চারদিকে সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। কোথাও চলছে নতুন করে সংস্কারকাজ। অথচ মাঝখানের মাত্র ২০ হাত সড়ক পড়ে আছে বেহাল অবস্থায়। দেড় বছর ধরে খানাখন্দে ভরা এই অংশ যেন পথচারী ও যানবাহন চালকদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলেই গর্তে জমে পানি। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। ইতিমধ্যে একটি ইজিবাইক উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করেন প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগী ও স্বজনরাও।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ চৌরাস্তায় এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের সড়ক একাধিকবার সংস্কার করা হলেও মাঝখানের সামান্য এই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এতে সাধারণ পথচারী, যানবাহনের চালক থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সময় চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই চৌরাস্তার একদিকে উপজেলা পরিষদ ও পানি সম্পদ কার্যালয়, অন্যদিকে রায়গঞ্জ থানা কার্যালয় এবং অপর দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসা মানুষ ছাড়াও বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা ও বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা এই পথ ব্যবহার করেন। সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষের যাতায়াত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চৌরাস্তাটির দুই পাশের সড়ক প্রায় এক বছর আগে সংস্কার করা হয়েছে। ছয় মাস আগে সড়কের অন্য অংশেরও সংস্কারকাজ হয়েছে। বর্তমানে বাকি অংশের সংস্কারকাজ চলমান। তবে মাঝখানের প্রায় ২০ হাত জায়গা দেড় বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন সড়কটির এই অংশ কেন সংস্কারের বাইরে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
পথচারী ফাহিম হাসান বলেন, চারপাশের রাস্তা সংস্কার করা হলেও মাঝখানের এই অংশটি পড়ে আছে। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। সামান্য এই অংশ সংস্কার না হওয়ায় পুরো চৌরাস্তার চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
অটোরিকশাচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, খানাখন্দের কারণে এই অংশ দিয়ে যানবাহন চালানো কঠিন। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে, তা বোঝা যায় না। এতে যাত্রী নিয়ে চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীর স্বজন মনিরুল ইসলাম বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসার সময় সড়কের এই অংশে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যানবাহন গর্তে পড়লে রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। হাসপাতালমুখী সড়কের এমন অবস্থা দ্রুত ঠিক করা দরকার।
স্থানীয় দোকানদার মনিরুল ইসলাম মনি ও নাহিদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এই অংশের বেহাল অবস্থা দেখছেন তাঁরা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেই। তাঁদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগস্থলে এমন বেহাল সড়ক কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ইজিবাইক উল্টে যাওয়ার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জিয়াউর রহমান বলেন, খানাখন্দে পড়ে একটি ইজিবাইক উল্টে যেতে দেখেছেন তিনি। সড়কের এমন অবস্থায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংস্কার না হলে পথচারী ও চালকদের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
ইজিবাইকচালক শামছুল হক বলেন, প্রতিদিন এই পথে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে হয়। গর্তে পানি জমে থাকলে সেগুলো এড়িয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও রোগীদের নিয়ে চলাচলের সময় বেশি সতর্ক থাকতে হয়। সড়কটি সংস্কার হলে চালক ও যাত্রী—দুই পক্ষেরই দুর্ভোগ কমবে।
স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নিন। একই সঙ্গে আশপাশের সড়কের সংস্কারকাজের সঙ্গে বাদ পড়া অংশটির সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত জনভোগান্তি নিরসনের ব্যবস্থা করা হবে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
চারদিকে সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। কোথাও চলছে নতুন করে সংস্কারকাজ। অথচ মাঝখানের মাত্র ২০ হাত সড়ক পড়ে আছে বেহাল অবস্থায়। দেড় বছর ধরে খানাখন্দে ভরা এই অংশ যেন পথচারী ও যানবাহন চালকদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলেই গর্তে জমে পানি। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। ইতিমধ্যে একটি ইজিবাইক উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করেন প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগী ও স্বজনরাও।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ চৌরাস্তায় এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের সড়ক একাধিকবার সংস্কার করা হলেও মাঝখানের সামান্য এই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এতে সাধারণ পথচারী, যানবাহনের চালক থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সময় চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই চৌরাস্তার একদিকে উপজেলা পরিষদ ও পানি সম্পদ কার্যালয়, অন্যদিকে রায়গঞ্জ থানা কার্যালয় এবং অপর দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসা মানুষ ছাড়াও বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা ও বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা এই পথ ব্যবহার করেন। সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষের যাতায়াত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চৌরাস্তাটির দুই পাশের সড়ক প্রায় এক বছর আগে সংস্কার করা হয়েছে। ছয় মাস আগে সড়কের অন্য অংশেরও সংস্কারকাজ হয়েছে। বর্তমানে বাকি অংশের সংস্কারকাজ চলমান। তবে মাঝখানের প্রায় ২০ হাত জায়গা দেড় বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন সড়কটির এই অংশ কেন সংস্কারের বাইরে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
পথচারী ফাহিম হাসান বলেন, চারপাশের রাস্তা সংস্কার করা হলেও মাঝখানের এই অংশটি পড়ে আছে। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। সামান্য এই অংশ সংস্কার না হওয়ায় পুরো চৌরাস্তার চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
অটোরিকশাচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, খানাখন্দের কারণে এই অংশ দিয়ে যানবাহন চালানো কঠিন। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে, তা বোঝা যায় না। এতে যাত্রী নিয়ে চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীর স্বজন মনিরুল ইসলাম বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসার সময় সড়কের এই অংশে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যানবাহন গর্তে পড়লে রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। হাসপাতালমুখী সড়কের এমন অবস্থা দ্রুত ঠিক করা দরকার।
স্থানীয় দোকানদার মনিরুল ইসলাম মনি ও নাহিদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এই অংশের বেহাল অবস্থা দেখছেন তাঁরা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেই। তাঁদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগস্থলে এমন বেহাল সড়ক কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ইজিবাইক উল্টে যাওয়ার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জিয়াউর রহমান বলেন, খানাখন্দে পড়ে একটি ইজিবাইক উল্টে যেতে দেখেছেন তিনি। সড়কের এমন অবস্থায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংস্কার না হলে পথচারী ও চালকদের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
ইজিবাইকচালক শামছুল হক বলেন, প্রতিদিন এই পথে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে হয়। গর্তে পানি জমে থাকলে সেগুলো এড়িয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও রোগীদের নিয়ে চলাচলের সময় বেশি সতর্ক থাকতে হয়। সড়কটি সংস্কার হলে চালক ও যাত্রী—দুই পক্ষেরই দুর্ভোগ কমবে।
স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নিন। একই সঙ্গে আশপাশের সড়কের সংস্কারকাজের সঙ্গে বাদ পড়া অংশটির সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত জনভোগান্তি নিরসনের ব্যবস্থা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন