কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নাটোরের সিংড়ার চলনবিল অঞ্চলে নতুন পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আর এই নতুন পানির টানে বিলের জলাশয়গুলোতে দেশি প্রজাতির ছোট মাছের আমদানি এক লাফে বহুগুণ বেড়েছে। চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট ও বাজারে এখন জমজমাট ছোট মাছের সমারোহ।
জেলেরা বলছেন, গত তিন দিন ধরে তাদের জালে আটকা পড়ছে প্রচুর দেশি প্রজাতির ছোট মাছ। সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের সকালের খুচরা মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় দুই শতাধিক পেশাদার ও মৌসুমী জেলে তাদের জালে ধরা টেংরা, পুঁটি, কৈ, শোল, শিং, গুচিসহ নানা রকম ছোট মাছ বিক্রি করতে এসেছেন।
বাজারে মাছ বিক্রি করতে আসা পৌরসভার চকসিংড়া গ্রামের জেলে মালেক সরদার জানান,
"কয়েক দিন ধরে বিলে ভালোই মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন পানিতে মাছের নড়াচড়া বেশি। তবে জাল ফেললেই মাছের সাথে ডিমওয়ালা ছোট মাছও উঠে আসছে।"
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এখন বিলে যারা মাছ ধরছেন, তাদের বেশিরভাগই নিষিদ্ধ 'চায়না দুয়ারি জাল' ব্যবহার করছেন। এই জালে প্রচুর পরিমানে বোয়াল সহ অন্যান্য মাছের পোনা
নির্বিচারে ধরা পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
এদিকে বাজারে মাছের আমদানি প্রচুর হলেও দাম চড়া থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। সিংড়া বাসস্ট্যান্ড বাজারে মাছ কিনতে আসা জয়নাল আবেদীন নামের এক স্কুল শিক্ষক জানান,
"মাছের আমদানি বেশি হলেও দামে কিন্তু কম নেই। তবে যাই হোক, নতুন পানির মাছ বলে কথা! স্বাদ বেশি, তাই দাম একটু বেশি হলেও কিনতে হচ্ছে।"
বাজারের মাছ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে:
মাঝারি সাইজের চিংড়ি ৮০০টাকা কেজি,
ছোট গুচি ৬০০ টাকা কেজি, মাঝারি গুচি ৮০০ টাকা, টেংরা ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা কেজি, ছোট পুঁটি ১০০ টাকা, মাঝারি পুঁটি ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, চান্দা মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শোল মাছ ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং মাঝারি বোয়াল মাছ ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু সিংড়া বাসস্ট্যান্ডই নয়, মাছের আমদানি বেড়েছে উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত ডাহিয়া, সাতপুকুরিয়া, বিয়াশ ও জামতলীর সাপ্তাহিক হাটে। এছাড়া মাছের সরবরাহ অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় ডাহিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী মাছ বেচাকেনার পাইকারি বাজার (আড়ৎ)। এখানে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে খুচরা ও পাইকারি কেনাবেচার ধুম।
ডাহিয়া ব্রিজের পাশাপাশি একই ইউনিয়নের পারিল ব্রিজ ও বিয়াশ মাবিয়া মোড় এলাকাতেও অস্থায়ী পাইকারি ও খুচরা বাজার গড়ে উঠেছে। এসব বাজারে প্রতিদিন সকালে কয়েক লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হচ্ছে এবং ট্রাক ও পিকআপ যোগে এই মাছ চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বড় বড় শহরে।
'চলনবিল সমাজ কল্যাণ সংস্থার' সভাপতি ও সাপ্তাহিক উত্তর গণজীবন পত্রিকার সম্পাদক মো: আব্দুর রশিদ জানান, নতুন পানিতে মাছের এই আমদানি চলনবিলে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে সত্যি, তবে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরো বেশি কঠোর অভিযান চালানো প্রয়োজন।

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নাটোরের সিংড়ার চলনবিল অঞ্চলে নতুন পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আর এই নতুন পানির টানে বিলের জলাশয়গুলোতে দেশি প্রজাতির ছোট মাছের আমদানি এক লাফে বহুগুণ বেড়েছে। চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট ও বাজারে এখন জমজমাট ছোট মাছের সমারোহ।
জেলেরা বলছেন, গত তিন দিন ধরে তাদের জালে আটকা পড়ছে প্রচুর দেশি প্রজাতির ছোট মাছ। সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের সকালের খুচরা মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় দুই শতাধিক পেশাদার ও মৌসুমী জেলে তাদের জালে ধরা টেংরা, পুঁটি, কৈ, শোল, শিং, গুচিসহ নানা রকম ছোট মাছ বিক্রি করতে এসেছেন।
বাজারে মাছ বিক্রি করতে আসা পৌরসভার চকসিংড়া গ্রামের জেলে মালেক সরদার জানান,
"কয়েক দিন ধরে বিলে ভালোই মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন পানিতে মাছের নড়াচড়া বেশি। তবে জাল ফেললেই মাছের সাথে ডিমওয়ালা ছোট মাছও উঠে আসছে।"
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এখন বিলে যারা মাছ ধরছেন, তাদের বেশিরভাগই নিষিদ্ধ 'চায়না দুয়ারি জাল' ব্যবহার করছেন। এই জালে প্রচুর পরিমানে বোয়াল সহ অন্যান্য মাছের পোনা
নির্বিচারে ধরা পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
এদিকে বাজারে মাছের আমদানি প্রচুর হলেও দাম চড়া থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। সিংড়া বাসস্ট্যান্ড বাজারে মাছ কিনতে আসা জয়নাল আবেদীন নামের এক স্কুল শিক্ষক জানান,
"মাছের আমদানি বেশি হলেও দামে কিন্তু কম নেই। তবে যাই হোক, নতুন পানির মাছ বলে কথা! স্বাদ বেশি, তাই দাম একটু বেশি হলেও কিনতে হচ্ছে।"
বাজারের মাছ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে:
মাঝারি সাইজের চিংড়ি ৮০০টাকা কেজি,
ছোট গুচি ৬০০ টাকা কেজি, মাঝারি গুচি ৮০০ টাকা, টেংরা ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা কেজি, ছোট পুঁটি ১০০ টাকা, মাঝারি পুঁটি ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, চান্দা মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শোল মাছ ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং মাঝারি বোয়াল মাছ ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু সিংড়া বাসস্ট্যান্ডই নয়, মাছের আমদানি বেড়েছে উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত ডাহিয়া, সাতপুকুরিয়া, বিয়াশ ও জামতলীর সাপ্তাহিক হাটে। এছাড়া মাছের সরবরাহ অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় ডাহিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী মাছ বেচাকেনার পাইকারি বাজার (আড়ৎ)। এখানে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে খুচরা ও পাইকারি কেনাবেচার ধুম।
ডাহিয়া ব্রিজের পাশাপাশি একই ইউনিয়নের পারিল ব্রিজ ও বিয়াশ মাবিয়া মোড় এলাকাতেও অস্থায়ী পাইকারি ও খুচরা বাজার গড়ে উঠেছে। এসব বাজারে প্রতিদিন সকালে কয়েক লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হচ্ছে এবং ট্রাক ও পিকআপ যোগে এই মাছ চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বড় বড় শহরে।
'চলনবিল সমাজ কল্যাণ সংস্থার' সভাপতি ও সাপ্তাহিক উত্তর গণজীবন পত্রিকার সম্পাদক মো: আব্দুর রশিদ জানান, নতুন পানিতে মাছের এই আমদানি চলনবিলে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে সত্যি, তবে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরো বেশি কঠোর অভিযান চালানো প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন