দৈনিক লাল বার্তা

রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ: বহাল তবিয়তে আ.লীগ নেতা পরিচালিত মৎস্য আড়ত



রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ: বহাল তবিয়তে আ.লীগ নেতা পরিচালিত মৎস্য আড়ত

 বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও বন্ধ হয়নি  রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পরিচালিত হওয়া আওয়ামী লীগ নেতার মৎস্য আড়ত। পেরিফেরি ছাড়া জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে আড়তটি পরিচালনা করায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে আড়তের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকাও রয়েছে। 

গত জুলাই মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়ে আড়তটি উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। এছাড়াও সলঙ্গা পেরিফেরিভুক্ত ঐতিহ্যবাহী হাঁটের ইজারাদার রোকনুজ্জামান লেলিনও মৎস্য আড়তটি উচ্ছেদে সর্বশেষ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

এসব অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে আব্দুল হাই, ধুবিল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাসেল, আব্দুল মোন্নাফ, মাহবুব, সুলতান মেম্বর, লঙ্কেশ্বর হালদার, আব্দুল হান্নান, হাফিজুল ইসলাম, ইকবাল মন্ডল, মাহফুজ প্রফেসর, সাধন হালদার, কালা হালদার, শোভন ও নুরুসহ ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা এই আড়তটি গড়ে তোলে। আড়তটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে। এখানে দিনে প্রায় দুই কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হলেও সরকারের ঘরে এক কানাকড়ি রাজস্বও যাচ্ছে না। এদিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক ও সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের পাশেই গড়ে ওঠা মৎস্য আড়তটি এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সূতিকার খ্যাত ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাঁট। 

তিন একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত আড়তটিতে ১৩৫-১৪০টি কাঁটা বসানো হয়েছে। প্রতিটি কাটা থেকে ৩ থেকে ৬ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়াও ৮-৯টি বরফকল স্থাপনের সময় প্রতিটি থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। ওই সময় এককালীন প্রায় ৬-৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই চক্রটি। 

এদিকে গত ১৩ আগষ্ট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে সলঙ্গা হাঁটের ইজারাদার রোকনুজ্জামান লেলিন উল্লেখ করেন, চলতি বছর সলঙ্গা হাঁটটি ১ কোটি টাকা ২৭ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন তিনি। কিন্তু কুতুবের চর অবৈধ মৎস্য আড়তটির কারণে রাস্তায় যানজট-দুর্ভোগে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ অবস্থায় হাঁটের ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা কমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তিনি। 

সলঙ্গা থানাধীন বড় গোজা গ্রামের আক্তারুজ্জামান, ইসমাইল হোসেন, নূর মোহাম্মদ, লাভলু তালুকদার ও আমজাদ হোসনসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক ও সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের পাশে জনবহুল এলাকায় এই আড়ত বসানো হয়েছে। পাশেই রয়েছে শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাট। এছাড়াও সলঙ্গা ডিগ্রি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আড়তটি বসানোর কারণে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেই রাস্তার পাশে আড়তের কারণে অসংখ্য শ্যালো ইঞ্জিন চালিত লসিমন, ট্রাক-পিকআপ, অটোভ্যান যাতায়াত করে। যার ফলে নিয়মিত যানজট লেগে থাকে রাস্তায়। এছাড়া মাঝে মধ্যেই ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটে। 

আড়ত পরিচালনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেওয়ায় জাকারিয়া হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই জাকারিয়া হোসেন বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই, তার ভাই মোন্নাফ, মাহবুব, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক আরজু মাস্টার তার ছেলে নোমান আলী ও বাইসুসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, আসামিরা কুতুবের চর মৎস্য আড়ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছিল। বাদীর কাছেও তারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বক্তব্য দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাদী জাকারিয়া হোসেনকে জোরপূর্বক অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। তাকে বরফ কলে নিয়ে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেয় এবং আবারও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। 

এ বিষয়ে জানতে কুতুবের চর মৎস্য আড়ত সমবায় সমিতির সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।  

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কুতুবের চর মৎস্য আড়তটি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা রয়েছে। যেহেতু মামলা মোকদ্দমা আছে চাইলেই তো সমস্যার সমাধান করা যায় না। সেখানে যারা আড়ত পরিচালনা করছে এবং যারা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে তাদের নিয়ে আমরা একটি মিটিং করে সমাধানের চেষ্টা করবো।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ: বহাল তবিয়তে আ.লীগ নেতা পরিচালিত মৎস্য আড়ত

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image


 বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও বন্ধ হয়নি  রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পরিচালিত হওয়া আওয়ামী লীগ নেতার মৎস্য আড়ত। পেরিফেরি ছাড়া জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে আড়তটি পরিচালনা করায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে আড়তের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকাও রয়েছে। 


গত জুলাই মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়ে আড়তটি উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। এছাড়াও সলঙ্গা পেরিফেরিভুক্ত ঐতিহ্যবাহী হাঁটের ইজারাদার রোকনুজ্জামান লেলিনও মৎস্য আড়তটি উচ্ছেদে সর্বশেষ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 



এসব অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে আব্দুল হাই, ধুবিল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাসেল, আব্দুল মোন্নাফ, মাহবুব, সুলতান মেম্বর, লঙ্কেশ্বর হালদার, আব্দুল হান্নান, হাফিজুল ইসলাম, ইকবাল মন্ডল, মাহফুজ প্রফেসর, সাধন হালদার, কালা হালদার, শোভন ও নুরুসহ ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা এই আড়তটি গড়ে তোলে। আড়তটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে। এখানে দিনে প্রায় দুই কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হলেও সরকারের ঘরে এক কানাকড়ি রাজস্বও যাচ্ছে না। এদিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক ও সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের পাশেই গড়ে ওঠা মৎস্য আড়তটি এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সূতিকার খ্যাত ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাঁট। 



তিন একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত আড়তটিতে ১৩৫-১৪০টি কাঁটা বসানো হয়েছে। প্রতিটি কাটা থেকে ৩ থেকে ৬ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়াও ৮-৯টি বরফকল স্থাপনের সময় প্রতিটি থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। ওই সময় এককালীন প্রায় ৬-৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই চক্রটি। 


এদিকে গত ১৩ আগষ্ট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে সলঙ্গা হাঁটের ইজারাদার রোকনুজ্জামান লেলিন উল্লেখ করেন, চলতি বছর সলঙ্গা হাঁটটি ১ কোটি টাকা ২৭ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন তিনি। কিন্তু কুতুবের চর অবৈধ মৎস্য আড়তটির কারণে রাস্তায় যানজট-দুর্ভোগে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ অবস্থায় হাঁটের ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা কমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তিনি। 


সলঙ্গা থানাধীন বড় গোজা গ্রামের আক্তারুজ্জামান, ইসমাইল হোসেন, নূর মোহাম্মদ, লাভলু তালুকদার ও আমজাদ হোসনসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক ও সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের পাশে জনবহুল এলাকায় এই আড়ত বসানো হয়েছে। পাশেই রয়েছে শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাট। এছাড়াও সলঙ্গা ডিগ্রি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আড়তটি বসানোর কারণে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 


এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেই রাস্তার পাশে আড়তের কারণে অসংখ্য শ্যালো ইঞ্জিন চালিত লসিমন, ট্রাক-পিকআপ, অটোভ্যান যাতায়াত করে। যার ফলে নিয়মিত যানজট লেগে থাকে রাস্তায়। এছাড়া মাঝে মধ্যেই ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটে। 


আড়ত পরিচালনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেওয়ায় জাকারিয়া হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। 


এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই জাকারিয়া হোসেন বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই, তার ভাই মোন্নাফ, মাহবুব, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক আরজু মাস্টার তার ছেলে নোমান আলী ও বাইসুসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, আসামিরা কুতুবের চর মৎস্য আড়ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছিল। বাদীর কাছেও তারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বক্তব্য দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাদী জাকারিয়া হোসেনকে জোরপূর্বক অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। তাকে বরফ কলে নিয়ে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেয় এবং আবারও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। 


এ বিষয়ে জানতে কুতুবের চর মৎস্য আড়ত সমবায় সমিতির সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।  


সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কুতুবের চর মৎস্য আড়তটি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা রয়েছে। যেহেতু মামলা মোকদ্দমা আছে চাইলেই তো সমস্যার সমাধান করা যায় না। সেখানে যারা আড়ত পরিচালনা করছে এবং যারা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে তাদের নিয়ে আমরা একটি মিটিং করে সমাধানের চেষ্টা করবো।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা