দৈনিক লাল বার্তা

কয়রায় জমির ধান নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ শিক্ষক গোলজার শেখের বিরুদ্ধে



কয়রায় জমির ধান নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ  শিক্ষক গোলজার শেখের বিরুদ্ধে

খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের ভান্ডারপোল গ্রামে ক্রয়কৃত জমিতে প্রবেশ করে রোপণ করা ধান তুলে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের গোলজার শেখের বিরুদ্ধে। তিনি স্থানীয় সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধান নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জমির ক্রেতা আব্দুর রব। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গোলজার শেখ দাবি করেছেন, জমিটি নিয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে পূর্ব থেকেই বিরোধ রয়েছে এবং আব্দুর রব তাদের না জানিয়ে জমি কিনেছেন।


আব্দুর রবের অভিযোগ, গত ১৩ জুলাই ভান্ডারপোল গ্রামের অহিদুজ্জামান, তৌহিদুজ্জামান, রাকিবুজ্জামানসহ চার ভাইয়ের কাছ থেকে তিনি ১০ কাঠা জমি ক্রয় করেন। পরে ওই জমিতে ধান রোপণ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জমিতে ধান রোপণের পর গোলজার শেখের সঙ্গে তাঁর বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে গোলজার শেখ কয়েকজন লোক নিয়ে তাঁর ক্রয়কৃত জমিতে প্রবেশ করে রোপণ করা ধান তুলে ফেলেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুল কাদেরকে বিষয়টি জানান। পরে এসআই কাদের গোলজার শেখের লোকজনকে ফোন করে জমি থেকে সরে যেতে বললে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেন আব্দুর রব।


এরপর তিনি পুনরায় ওই জমিতে ধান রোপণ করেন। তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে গোলজার শেখ জমির অন্তত তিনটি স্থান থেকে রোপণ করা ধান তুলে নষ্ট করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি স্থানে ধানগাছ উপড়ে ফেলা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

আব্দুর রব আরও অভিযোগ করেন, গত ২২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে ভান্ডারপোল আব্বাসের মোড়ে গোলজার শেখের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এ সময় জমি দখল করতে গেলে তাঁকে ‘জীবন শেষ করে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানান।

এ ঘটনায় গত ২৮ আগস্ট কয়রা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন আব্দুর রব। সাধারণ ডায়েরিতে তিনি, জমি নিয়ে বিরোধ, জমিতে প্রবেশে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করেন।

অভিযোগের বিষয় গোলজার শেখ বলেন, ‘‘জমি বন্ধক বাবদ জলিল মোল্লার কাছে আমাদের ৮০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। ওই টাকা ফেরত দিয়ে আব্দুর রব জমি বুঝে নিলে আমাদের আপত্তি নেই। তবে আমাদের জমিতে এসে চাষাবাদ বা খুঁটি পুঁতলে আমরা তা মেনে নেব না।’’

প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, আব্দুর রব তাঁর ভাগ্নের সম্পর্কের। জমি কেনার বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হলেও তাঁকে কোনো হুমকি দেননি।

তবে গোলজার শেখের দাবির বিষয়ে আব্দুর রব বলেন, তাঁরা যদি কোনো বায়না করে থাকেন, সেটি জলিল মোল্লার সঙ্গে করেছেন এবং ওই জমি অন্য দাগে। তিনি যে ১০ কাঠা জমি কিনেছেন, সেটি জলিল মোল্লার চার ছেলের নামে ছিল এবং চার ভাই তাঁকে দলিল করে দিয়েছেন। এই জমির বিষয়ে চার ভাই কোনো বায়নাপত্র করেননি এবং তাঁর কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি বলেও দাবি করেন আব্দুর রব।

এ বিষয়ে এসআই আব্দুল কাদের বলেন, আব্দুর রব গোলজার শেখের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করার জন্য আবেদন করেছেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


কয়রায় জমির ধান নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ শিক্ষক গোলজার শেখের বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image


খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের ভান্ডারপোল গ্রামে ক্রয়কৃত জমিতে প্রবেশ করে রোপণ করা ধান তুলে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের গোলজার শেখের বিরুদ্ধে। তিনি স্থানীয় সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধান নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জমির ক্রেতা আব্দুর রব। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গোলজার শেখ দাবি করেছেন, জমিটি নিয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে পূর্ব থেকেই বিরোধ রয়েছে এবং আব্দুর রব তাদের না জানিয়ে জমি কিনেছেন।


আব্দুর রবের অভিযোগ, গত ১৩ জুলাই ভান্ডারপোল গ্রামের অহিদুজ্জামান, তৌহিদুজ্জামান, রাকিবুজ্জামানসহ চার ভাইয়ের কাছ থেকে তিনি ১০ কাঠা জমি ক্রয় করেন। পরে ওই জমিতে ধান রোপণ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জমিতে ধান রোপণের পর গোলজার শেখের সঙ্গে তাঁর বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে গোলজার শেখ কয়েকজন লোক নিয়ে তাঁর ক্রয়কৃত জমিতে প্রবেশ করে রোপণ করা ধান তুলে ফেলেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুল কাদেরকে বিষয়টি জানান। পরে এসআই কাদের গোলজার শেখের লোকজনকে ফোন করে জমি থেকে সরে যেতে বললে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেন আব্দুর রব।


এরপর তিনি পুনরায় ওই জমিতে ধান রোপণ করেন। তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে গোলজার শেখ জমির অন্তত তিনটি স্থান থেকে রোপণ করা ধান তুলে নষ্ট করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি স্থানে ধানগাছ উপড়ে ফেলা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

আব্দুর রব আরও অভিযোগ করেন, গত ২২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে ভান্ডারপোল আব্বাসের মোড়ে গোলজার শেখের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এ সময় জমি দখল করতে গেলে তাঁকে ‘জীবন শেষ করে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানান।

এ ঘটনায় গত ২৮ আগস্ট কয়রা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন আব্দুর রব। সাধারণ ডায়েরিতে তিনি, জমি নিয়ে বিরোধ, জমিতে প্রবেশে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করেন।


অভিযোগের বিষয় গোলজার শেখ বলেন, ‘‘জমি বন্ধক বাবদ জলিল মোল্লার কাছে আমাদের ৮০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। ওই টাকা ফেরত দিয়ে আব্দুর রব জমি বুঝে নিলে আমাদের আপত্তি নেই। তবে আমাদের জমিতে এসে চাষাবাদ বা খুঁটি পুঁতলে আমরা তা মেনে নেব না।’’


প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, আব্দুর রব তাঁর ভাগ্নের সম্পর্কের। জমি কেনার বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হলেও তাঁকে কোনো হুমকি দেননি।

তবে গোলজার শেখের দাবির বিষয়ে আব্দুর রব বলেন, তাঁরা যদি কোনো বায়না করে থাকেন, সেটি জলিল মোল্লার সঙ্গে করেছেন এবং ওই জমি অন্য দাগে। তিনি যে ১০ কাঠা জমি কিনেছেন, সেটি জলিল মোল্লার চার ছেলের নামে ছিল এবং চার ভাই তাঁকে দলিল করে দিয়েছেন। এই জমির বিষয়ে চার ভাই কোনো বায়নাপত্র করেননি এবং তাঁর কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি বলেও দাবি করেন আব্দুর রব।

এ বিষয়ে এসআই আব্দুল কাদের বলেন, আব্দুর রব গোলজার শেখের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করার জন্য আবেদন করেছেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো যাবে।



দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা