দৈনিক লাল বার্তা

চা শিল্পে রেকর্ড গড়েছে, শ্রমিকদের ভাগ্য বদলায়নি



চা শিল্পে রেকর্ড গড়েছে, শ্রমিকদের ভাগ্য বদলায়নি

বাংলাদেশে সর্বশেষ মৌসুমে চা উৎপাদনের ১৭১ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চপরিমাণ উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে। চা বোর্ডের প্রকাশিত তথ্যঅনুযায়ী, ২০১৯ সালে চা উৎপাদিত হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি। তবে চা শিল্পের এই অগ্রগতি হলেও চা শ্রমিকদের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ চা বোর্ড (বিটিবি) সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া চা উৎপাদন মৌসুমে দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ৮২ দশমিক ১৩ মিলিয়ন কেজি, যা ওই বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ওই বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২ দশমিক ৩ মিলিয়ন কেজি। এর আগে ২০১৬ সালে সব রেকর্ড ভেঙে উৎপাদন হয়েছিল ৮৫ দশমিক শূন্য পাঁচ মিলিয়ন কেজি।

ট্রেড ইউনিয়ন মৌলভীবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস বলেন, সারাদিন কাজের পর একজন চা শ্রমিকের আয় হয় মাত্র ১৮৭ টাকা। তাদের নেই পর্যাপ্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। অনেক শ্রমিক কাজ না করলে মাথা গোঁজার ঠাঁইও হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, কিছু বাগানে শ্রমিকদের নেশার মধ্যে রাখার অভিযোগ রয়েছে। অনেক জায়গায় শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া কঠিন করে রাখা হয়।

জুলেখা চা বাগানের শ্রমিক মেনকা সাঁওতাল জানান, স্বাধীনতার এত বছর পরও তাদের জীবনমানের কোনো উন্নতি হয়নি। তারা এখনও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী জানান, দেশে চা জনগোষ্ঠী প্রায় ৭ লাখ। এর মধ্যে নিবন্ধিত শ্রমিক প্রায় ৯৮ হাজার এবং অনিয়মিত শ্রমিক প্রায় ৩০ হাজার। একজন শ্রমিকের সাপ্তাহিক বেতন প্রায় ১৩০০ টাকা এবং কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যসামগ্রী (চাল বা আটা) দেওয়া হয়।

দেওরাছড়া চা বাগানের শ্রমিক বৃটিশ ঘাটুয়াল বলেন, অনেক পরিবারে একমাত্র একজন উপার্জন করেন, বাকিরা সেই সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ছোট ভাঙা ঘরে গবাদিপশু ও সন্তান নিয়ে তাদের বসবাস করতে হয়।

সিলেট চা জনগোষ্ঠী ছাত্র যুব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি দিলিপ কুর্মী বলেন, সুযোগ-সুবিধা মূলত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বয়স্ক শ্রমিকরা চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হন।

বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদের উপদেষ্টা দেবাশীষ যাদব বলেন, চা শ্রমিকদের জাতিগত পরিচয় ও স্বীকৃতি এখনো পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যদিও তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু ধলাই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরি বলেন, শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে না দেওয়ার পরিবেশ রয়েছে। অনেক বাগানে সহজে মদের দোকান থাকায় শ্রমিকদের দুর্বল করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ চা সংসদ সিলেট ভ্যালির সভাপতি জি এম শিবলী বলেন, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


চা শিল্পে রেকর্ড গড়েছে, শ্রমিকদের ভাগ্য বদলায়নি

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image




বাংলাদেশে সর্বশেষ মৌসুমে চা উৎপাদনের ১৭১ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চপরিমাণ উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে। চা বোর্ডের প্রকাশিত তথ্যঅনুযায়ী, ২০১৯ সালে চা উৎপাদিত হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি। তবে চা শিল্পের এই অগ্রগতি হলেও চা শ্রমিকদের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।


বাংলাদেশ চা বোর্ড (বিটিবি) সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া চা উৎপাদন মৌসুমে দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ৮২ দশমিক ১৩ মিলিয়ন কেজি, যা ওই বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ওই বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২ দশমিক ৩ মিলিয়ন কেজি। এর আগে ২০১৬ সালে সব রেকর্ড ভেঙে উৎপাদন হয়েছিল ৮৫ দশমিক শূন্য পাঁচ মিলিয়ন কেজি।


ট্রেড ইউনিয়ন মৌলভীবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস বলেন, সারাদিন কাজের পর একজন চা শ্রমিকের আয় হয় মাত্র ১৮৭ টাকা। তাদের নেই পর্যাপ্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। অনেক শ্রমিক কাজ না করলে মাথা গোঁজার ঠাঁইও হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন।


তিনি আরও বলেন, কিছু বাগানে শ্রমিকদের নেশার মধ্যে রাখার অভিযোগ রয়েছে। অনেক জায়গায় শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া কঠিন করে রাখা হয়।


জুলেখা চা বাগানের শ্রমিক মেনকা সাঁওতাল জানান, স্বাধীনতার এত বছর পরও তাদের জীবনমানের কোনো উন্নতি হয়নি। তারা এখনও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।


বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী জানান, দেশে চা জনগোষ্ঠী প্রায় ৭ লাখ। এর মধ্যে নিবন্ধিত শ্রমিক প্রায় ৯৮ হাজার এবং অনিয়মিত শ্রমিক প্রায় ৩০ হাজার। একজন শ্রমিকের সাপ্তাহিক বেতন প্রায় ১৩০০ টাকা এবং কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যসামগ্রী (চাল বা আটা) দেওয়া হয়।


দেওরাছড়া চা বাগানের শ্রমিক বৃটিশ ঘাটুয়াল বলেন, অনেক পরিবারে একমাত্র একজন উপার্জন করেন, বাকিরা সেই সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ছোট ভাঙা ঘরে গবাদিপশু ও সন্তান নিয়ে তাদের বসবাস করতে হয়।


সিলেট চা জনগোষ্ঠী ছাত্র যুব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি দিলিপ কুর্মী বলেন, সুযোগ-সুবিধা মূলত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বয়স্ক শ্রমিকরা চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হন।


বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদের উপদেষ্টা দেবাশীষ যাদব বলেন, চা শ্রমিকদের জাতিগত পরিচয় ও স্বীকৃতি এখনো পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যদিও তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে।


চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু ধলাই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরি বলেন, শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে না দেওয়ার পরিবেশ রয়েছে। অনেক বাগানে সহজে মদের দোকান থাকায় শ্রমিকদের দুর্বল করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


বাংলাদেশ চা সংসদ সিলেট ভ্যালির সভাপতি জি এম শিবলী বলেন, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চলছে।



দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা