ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের উপচে পড়া চাপের মধ্যে যমুনা সেতুতে মাত্র ২৩ ঘণ্টায় ছোট-বড় ২৪টি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট, যার প্রভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর সেতুর পশ্চিমপাড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত সেতুর ওপরে ছোট-বড় ২৪টি দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি দুর্ঘটনার পর রেকার ব্যবহার করে যানবাহন উদ্ধার করতে হয়েছে।
দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের কারণে কখনো সেতুর এক লেন, আবার কখনো উভয় লেন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।
রাত ৯টার দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১১টার পর থেকে সেতুর পূর্বপাড়ের (ঢাকামুখী) যানবাহন পারাপার সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। এরপর সেতুর প্রতিটি লেন ব্যবহার করে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহন পারাপার শুরু করে প্রশাসন।
অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও যানজটের কারণ
পোশাক কারখানা খোলার আগের দিন হওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে। ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন,"পশ্চিম টোলপ্লাজা পার হওয়ার পরপরই যানবাহন বিকল হওয়া এবং একটির পেছনে আরেকটির ধাক্কা লাগাসহ নানা কারণে সেতুর ওপর যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত চাপের কারণে বর্তমানে যেকোনো একটি গাড়ি বিকল হলেই পেছনে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।"
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এই মহাসড়ক দিয়ে সাধারণ সময়ে দৈনিক ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের এই সময়ে তা বেড়ে ৫০ হাজার অতিক্রম করেছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই সেতুর দুই পাড়ে স্থবিরতা নেমে আসে। সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসের চালক রুবেল শেখ জানান, সকাল ১০টার দিকে যমুনা সেতু পার হওয়ার সময় তিনি পশ্চিমপাড়ে টানা ৫ ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলেন। এরপর রাতে কোনাবড়ি থেকে ফেরার পথেও টাঙ্গাইলের এলাঙ্গায় এসে সেতুর পূর্বপাড়ে পুনরায় যানজটের মুখে পড়েন।
মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক সিসি টিভি এবং ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলা পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও মহাসড়কের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়মিত লাইভ ও পোস্টের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এই অপ্রত্যাশিত যানজট ও জনদুর্ভোগের কারণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের উপচে পড়া চাপের মধ্যে যমুনা সেতুতে মাত্র ২৩ ঘণ্টায় ছোট-বড় ২৪টি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট, যার প্রভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর সেতুর পশ্চিমপাড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত সেতুর ওপরে ছোট-বড় ২৪টি দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি দুর্ঘটনার পর রেকার ব্যবহার করে যানবাহন উদ্ধার করতে হয়েছে।
দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের কারণে কখনো সেতুর এক লেন, আবার কখনো উভয় লেন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।
রাত ৯টার দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১১টার পর থেকে সেতুর পূর্বপাড়ের (ঢাকামুখী) যানবাহন পারাপার সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। এরপর সেতুর প্রতিটি লেন ব্যবহার করে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহন পারাপার শুরু করে প্রশাসন।
অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও যানজটের কারণ
পোশাক কারখানা খোলার আগের দিন হওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে। ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন,"পশ্চিম টোলপ্লাজা পার হওয়ার পরপরই যানবাহন বিকল হওয়া এবং একটির পেছনে আরেকটির ধাক্কা লাগাসহ নানা কারণে সেতুর ওপর যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত চাপের কারণে বর্তমানে যেকোনো একটি গাড়ি বিকল হলেই পেছনে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।"
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এই মহাসড়ক দিয়ে সাধারণ সময়ে দৈনিক ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের এই সময়ে তা বেড়ে ৫০ হাজার অতিক্রম করেছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই সেতুর দুই পাড়ে স্থবিরতা নেমে আসে। সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসের চালক রুবেল শেখ জানান, সকাল ১০টার দিকে যমুনা সেতু পার হওয়ার সময় তিনি পশ্চিমপাড়ে টানা ৫ ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলেন। এরপর রাতে কোনাবড়ি থেকে ফেরার পথেও টাঙ্গাইলের এলাঙ্গায় এসে সেতুর পূর্বপাড়ে পুনরায় যানজটের মুখে পড়েন।
মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক সিসি টিভি এবং ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলা পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও মহাসড়কের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়মিত লাইভ ও পোস্টের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এই অপ্রত্যাশিত যানজট ও জনদুর্ভোগের কারণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন