চন্দনাইশের পূর্ব জোয়ারা বাঁশির ওয়ালার বাড়িতে বাঁশি তৈরীর উৎসব মুখর পরিবেশের লালদিঘী তথা জব্বারের বলী খেলায় হরেক রকমের চন্দনাইশের বাঁশের বাঁশি বিক্রি হয়।
প্রতি বছর চৈত্র বৈশাখ মাস এলেই চন্দনাইশের পূর্ব জোয়ারা বাঁশির ওয়ালার বাড়িতে বাঁশি তৈরীর উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিশেষ করে কাল ২৫ এপ্রিল (শনিবার) জব্বারের বলী খেলায় বাঁশি বিক্রির জন্য চন্দনাইশ পৌরসভার বাঁশি ওয়ালার বাড়ির ২টি পরিবার তাদের সেই ঐতিহ্য তথা বাঁশ দিয়ে বাঁশি তৈরীর কাজ ধরে রেখেছে। সারা বছরই এই বাড়িতে বাঁশি তৈরীর কাজ চলে। পুরুষরা বাঁশির কারুকার্য, রাঙানো, সৌন্দর্যবর্ধন করে থাকে। তাদের পাশাপাশি মহিলারা বাঁশ কেটে আগুনে ছেঁকা দিয়ে বাঁশি তৈরীর কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। বাঁশি বিক্রি করে চলে তাদের সংসার।
চৈত্র-বৈশাখ মাস এলেই হাসি ফুটে এ ২টি পরিবারের সদস্যদের মুখে। তাদের মধ্যে কয়েকশ বছর পূর্ব থেকে এ বাঁশ দিয়ে বাঁশি তৈরীর শিল্পটি এ অঞ্চলে প্রতিষ্টা লাভ করে। এক সময় এ গ্রামের সকল পরিবারের পেশা ছিল বাঁশি তৈরী করে বিক্রি করা। বাঁশি বিক্রি করে উর্পাজনের মাধ্যমে চলতো তাদের পরিবার। বর্তমানে সে ঐতিহ্য আর নেই। তবে বাঁশি বেপারী বাড়ির ২টি পরিবার এখনো বাঁশের তৈরী বাঁশি শিল্পকে ধরে রেখেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশি ওয়ালার বাড়ির অনিলসহ ২টি পরিবারে বাঁশি বানানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে নারী-পুরুষ সবাই। বাঁশি তৈরীর কারিগর অনিল (৫৮) ও বিমল (৬৫) কাজের ফাঁকে জানালেন তাদের জীবনের সবটুকু সময় পার করেছেন বাঁশি তৈরীর কাজে। তারা মোহন বাঁশি, নাগিন বাঁশি, বিন বাঁশি, মুখ বাঁশি, আর বাঁশি, বেলুন বাঁশি, পাখি বাঁশি, হুইসেল বাঁশি, ফেন্সি বাঁশিসহ বাহারি রং বেরংয়ের বিভিন্ন সাইজের নজর কাড়া সব বাঁশি তৈরী করে থাকেন। তাদের তৈরীকৃত বাঁশি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও স্থান করে নিয়েছে। দুই ইঞ্চি থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা বিভিন্ন আকারের বাঁশির দাম, ডিজাইন ও গুনগতভাবে ২’শ থেকে ৪’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
কাঁচা মাল হিসেবে বাঁশ, শিমুল কাট, রং, কয়লা ব্যবহার হয়ে থাকে। চন্দনাইশের তৈরী বাঁশের বাঁশি জব্বারের বলী খেলা, নামী-দামী মেলাসহ শহরের স্বনামধন্য দোকানে ও শো-রুমে শোভা পাচ্ছে। বৈশখা মাস এলেই বলী খেলা, গরুর লড়াই, বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন মেলায় চন্দনাইশের ঐতিহ্যবাহী বাঁশের বাঁশি প্রচুর বিক্রি হয় বলে জানালেন অনিল কান্তি দে (৫৮)। তিনি বলেন, পৈত্রিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বাঁশি তৈরীর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবছর অগ্রহায়ন, বৈশাখ মাসে তারা বি-প্লাট, সি-সার্ব, সি-প্লাট, সি-সার্ব, ডি-সার্ব, এফ সার্ব, ১১ স্কেল, সাড়ে ১১ স্কেল, ১২ স্কেল, সাড়ে ১২ স্কেল, ১৩ স্কেল, সাড়ে ১৩ স্কেলের বাঁশি তৈরী করে থাকেন। প্রকার ও গুনগত বেধে বাঁশের বাঁশির দাম ১০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানালেন তিনি। প্রবীণ বাঁশি কারিগর উমাচরণ জানালেন, দীর্ঘ সময় ধরে তারা বাংলাদেশের এ গ্রামীণ শিল্প ধরে রাখলেও সরকারিভাবে কোন পৃষ্টপোষকতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। একই সাথে তাদের এই শিল্পকে ধরে রাখতে তিনি সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
চন্দনাইশের পূর্ব জোয়ারা বাঁশির ওয়ালার বাড়িতে বাঁশি তৈরীর উৎসব মুখর পরিবেশের লালদিঘী তথা জব্বারের বলী খেলায় হরেক রকমের চন্দনাইশের বাঁশের বাঁশি বিক্রি হয়।
প্রতি বছর চৈত্র বৈশাখ মাস এলেই চন্দনাইশের পূর্ব জোয়ারা বাঁশির ওয়ালার বাড়িতে বাঁশি তৈরীর উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিশেষ করে কাল ২৫ এপ্রিল (শনিবার) জব্বারের বলী খেলায় বাঁশি বিক্রির জন্য চন্দনাইশ পৌরসভার বাঁশি ওয়ালার বাড়ির ২টি পরিবার তাদের সেই ঐতিহ্য তথা বাঁশ দিয়ে বাঁশি তৈরীর কাজ ধরে রেখেছে। সারা বছরই এই বাড়িতে বাঁশি তৈরীর কাজ চলে। পুরুষরা বাঁশির কারুকার্য, রাঙানো, সৌন্দর্যবর্ধন করে থাকে। তাদের পাশাপাশি মহিলারা বাঁশ কেটে আগুনে ছেঁকা দিয়ে বাঁশি তৈরীর কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। বাঁশি বিক্রি করে চলে তাদের সংসার।
চৈত্র-বৈশাখ মাস এলেই হাসি ফুটে এ ২টি পরিবারের সদস্যদের মুখে। তাদের মধ্যে কয়েকশ বছর পূর্ব থেকে এ বাঁশ দিয়ে বাঁশি তৈরীর শিল্পটি এ অঞ্চলে প্রতিষ্টা লাভ করে। এক সময় এ গ্রামের সকল পরিবারের পেশা ছিল বাঁশি তৈরী করে বিক্রি করা। বাঁশি বিক্রি করে উর্পাজনের মাধ্যমে চলতো তাদের পরিবার। বর্তমানে সে ঐতিহ্য আর নেই। তবে বাঁশি বেপারী বাড়ির ২টি পরিবার এখনো বাঁশের তৈরী বাঁশি শিল্পকে ধরে রেখেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশি ওয়ালার বাড়ির অনিলসহ ২টি পরিবারে বাঁশি বানানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে নারী-পুরুষ সবাই। বাঁশি তৈরীর কারিগর অনিল (৫৮) ও বিমল (৬৫) কাজের ফাঁকে জানালেন তাদের জীবনের সবটুকু সময় পার করেছেন বাঁশি তৈরীর কাজে। তারা মোহন বাঁশি, নাগিন বাঁশি, বিন বাঁশি, মুখ বাঁশি, আর বাঁশি, বেলুন বাঁশি, পাখি বাঁশি, হুইসেল বাঁশি, ফেন্সি বাঁশিসহ বাহারি রং বেরংয়ের বিভিন্ন সাইজের নজর কাড়া সব বাঁশি তৈরী করে থাকেন। তাদের তৈরীকৃত বাঁশি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও স্থান করে নিয়েছে। দুই ইঞ্চি থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা বিভিন্ন আকারের বাঁশির দাম, ডিজাইন ও গুনগতভাবে ২’শ থেকে ৪’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
কাঁচা মাল হিসেবে বাঁশ, শিমুল কাট, রং, কয়লা ব্যবহার হয়ে থাকে। চন্দনাইশের তৈরী বাঁশের বাঁশি জব্বারের বলী খেলা, নামী-দামী মেলাসহ শহরের স্বনামধন্য দোকানে ও শো-রুমে শোভা পাচ্ছে। বৈশখা মাস এলেই বলী খেলা, গরুর লড়াই, বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন মেলায় চন্দনাইশের ঐতিহ্যবাহী বাঁশের বাঁশি প্রচুর বিক্রি হয় বলে জানালেন অনিল কান্তি দে (৫৮)। তিনি বলেন, পৈত্রিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বাঁশি তৈরীর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবছর অগ্রহায়ন, বৈশাখ মাসে তারা বি-প্লাট, সি-সার্ব, সি-প্লাট, সি-সার্ব, ডি-সার্ব, এফ সার্ব, ১১ স্কেল, সাড়ে ১১ স্কেল, ১২ স্কেল, সাড়ে ১২ স্কেল, ১৩ স্কেল, সাড়ে ১৩ স্কেলের বাঁশি তৈরী করে থাকেন। প্রকার ও গুনগত বেধে বাঁশের বাঁশির দাম ১০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানালেন তিনি। প্রবীণ বাঁশি কারিগর উমাচরণ জানালেন, দীর্ঘ সময় ধরে তারা বাংলাদেশের এ গ্রামীণ শিল্প ধরে রাখলেও সরকারিভাবে কোন পৃষ্টপোষকতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। একই সাথে তাদের এই শিল্পকে ধরে রাখতে তিনি সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন