সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে এবার লাভের মুখ দেখার আশা করছেন চাষিরা। গত বছরের লোকসানও অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ব্যস্ততা। সড়কের পাশের খাল, ডোবা ও নালায় পাটের আঁটি জাগ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও শ্রমিকরা পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কোথাও বাড়ির উঠান ও খোলা জায়গায় শুকানো হচ্ছে আঁশ। পাট প্রক্রিয়াজাতকরণকে ঘিরে গ্রামীণ জনপদে সৃষ্টি হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য।
উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের কালিয়াবিল গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে কিছুটা লাভের আশা করছেন তারা।
কৃষক মো. আব্দুল আজিজ ফেকু বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে গত বছরের লোকসান অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
কৃষকেরা জানান, পাট চাষে বীজ, সার, শ্রমিক, জমি প্রস্তুত, কাটা ও জাগ দেওয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় হয়। বিশেষ করে পাট কাটার মৌসুমে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে গেলে উৎপাদন খরচও বাড়ে। তাই ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য পাওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের দাবি, পাটের বাজার স্থিতিশীল রাখা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে। এতে আগামী মৌসুমে কৃষকেরা এ ফসলের আবাদ বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মমিনুল হক জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘায় গড়ে ৮ থেকে ৯ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হয়েছে।
তিনি বলেন, পাট চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বীজ বপন থেকে শুরু করে পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের প্রত্যাশা, ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে আগামী মৌসুমে রায়গঞ্জে পাটের আবাদ আরও বাড়বে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশের উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে এবার লাভের মুখ দেখার আশা করছেন চাষিরা। গত বছরের লোকসানও অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ব্যস্ততা। সড়কের পাশের খাল, ডোবা ও নালায় পাটের আঁটি জাগ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও শ্রমিকরা পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কোথাও বাড়ির উঠান ও খোলা জায়গায় শুকানো হচ্ছে আঁশ। পাট প্রক্রিয়াজাতকরণকে ঘিরে গ্রামীণ জনপদে সৃষ্টি হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য।
উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের কালিয়াবিল গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে কিছুটা লাভের আশা করছেন তারা।
কৃষক মো. আব্দুল আজিজ ফেকু বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে গত বছরের লোকসান অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
কৃষকেরা জানান, পাট চাষে বীজ, সার, শ্রমিক, জমি প্রস্তুত, কাটা ও জাগ দেওয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় হয়। বিশেষ করে পাট কাটার মৌসুমে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে গেলে উৎপাদন খরচও বাড়ে। তাই ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য পাওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের দাবি, পাটের বাজার স্থিতিশীল রাখা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে। এতে আগামী মৌসুমে কৃষকেরা এ ফসলের আবাদ বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মমিনুল হক জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘায় গড়ে ৮ থেকে ৯ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হয়েছে।
তিনি বলেন, পাট চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বীজ বপন থেকে শুরু করে পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের প্রত্যাশা, ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে আগামী মৌসুমে রায়গঞ্জে পাটের আবাদ আরও বাড়বে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশের উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন