দৈনিক লাল বার্তা

রায়গঞ্জে এমপি আয়নুল হকের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন



রায়গঞ্জে এমপি আয়নুল হকের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ১৬ আগস্ট ২০২৬, জামায়াতের রায়গঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. এস এম মুনসুর আলীর সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর আলী মর্তুজা।

আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আমি অত্যন্ত দুঃখ ভরাক্রান্ত মন নিয়ে হাজির হয়েছি। আমি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বলতে চাই, ধানগড়ায় সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ভি.পি. আয়নুল হক এমপি সাহেবকে ঘিরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ঘটনাটিকে কোনোভাবেই দলীয় সংঘাত বা রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত হবে না। আমাদের জানামতে, ধানগড়ায় একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের দাবিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাটি ঘটেছে যার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মানুষ এবং ধানগড়া এলাকার সাধারণ জনগণ সম্পৃক্ত আছে। এই দাবীর সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নাই। এবিষয়ে জামায়াতে ইসলামী মনে করে যে, মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হক সাহেব একজন নির্বাচিত আইন প্রণেতা। তিনি অবশ্যই সরকারি বিধি-বিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। তার দ্বারা আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না মর্মে বিশ্বাস করে আমরা বলতে চাই, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা টিটিসি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেটা সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে পুরো উপজেলাবাসীর জন্য সুবিধাজনক স্থানে নির্মিত হওয়া উচিত। 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবর এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন। সাংগঠনিকভাবে ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য জামায়াতে ইসলামী, রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। এই অবস্থায় একটি অরাজনৈতিক স্থানীয় দাবিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দাবি হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আমরা আরও জানতে পেরেছি যে, কিছুদিন আগে থেকেই বিতর্কিত ফয়সাল বিশ্বাসের কিছু বক্তব্য ও আচরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তার অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলা এবং ধানগড়াবাসীকে কটাক্ষ করার মতো বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

পরবর্তীতে মাননীয় এমপি মহোদয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে ফয়সাল বিশ্বাস নামের ওই ব্যক্তিকে তাঁর গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় কে বা কাহারা এমপি সাহেবের গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে থাকে। এরপর হঠাৎ করেই ফয়সাল বিশ্বাস গাড়িতে এমপি সাহেবের পাশে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনাটিকে ভিন্ন রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে এবং জামায়াত-শিবিরকে এই জঘন্য হামলার জন্য দায়ী করে।

আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, একটি অরাজনৈতিক স্থানীয় দাবি এবং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির কিংবা অন্য যে কোনো সংগঠনের ওপর সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া দায় চাপানো সম্পূর্ণ অনুচিত, অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

রায়গঞ্জের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের রাজনীতি করে আসছে। আমরা চাই না কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা স্বার্থন্বেষী মহলের উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে এই সম্প্রীতি নষ্ট হোক। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু কোন রাজনৈতিক দলকে গালিগালাজ, ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা রটনা কিংবা উস্কানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আজকের ঘটনার বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট দাবি:

প্রথমত, ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হামলা, উস্কানি, অশালীন আচরণ কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করে কেউ যাতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

চতুর্থত, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা টিটিসি স্থাপনের যে জনদাবি রয়েছে, সেটিকে রাজনৈতিক বিরোধের বিষয় না বানিয়ে জনগণের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি স্থান নির্ধারণী কমিটি গঠন করে সৃষ্ট জটিলতার শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার জন্য উদাত্ত্ব আহ্বান জানাচ্ছি।

আমরা কোনো সংঘাত চাই না, কোনো প্রতিহিংসা চাই না। আমরা চাই **সত্য উদঘাটিত হোক, অপরাধী শাস্তি পাক এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হোক।**

সর্বোপরি আমরা আজকের অপ্রীতিকর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

পরিশেষে সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা যাচাই-বাছাই করে সত্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া বিবাদমান কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরবেন। এতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং রায়গঞ্জের সামাজিক সম্প্রীতি অটুট থাকবে। আপনারা নিজেদের মূল্যবান সময় ও শ্রম ব্যয় করে আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য উপস্থিত সবাইকে আবার জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। 

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন। ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের রায়গঞ্জ উপজেলা অফিস সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন, বায়তুল মাল সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য খোরশেদ আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ডাঃ কামরুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি সুমন আহমেদ, পৌর আমীর আলহাজ্ব হোসেন আলী, রায়গঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেন আকন্দ, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মাসুদ রানা সহ ইউনিয়ন দায়িত্বশীলবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


রায়গঞ্জে এমপি আয়নুল হকের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image




বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ১৬ আগস্ট ২০২৬, জামায়াতের রায়গঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. এস এম মুনসুর আলীর সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর আলী মর্তুজা।


আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আমি অত্যন্ত দুঃখ ভরাক্রান্ত মন নিয়ে হাজির হয়েছি। আমি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বলতে চাই, ধানগড়ায় সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ভি.পি. আয়নুল হক এমপি সাহেবকে ঘিরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ঘটনাটিকে কোনোভাবেই দলীয় সংঘাত বা রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত হবে না। আমাদের জানামতে, ধানগড়ায় একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের দাবিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাটি ঘটেছে যার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মানুষ এবং ধানগড়া এলাকার সাধারণ জনগণ সম্পৃক্ত আছে। এই দাবীর সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নাই। এবিষয়ে জামায়াতে ইসলামী মনে করে যে, মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হক সাহেব একজন নির্বাচিত আইন প্রণেতা। তিনি অবশ্যই সরকারি বিধি-বিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। তার দ্বারা আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না মর্মে বিশ্বাস করে আমরা বলতে চাই, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা টিটিসি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেটা সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে পুরো উপজেলাবাসীর জন্য সুবিধাজনক স্থানে নির্মিত হওয়া উচিত। 


গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবর এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন। সাংগঠনিকভাবে ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য জামায়াতে ইসলামী, রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। এই অবস্থায় একটি অরাজনৈতিক স্থানীয় দাবিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দাবি হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আমরা আরও জানতে পেরেছি যে, কিছুদিন আগে থেকেই বিতর্কিত ফয়সাল বিশ্বাসের কিছু বক্তব্য ও আচরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তার অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলা এবং ধানগড়াবাসীকে কটাক্ষ করার মতো বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

পরবর্তীতে মাননীয় এমপি মহোদয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে ফয়সাল বিশ্বাস নামের ওই ব্যক্তিকে তাঁর গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় কে বা কাহারা এমপি সাহেবের গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে থাকে। এরপর হঠাৎ করেই ফয়সাল বিশ্বাস গাড়িতে এমপি সাহেবের পাশে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনাটিকে ভিন্ন রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে এবং জামায়াত-শিবিরকে এই জঘন্য হামলার জন্য দায়ী করে।

আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, একটি অরাজনৈতিক স্থানীয় দাবি এবং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির কিংবা অন্য যে কোনো সংগঠনের ওপর সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া দায় চাপানো সম্পূর্ণ অনুচিত, অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

রায়গঞ্জের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের রাজনীতি করে আসছে। আমরা চাই না কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা স্বার্থন্বেষী মহলের উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে এই সম্প্রীতি নষ্ট হোক। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু কোন রাজনৈতিক দলকে গালিগালাজ, ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা রটনা কিংবা উস্কানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


আজকের ঘটনার বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট দাবি:

প্রথমত, ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হামলা, উস্কানি, অশালীন আচরণ কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।


তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করে কেউ যাতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


চতুর্থত, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা টিটিসি স্থাপনের যে জনদাবি রয়েছে, সেটিকে রাজনৈতিক বিরোধের বিষয় না বানিয়ে জনগণের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি স্থান নির্ধারণী কমিটি গঠন করে সৃষ্ট জটিলতার শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার জন্য উদাত্ত্ব আহ্বান জানাচ্ছি।


আমরা কোনো সংঘাত চাই না, কোনো প্রতিহিংসা চাই না। আমরা চাই **সত্য উদঘাটিত হোক, অপরাধী শাস্তি পাক এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হোক।**


সর্বোপরি আমরা আজকের অপ্রীতিকর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

পরিশেষে সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা যাচাই-বাছাই করে সত্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া বিবাদমান কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরবেন। এতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং রায়গঞ্জের সামাজিক সম্প্রীতি অটুট থাকবে। আপনারা নিজেদের মূল্যবান সময় ও শ্রম ব্যয় করে আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য উপস্থিত সবাইকে আবার জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। 


আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন। ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।


আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের রায়গঞ্জ উপজেলা অফিস সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন, বায়তুল মাল সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য খোরশেদ আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ডাঃ কামরুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি সুমন আহমেদ, পৌর আমীর আলহাজ্ব হোসেন আলী, রায়গঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেন আকন্দ, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মাসুদ রানা সহ ইউনিয়ন দায়িত্বশীলবৃন্দ।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা