আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় ঢাকা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতি হওয়ায় সেই প্রেক্ষাপটেই ভারত এ আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অর্থাৎ, এটি সরাসরি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়, বরং আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার কূটনীতিকদের ধারণা, ভারতের মূল লক্ষ্য অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোর পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী সফরে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো. খলিলুর রহমান বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে। একই দিনে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অদূর ভবিষ্যতেই অনুষ্ঠিত হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় দিকই জড়িত। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত সফর একটি সংবেদনশীল বিষয় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে বিমসটেকের প্রতি বাংলাদেশের অনীহা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠতে পারে। উল্লেখ্য, বিমসটেকের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় এবং বর্তমানে জোটটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিলে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আঞ্চলিক নেতার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও, ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে ভারতের সঙ্গে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। এছাড়া সম্মেলন শুরু হতে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বাকি থাকায় এত অল্প সময়ে একটি বড় দ্বিপাক্ষিক সফরের প্রস্তুতি নেওয়াও কঠিন।
তবে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও উভয় পক্ষই ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত সমান মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করছে। তাঁর ভাষায়, এ সম্পর্ক পরিচালনার মূল নীতি হলো ‘বাংলাদেশ প্রথম’।
তিনি স্বীকার করেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে। তবে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন, যা উভয় পক্ষই উপলব্ধি করছে। কূটনীতিকদের মতে, দুই দেশই বর্তমানে প্রকাশ্যে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থান এড়িয়ে পারস্পরিক দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. সুফিউর রহমানের মতে, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে বড় কোনো দ্বিপাক্ষিক অগ্রগতির আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, আঞ্চলিক জোটের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ পাওয়া স্বাভাবিক হলেও, সেখানে আলোচনার মূল বিষয় হবে আঞ্চলিক সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক বিরোধ নয়।
তাঁর মতে, সম্মেলনে অংশ নিলেও অমীমাংসিত ইস্যুগুলোতে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম। আবার অংশগ্রহণ না করলে বিমসটেকের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে অপ্রয়োজনীয় জল্পনা-কল্পনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সুফিউর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর কার্যকর সমাধানের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সফর প্রয়োজন। তাঁর মতে, বড় কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে জটিল দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য কূটনৈতিক লাভ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় ঢাকা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতি হওয়ায় সেই প্রেক্ষাপটেই ভারত এ আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অর্থাৎ, এটি সরাসরি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়, বরং আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার কূটনীতিকদের ধারণা, ভারতের মূল লক্ষ্য অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোর পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী সফরে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো. খলিলুর রহমান বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে। একই দিনে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অদূর ভবিষ্যতেই অনুষ্ঠিত হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় দিকই জড়িত। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত সফর একটি সংবেদনশীল বিষয় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে বিমসটেকের প্রতি বাংলাদেশের অনীহা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠতে পারে। উল্লেখ্য, বিমসটেকের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় এবং বর্তমানে জোটটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিলে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আঞ্চলিক নেতার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও, ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে ভারতের সঙ্গে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। এছাড়া সম্মেলন শুরু হতে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বাকি থাকায় এত অল্প সময়ে একটি বড় দ্বিপাক্ষিক সফরের প্রস্তুতি নেওয়াও কঠিন।
তবে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও উভয় পক্ষই ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত সমান মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করছে। তাঁর ভাষায়, এ সম্পর্ক পরিচালনার মূল নীতি হলো ‘বাংলাদেশ প্রথম’।
তিনি স্বীকার করেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে। তবে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন, যা উভয় পক্ষই উপলব্ধি করছে। কূটনীতিকদের মতে, দুই দেশই বর্তমানে প্রকাশ্যে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থান এড়িয়ে পারস্পরিক দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. সুফিউর রহমানের মতে, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে বড় কোনো দ্বিপাক্ষিক অগ্রগতির আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, আঞ্চলিক জোটের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ পাওয়া স্বাভাবিক হলেও, সেখানে আলোচনার মূল বিষয় হবে আঞ্চলিক সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক বিরোধ নয়।
তাঁর মতে, সম্মেলনে অংশ নিলেও অমীমাংসিত ইস্যুগুলোতে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম। আবার অংশগ্রহণ না করলে বিমসটেকের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে অপ্রয়োজনীয় জল্পনা-কল্পনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সুফিউর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর কার্যকর সমাধানের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সফর প্রয়োজন। তাঁর মতে, বড় কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে জটিল দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য কূটনৈতিক লাভ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন