ে নদীর ওই অংশটি এখন প্রায়  বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্লাস্টিক, পলিথিন, পচা খাদ্যদ্রব্য ও নানা ধরনের  বর্জ্যের কারণে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ।

এছাড়া বাগমারা উত্তর বাজারের কিছু ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সৈয়দপুর আবাসিক এলাকার বাসাবাড়ির ময়লাও ফেলা হচ্ছে আল ইসরা মাদরাসার উত্তরে মহাসড়কের পাশে। এতে করে সড়কপাড়ে তৈরি হয়েছে আরেকটি অঘোষিত ময়লার ভাগাড়। প্রতিদিন জমতে থাকা এসব বর্জ্যে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজারের মধ্য ও উত্তর এলাকায় দুটি অঘোষিত ময়লার ভাগাড় তৈরি হওয়ায় পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আশপাশের স্কুল ও মাদরাসায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। ময়লার স্তুপের পাশ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

বাগমারা বাজারের বাসিন্দা কাজী ইয়াকুব আলী নিমেল বলেন, নিদিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে নদী কিংবা সড়কের পাশে ময়লা ফেলছেন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাজারের সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ডাস্টবিন স্থাপন ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।

বাগমারা দক্ষণি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন বলেন, বাজারে নিদিষ্ট করে ডাস্টবিন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, বাগমারা বাজারে যত্রতত্র ময়লা ফেলার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। পরিবেশ দূষণ রোধে বাজারে ডাস্টবিন স্থাপন এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষপে নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


বাগমারায় ডাকাতিয়া নদী ও সড়কপাড়ে ময়লার ভাগাড়

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image



কুমিল্লার লালমাই উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাগমারা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। ফলে বাজারের সব ধরনের বর্জ্য প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে নতুন ডাকাতিয়া নদী ও মহাসড়কের পাশে। এতে করে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।


কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক ও নতুন ডাকাতিয়া নদী বাজারটি দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাগমারা বাজারের গুরুত্ব অনেক বেশি। বাজারটির বেশিরভাগ অংশ বাগমারা দক্ষণি ইউনিয়নের আওতাভুক্ত। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজারে সরকারি বা স্থানীয় কোনো উদ্যােগে ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়নি। ফলে বাজারের ব্যবসায়ী, রেস্টুরেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংগ্রহ করা ময়লা প্রতিদিন বাগমারা উত্তর বাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নদীতে ফেলা হচ্ছে।


নতুন কেউ এ এলাকায় এলে দূর থেকে দেখে বুঝার উপায় নেই এটি একটি নদী। ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়ে নদীর ওই অংশটি এখন প্রায়  বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্লাস্টিক, পলিথিন, পচা খাদ্যদ্রব্য ও নানা ধরনের  বর্জ্যের কারণে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ।


এছাড়া বাগমারা উত্তর বাজারের কিছু ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সৈয়দপুর আবাসিক এলাকার বাসাবাড়ির ময়লাও ফেলা হচ্ছে আল ইসরা মাদরাসার উত্তরে মহাসড়কের পাশে। এতে করে সড়কপাড়ে তৈরি হয়েছে আরেকটি অঘোষিত ময়লার ভাগাড়। প্রতিদিন জমতে থাকা এসব বর্জ্যে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজারের মধ্য ও উত্তর এলাকায় দুটি অঘোষিত ময়লার ভাগাড় তৈরি হওয়ায় পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আশপাশের স্কুল ও মাদরাসায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। ময়লার স্তুপের পাশ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।


বাগমারা বাজারের বাসিন্দা কাজী ইয়াকুব আলী নিমেল বলেন, নিদিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে নদী কিংবা সড়কের পাশে ময়লা ফেলছেন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাজারের সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ডাস্টবিন স্থাপন ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।


বাগমারা দক্ষণি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন বলেন, বাজারে নিদিষ্ট করে ডাস্টবিন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।


লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, বাগমারা বাজারে যত্রতত্র ময়লা ফেলার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। পরিবেশ দূষণ রোধে বাজারে ডাস্টবিন স্থাপন এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষপে নেওয়া হবে।



দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা