দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ বহু ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের এক মেলবন্ধনের ভূমি। যুগের পর যুগ ধরে এ দেশের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই গৌরবময় ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, "হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই এ দেশের সমান নাগরিক। আমরা এমন একটি বাংলাদেশে বিশ্বাস করি, যেখানে ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভাজন থাকবে না।"
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমাদের ইশতেহারে রংধনুর প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল। সাতটি রঙের সমন্বয়ে যেমন একটি সুন্দর রংধনু সৃষ্টি হয়, ঠিক তেমনি ভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসেই বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।”
তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধর্মীয় বিভাজন কিংবা বৈষম্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। দলের কাছে দেশের সব নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী।
"আমরা ‘সংখ্যালঘু’ শব্দে বিশ্বাস করি না; সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এক হয়েই আমরা দেশ গড়তে চাই।"
বক্তব্যের একপর্যায়ে শামা ওবায়েদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, "যারা নিজেদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন, তাদের অবদান চিরস্মরণীয়। শহীদদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।"
সেই সাথে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং প্রয়োজনে তাদের বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপচেষ্টা করা হলে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। একই সাথে জাতীয় অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ, সহনশীল ও সহযোগী মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বর্ণিল এই রথযাত্রা উৎসবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ বহু ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের এক মেলবন্ধনের ভূমি। যুগের পর যুগ ধরে এ দেশের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই গৌরবময় ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, "হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই এ দেশের সমান নাগরিক। আমরা এমন একটি বাংলাদেশে বিশ্বাস করি, যেখানে ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভাজন থাকবে না।"
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমাদের ইশতেহারে রংধনুর প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল। সাতটি রঙের সমন্বয়ে যেমন একটি সুন্দর রংধনু সৃষ্টি হয়, ঠিক তেমনি ভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসেই বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।”
তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধর্মীয় বিভাজন কিংবা বৈষম্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। দলের কাছে দেশের সব নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী।
"আমরা ‘সংখ্যালঘু’ শব্দে বিশ্বাস করি না; সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এক হয়েই আমরা দেশ গড়তে চাই।"
বক্তব্যের একপর্যায়ে শামা ওবায়েদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, "যারা নিজেদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন, তাদের অবদান চিরস্মরণীয়। শহীদদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।"
সেই সাথে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং প্রয়োজনে তাদের বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপচেষ্টা করা হলে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। একই সাথে জাতীয় অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ, সহনশীল ও সহযোগী মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বর্ণিল এই রথযাত্রা উৎসবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন