সাব্বির মির্জা:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শুরু হয়েছে বোরো ধানকাটা মাড়াই। আর এ ধান কাটাকে কেন্দ্র করে কৃষি শ্রমিকের হাটগুলো এখন জমজমাট। উপজেলার বর্তমানে ধানকাটা শ্রমিকের মজুরি ৮শ থেকে সাড়ে ৮শ টাকা। মজুরি ছাড়াও দুই বেলা খাবার দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের।
প্রতিদিন ফজর নামাজের পর থেকে উপজেলার বোয়ালীয়া ও কৃষ্ণা দিঘী বাজার এলাকায় কৃষি শ্রমিকের হাট বসে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার ২২হাজার এখন পর্যন্ত ২৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ হয়েছে। বাকি ধানকাটা অব্যাহত রয়েছে।
আশপাশের গ্রাম থেকে ধান কাটার কৃষি শ্রমিকরা দলে দলে ধান কাটার কাঁচি, ধানের আঁটি বহন করার প্রয়োজনীয় রশি ও স্থানীয় ভাষায় বাঁশের তৈরি ভাং নিয়ে হাটগুলোতে শ্রম বিক্রির জন্য হাজির হচ্ছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকরা সেখানে এসে মজুরির দাম দর বনিবনা হওয়ার পর ওই কৃষি শ্রমিকদের কাজের স্থলে নিয়ে যান। কাছে হলে হেঁটে এবং দূরে হলে অটোরিকশায় করে কৃষি শ্রমিকদের ধানের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।
কাউরাইল গ্রাম থেকে আসা ধানকাটা শ্রমিক আব্দুল আজিজ, সজিব হোসেন জানান, গত তিন দিন ধরে বোয়ালিয়া গ্রামের দুইজন কৃষকের কয়েক বিঘা জমির ধান কাটা শেষ করেছেন। দলে ৬ জন সদস্য। নতুন কাজের আশায় হাটে এসেছেন। নতুন একজনের সঙ্গে দরদাম চলছে।এক হাজার টাকা মজুরি চেয়েছি, মালিকপক্ষ বলেছে সাড়ে ৮০০ টাকা। দরদাম ঠিক হলে ধানকাটতে চলে যাব।
উপজেলার জাহাঙ্গীর গাতি গ্রামের প্রান্তিক কৃষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ৬ বিঘা জমির ধান পেকে গেছে। স্থানীয়ভাবে ধানকাটা শ্রমিকের সংকট রয়েছে। যেকোনো সময় বৃষ্টি আসতে পারে। তাই শ্রমিক ভাড়া করতে বোয়ালীয়া হাটে এসেছি। প্রতিবছর এখান থেকে শ্রমিক নেওয়া হয়। এবার শ্রমিকের মজুরি বেশি। জনপ্রতি সাড়ে ৮০০ টাকা বলার পরও শ্রমিকরা যেতে রাজি হচ্ছেন না। তাদের চাহিদা জনপ্রতি এক হাজার টাকা। কাজ করবেন সকাল ৬ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জমজমাট থাকে কৃষি শ্রমিকের (স্থানীয় ভাষায় কামলা) হাট। কৃষকদের মধ্যেও প্রতিযোগিতা চলে কার আগে কে শ্রমিকদের চাহিদা অনুযায়ী মজুরির বিষয়টি ফয়সালা করে মাঠে নিয়ে যাবেন। যার ফলে ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যেই কৃষি শ্রমিকে সরগরম হাট ফাঁকা হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, তাড়াশে বোরোধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ধানকাটা শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে বাকি ধানকাটা সম্পন্ন হবে। তিনি আরো বলেন, উজেলার বোয়ালীয়া,কৃষ্ণ দিঘী বাজারে ধানকাটা শ্রমিকের হাট রয়েছে। অনেক উপজেলায় এমন হাট চোখে মেলেনি। সঠিক মজুরি মেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেতে ধানকাটা শ্রমিকরা এই হাটে আসেন।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
সাব্বির মির্জা:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শুরু হয়েছে বোরো ধানকাটা মাড়াই। আর এ ধান কাটাকে কেন্দ্র করে কৃষি শ্রমিকের হাটগুলো এখন জমজমাট। উপজেলার বর্তমানে ধানকাটা শ্রমিকের মজুরি ৮শ থেকে সাড়ে ৮শ টাকা। মজুরি ছাড়াও দুই বেলা খাবার দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের।
প্রতিদিন ফজর নামাজের পর থেকে উপজেলার বোয়ালীয়া ও কৃষ্ণা দিঘী বাজার এলাকায় কৃষি শ্রমিকের হাট বসে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার ২২হাজার এখন পর্যন্ত ২৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ হয়েছে। বাকি ধানকাটা অব্যাহত রয়েছে।
আশপাশের গ্রাম থেকে ধান কাটার কৃষি শ্রমিকরা দলে দলে ধান কাটার কাঁচি, ধানের আঁটি বহন করার প্রয়োজনীয় রশি ও স্থানীয় ভাষায় বাঁশের তৈরি ভাং নিয়ে হাটগুলোতে শ্রম বিক্রির জন্য হাজির হচ্ছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকরা সেখানে এসে মজুরির দাম দর বনিবনা হওয়ার পর ওই কৃষি শ্রমিকদের কাজের স্থলে নিয়ে যান। কাছে হলে হেঁটে এবং দূরে হলে অটোরিকশায় করে কৃষি শ্রমিকদের ধানের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।
কাউরাইল গ্রাম থেকে আসা ধানকাটা শ্রমিক আব্দুল আজিজ, সজিব হোসেন জানান, গত তিন দিন ধরে বোয়ালিয়া গ্রামের দুইজন কৃষকের কয়েক বিঘা জমির ধান কাটা শেষ করেছেন। দলে ৬ জন সদস্য। নতুন কাজের আশায় হাটে এসেছেন। নতুন একজনের সঙ্গে দরদাম চলছে।এক হাজার টাকা মজুরি চেয়েছি, মালিকপক্ষ বলেছে সাড়ে ৮০০ টাকা। দরদাম ঠিক হলে ধানকাটতে চলে যাব।
উপজেলার জাহাঙ্গীর গাতি গ্রামের প্রান্তিক কৃষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ৬ বিঘা জমির ধান পেকে গেছে। স্থানীয়ভাবে ধানকাটা শ্রমিকের সংকট রয়েছে। যেকোনো সময় বৃষ্টি আসতে পারে। তাই শ্রমিক ভাড়া করতে বোয়ালীয়া হাটে এসেছি। প্রতিবছর এখান থেকে শ্রমিক নেওয়া হয়। এবার শ্রমিকের মজুরি বেশি। জনপ্রতি সাড়ে ৮০০ টাকা বলার পরও শ্রমিকরা যেতে রাজি হচ্ছেন না। তাদের চাহিদা জনপ্রতি এক হাজার টাকা। কাজ করবেন সকাল ৬ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জমজমাট থাকে কৃষি শ্রমিকের (স্থানীয় ভাষায় কামলা) হাট। কৃষকদের মধ্যেও প্রতিযোগিতা চলে কার আগে কে শ্রমিকদের চাহিদা অনুযায়ী মজুরির বিষয়টি ফয়সালা করে মাঠে নিয়ে যাবেন। যার ফলে ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যেই কৃষি শ্রমিকে সরগরম হাট ফাঁকা হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, তাড়াশে বোরোধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ধানকাটা শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে বাকি ধানকাটা সম্পন্ন হবে। তিনি আরো বলেন, উজেলার বোয়ালীয়া,কৃষ্ণ দিঘী বাজারে ধানকাটা শ্রমিকের হাট রয়েছে। অনেক উপজেলায় এমন হাট চোখে মেলেনি। সঠিক মজুরি মেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেতে ধানকাটা শ্রমিকরা এই হাটে আসেন।

আপনার মতামত লিখুন