দৈনিক লাল বার্তা

নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে মিথ্যা মানববন্ধন: পরে চাইলেন ক্ষমা



নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে মিথ্যা মানববন্ধন: পরে চাইলেন ক্ষমা

 

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের ‘উপজেলা পর্যায় বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি’র অফিস সহকারী শ্রী বিপ্লব কুমার দাসের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক তথ্য দিয়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন মূল অভিযোগকারী সনাতন কুমার। পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি ও মৌখিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

সম্প্রতি তাড়াশ উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অফিস সহকারী বিপ্লব কুমার দাসের মাধ্যমে তাঁর মনোনীত এক ব্যক্তিকে কমিটিতে অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে একটি মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উক্ত মানববন্ধনে বিপ্লব কুমার দাসের অপসারণ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়। এই ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

মানববন্ধনের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাই শুরু হয়। তদন্তে দেখা যায়, কমিটিতে অন্তর্ভুক্তিকরণ কিংবা প্রকল্পের অর্থায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আইনবহির্ভূত কাজ ঘটেনি। মূলত, অভিযোগকারী সনাতন কুমার নিজের কিছু ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল করতে ব্যর্থ হয়ে এবং নিজের পূর্বের কোনো অপরাধ বা দোষ ঢাকতে সুকৌশলে অফিস সহকারী বিপ্লব কুমার দাসের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই মিথ্যা মানববন্ধনের নাটক সাজানো হয়েছিল।

সত্য ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এবং মিথ্যা তথ্যের ফাঁদে ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে সুর নরম করেন অভিযোগকারী সনাতন কুমার। পরে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নিজের ভুল স্বীকার করেন।

সনাতন কুমার তাঁর জবানবন্দিতে বলেন,আমি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এবং সঠিক তথ্য না জেনে শ্রী বিপ্লব কুমার দাসের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলাম ও মিথ্যা তথ্য ছড়াতে প্ররোচিত করেছিলাম। আমার এই কাজের জন্য আমি আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত এবং বিপ্লব বাবুসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলার সচেতন নাগরিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ জানান, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া এভাবে একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানববন্ধন করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে শুধু একজন ব্যক্তির সম্মানহানি হয় না, বরং নৃগোষ্ঠীদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও বাধাগ্রস্ত হয়। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কর্মসূচি রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে মিথ্যা মানববন্ধন: পরে চাইলেন ক্ষমা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

 


সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের ‘উপজেলা পর্যায় বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি’র অফিস সহকারী শ্রী বিপ্লব কুমার দাসের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক তথ্য দিয়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন মূল অভিযোগকারী সনাতন কুমার। পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি ও মৌখিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।


সম্প্রতি তাড়াশ উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অফিস সহকারী বিপ্লব কুমার দাসের মাধ্যমে তাঁর মনোনীত এক ব্যক্তিকে কমিটিতে অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে একটি মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উক্ত মানববন্ধনে বিপ্লব কুমার দাসের অপসারণ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়। এই ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।


মানববন্ধনের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাই শুরু হয়। তদন্তে দেখা যায়, কমিটিতে অন্তর্ভুক্তিকরণ কিংবা প্রকল্পের অর্থায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আইনবহির্ভূত কাজ ঘটেনি। মূলত, অভিযোগকারী সনাতন কুমার নিজের কিছু ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল করতে ব্যর্থ হয়ে এবং নিজের পূর্বের কোনো অপরাধ বা দোষ ঢাকতে সুকৌশলে অফিস সহকারী বিপ্লব কুমার দাসের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই মিথ্যা মানববন্ধনের নাটক সাজানো হয়েছিল।



সত্য ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এবং মিথ্যা তথ্যের ফাঁদে ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে সুর নরম করেন অভিযোগকারী সনাতন কুমার। পরে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নিজের ভুল স্বীকার করেন।


সনাতন কুমার তাঁর জবানবন্দিতে বলেন,আমি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এবং সঠিক তথ্য না জেনে শ্রী বিপ্লব কুমার দাসের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলাম ও মিথ্যা তথ্য ছড়াতে প্ররোচিত করেছিলাম। আমার এই কাজের জন্য আমি আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত এবং বিপ্লব বাবুসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি।


এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলার সচেতন নাগরিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ জানান, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া এভাবে একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানববন্ধন করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে শুধু একজন ব্যক্তির সম্মানহানি হয় না, বরং নৃগোষ্ঠীদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও বাধাগ্রস্ত হয়। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কর্মসূচি রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা