দৈনিক লাল বার্তা

আলোর পথে নতুন যাত্রা: প্রত্যন্ত অঞ্চলে মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষার উদ্যোগ



আলোর পথে নতুন যাত্রা: প্রত্যন্ত অঞ্চলে মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষার উদ্যোগ

ইসলামের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রচার এবং নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা ধামাইনগর ইউনিয়নের  জোরপু্কুর / জোরা পুকুর মসজিদে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  আগামী ১ জুলাই থেকে ওই এলাকার একটি মসজিদে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ‘সকাল বেলার মক্তব’। বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বি থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর—সবাইকে নিয়ে কুরআন শিক্ষার এই উদ্যোগ স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।

সম্প্রতি স্থানীয় একটি মসজিদে জুমার খুতবায় পবিত্র কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে আলোচনার সময় বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এলাকার মসজিদগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী ইমাম না থাকা এবং ধর্মীয় শিক্ষার চর্চা কমে যাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে একটি মক্তব চালুর পরিকল্পনা করা হয়। উদ্দেশ্য একটাই—মসজিদকে কেন্দ্র করে সমাজকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসা।

মক্তবের বিশেষত্ব ও সুযোগ-সুবিধা সকাল বেলার এই মক্তবটিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য কুরআন শরীফ, কায়দা, আমপারা এবং রেহালসহ প্রয়োজনীয় সব শিক্ষা উপকরণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।  কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শিক্ষার জন্য কোনো অর্থ নেওয়া হবে না, বরং মক্তবের ইমাম বা শিক্ষকের বেতনের দায়িত্বও বহন করবে উদ্যোগী কর্তৃপক্ষ।সর্বজনীন অংশগ্রহণ: মক্তবটি কেবল শিশুদের জন্য নয়, বরং বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বিদের জন্যও উন্মুক্ত। এতে করে প্রজন্মের ব্যবধান ঘুচিয়ে সবাই মিলে আল্লাহর কালাম শেখার সুযোগ পাবে।

মসজিদমুখী সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মসজিদের সাথে সখ্যতা গড়ে দেওয়া। কর্তৃপক্ষ মনে করেন, শিশুরা যদি শৈশব থেকেই মসজিদের পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত হয় এবং মসজিদে এসে খেলাধুলা ও হইহুল্লোড়ের মাধ্যমে মসজিদকে ভালোবাসতে শেখে, তবে তারা বিপথগামী হবে না। এর মাধ্যমে মসজিদ কেবল ইবাদতের জায়গা নয়, বরং শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ খুতবার পর যখন এই মক্তব চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন উপস্থিত মুসল্লিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ফজর নামাজের পরপরই প্রতিদিন এক ঘণ্টা কুরআন শিক্ষার এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার জন্য তারা স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর এমন একটি ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ পাওয়ায় স্থানীয় মানুষের মনে স্বস্তির হাওয়া লেগেছে।

আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া এই মক্তবটি অত্র অঞ্চলের অন্ধকার দূর করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি মক্তব নয়, বরং মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি সুশৃঙ্খল ও আলোকিত সমাজ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ।

"বাচ্চারা মসজিদে আসুক, পবিত্র আঙিনায় তাদের পদচারণায় মসজিদ মুখরিত হোক—এটাই আমাদের কাম্য। আজ যারা মসজিদের সাথে যুক্ত হবে, ভবিষ্যতে তারাই হবে এই সমাজ ও ধর্মের ধারক।"— স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা।

লেখক: মোঃ হারুন অর রশিদ 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


আলোর পথে নতুন যাত্রা: প্রত্যন্ত অঞ্চলে মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষার উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image


ইসলামের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রচার এবং নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা ধামাইনগর ইউনিয়নের  জোরপু্কুর / জোরা পুকুর মসজিদে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  আগামী ১ জুলাই থেকে ওই এলাকার একটি মসজিদে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ‘সকাল বেলার মক্তব’। বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বি থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর—সবাইকে নিয়ে কুরআন শিক্ষার এই উদ্যোগ স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।


সম্প্রতি স্থানীয় একটি মসজিদে জুমার খুতবায় পবিত্র কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে আলোচনার সময় বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এলাকার মসজিদগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী ইমাম না থাকা এবং ধর্মীয় শিক্ষার চর্চা কমে যাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে একটি মক্তব চালুর পরিকল্পনা করা হয়। উদ্দেশ্য একটাই—মসজিদকে কেন্দ্র করে সমাজকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসা।

মক্তবের বিশেষত্ব ও সুযোগ-সুবিধা সকাল বেলার এই মক্তবটিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য কুরআন শরীফ, কায়দা, আমপারা এবং রেহালসহ প্রয়োজনীয় সব শিক্ষা উপকরণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।  কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শিক্ষার জন্য কোনো অর্থ নেওয়া হবে না, বরং মক্তবের ইমাম বা শিক্ষকের বেতনের দায়িত্বও বহন করবে উদ্যোগী কর্তৃপক্ষ।সর্বজনীন অংশগ্রহণ: মক্তবটি কেবল শিশুদের জন্য নয়, বরং বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বিদের জন্যও উন্মুক্ত। এতে করে প্রজন্মের ব্যবধান ঘুচিয়ে সবাই মিলে আল্লাহর কালাম শেখার সুযোগ পাবে।

মসজিদমুখী সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মসজিদের সাথে সখ্যতা গড়ে দেওয়া। কর্তৃপক্ষ মনে করেন, শিশুরা যদি শৈশব থেকেই মসজিদের পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত হয় এবং মসজিদে এসে খেলাধুলা ও হইহুল্লোড়ের মাধ্যমে মসজিদকে ভালোবাসতে শেখে, তবে তারা বিপথগামী হবে না। এর মাধ্যমে মসজিদ কেবল ইবাদতের জায়গা নয়, বরং শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ খুতবার পর যখন এই মক্তব চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন উপস্থিত মুসল্লিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ফজর নামাজের পরপরই প্রতিদিন এক ঘণ্টা কুরআন শিক্ষার এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার জন্য তারা স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর এমন একটি ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ পাওয়ায় স্থানীয় মানুষের মনে স্বস্তির হাওয়া লেগেছে।

আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া এই মক্তবটি অত্র অঞ্চলের অন্ধকার দূর করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি মক্তব নয়, বরং মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি সুশৃঙ্খল ও আলোকিত সমাজ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ।

"বাচ্চারা মসজিদে আসুক, পবিত্র আঙিনায় তাদের পদচারণায় মসজিদ মুখরিত হোক—এটাই আমাদের কাম্য। আজ যারা মসজিদের সাথে যুক্ত হবে, ভবিষ্যতে তারাই হবে এই সমাজ ও ধর্মের ধারক।"— স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা।

লেখক: মোঃ হারুন অর রশিদ 


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা