সাতক্ষীরায় দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী দুর্গাপ্রতিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। দাহ্য পদার্থ দিয়ে প্রতিমা তৈরি করায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিমার শরীর থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর শ্রী শ্রী সর্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে এ নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।
ভ্রমরাজপুর শ্রী শ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সহকেশিয়ার অমিত ঘোষ জানান, প্রায় দুই মাসের নিরলস পরিশ্রমে দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা তৈরি করেন শিল্পীরা। তবে দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় প্রতিমা থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় প্রশাসন।
শারদীয় দুর্গা উৎসবের ষষ্ঠী পূজার আর মাত্র এক দিন বাকি থাকায় নতুন করে প্রতিমা সাজানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আয়োজকেরা।
এত অল্প সময়ে প্রতিমার সাজসজ্জা সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রমের উদ্যোগ নিয়েছে মন্দির কমিটি।
এদিকে স্থানীয় ভক্তবৃন্দের দাবি, ইতোমধ্যে পূজার মঙ্গলঘট স্থাপন করা হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রতিমার গা থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি খুলে ফেলতে গিয়ে তাদের মনে হচ্ছ যেন নিজেদের শরীরেই আঘাত লাগছে। তাদের প্রশ্ন, পূজার এই পর্যায়ে প্রতিমার পরিবর্তন কতটা মঙ্গল বয়ে আনবে, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে তাদের মধ্যে।
প্রতিমা শিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, দিয়াশলাইয়ের কাঠি অপসারণের পর তিল ও কিশমিশ দিয়ে প্রতিমাকে নতুনভাবে সাজানো হবে। এ কাজে প্রতিমাশিল্পীসহ ১০ থেকে ১২ জন কাজ করছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ করে ষষ্ঠী পূজার আগেই দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিমাটি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
ব্রহ্মরাজপুর পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি উজ্জ্বল মিত্র জানান, দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে প্রতিমা তৈরিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন নতুন করে তিল ও কিশমিশ দিয়ে প্রতিমা সাজাতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। এতে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন আয়োজকেরা।
তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে প্রতিমা তৈরির খরচ দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে ব্যতিক্রমী এই প্রতিমাকে নতুন রূপ দিতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দর্শনার্থীদের সামনে প্রতিমাটি উপস্থাপন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও আশাবাদী মন্দির কমিটি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে তৈরি এই দুর্গাপ্রতিমার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিমা থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসন ও স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতায় নতুন করে তিল ও কিসমিস দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, আজ দুপুর ২টার মধ্যে প্রতিমা তৈরির সব কাজ শেষ হবে। ফলে আগামীকাল শুক্রবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়েই পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন তারা।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সাতক্ষীরায় দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী দুর্গাপ্রতিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। দাহ্য পদার্থ দিয়ে প্রতিমা তৈরি করায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিমার শরীর থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর শ্রী শ্রী সর্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে এ নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।
ভ্রমরাজপুর শ্রী শ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সহকেশিয়ার অমিত ঘোষ জানান, প্রায় দুই মাসের নিরলস পরিশ্রমে দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা তৈরি করেন শিল্পীরা। তবে দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় প্রতিমা থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় প্রশাসন।
শারদীয় দুর্গা উৎসবের ষষ্ঠী পূজার আর মাত্র এক দিন বাকি থাকায় নতুন করে প্রতিমা সাজানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আয়োজকেরা।
এত অল্প সময়ে প্রতিমার সাজসজ্জা সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রমের উদ্যোগ নিয়েছে মন্দির কমিটি।
এদিকে স্থানীয় ভক্তবৃন্দের দাবি, ইতোমধ্যে পূজার মঙ্গলঘট স্থাপন করা হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রতিমার গা থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি খুলে ফেলতে গিয়ে তাদের মনে হচ্ছ যেন নিজেদের শরীরেই আঘাত লাগছে। তাদের প্রশ্ন, পূজার এই পর্যায়ে প্রতিমার পরিবর্তন কতটা মঙ্গল বয়ে আনবে, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে তাদের মধ্যে।
প্রতিমা শিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, দিয়াশলাইয়ের কাঠি অপসারণের পর তিল ও কিশমিশ দিয়ে প্রতিমাকে নতুনভাবে সাজানো হবে। এ কাজে প্রতিমাশিল্পীসহ ১০ থেকে ১২ জন কাজ করছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ করে ষষ্ঠী পূজার আগেই দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিমাটি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
ব্রহ্মরাজপুর পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি উজ্জ্বল মিত্র জানান, দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে প্রতিমা তৈরিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন নতুন করে তিল ও কিশমিশ দিয়ে প্রতিমা সাজাতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। এতে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন আয়োজকেরা।
তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে প্রতিমা তৈরির খরচ দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে ব্যতিক্রমী এই প্রতিমাকে নতুন রূপ দিতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দর্শনার্থীদের সামনে প্রতিমাটি উপস্থাপন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও আশাবাদী মন্দির কমিটি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে তৈরি এই দুর্গাপ্রতিমার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিমা থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসন ও স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতায় নতুন করে তিল ও কিসমিস দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, আজ দুপুর ২টার মধ্যে প্রতিমা তৈরির সব কাজ শেষ হবে। ফলে আগামীকাল শুক্রবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়েই পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন