সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর অরক্ষিত অঞ্চলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙনও বেড়েছে। স্থানীয়রা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে যমুনায় পানি বাড়ছে।
এর সঙ্গে কয়েকদিনে কাজিপুরে ভাঙনে বহু বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদী তীরবর্তী মানুষের। স্থানীয়রা আরও জানান, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যমুনার অরক্ষিত এলাকা চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বসতভিটা, চরাঞ্চলের আখ, পাট ও বাদামসহ বহু ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনকবলিতরা বলছেন, প্রতি বছর যমুনার ভাঙনে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। এক সময়ে অনেক জমির মালিক ও সামর্থ্যবান কৃষকরাও ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। তারা হয়ে পড়েছেন ভূমিহীন। গাছপালা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় পরিবেশেও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা নদীতে বিলীন হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক শিশুর লেখাপড়া। ছালাল এলাকার সুফিয়া বেগম (৬০) জানান, ৭ বার তার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। নদী এখন ঘরের কাছে। আয়-রোজগারের কেউ নেই।
আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, জমি ও বসতভিটা নদীতে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রাতে দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। মনে হয় কখন বুঝি বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাবে। একই গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, বাপ-দাদার প্রায় ১৫ বিঘা জমি ছিল। সময়ের ব্যবধানে সব নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন মাত্র কয়েক শতাংশ জমি আছে। তিনি বলেন, বারবার ঘর করেছি। কিন্তু নদীগর্ভে সব চলে গেছে। ভাঙনকবলিতদের অভিযোগ, এর আগে স্থায়ী বাঁধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। অতি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙনের হাত থেকে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষায় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, যমুনার অরক্ষিত ও ভাঙনকবলিত স্থানগুলোতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর অরক্ষিত অঞ্চলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙনও বেড়েছে। স্থানীয়রা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে যমুনায় পানি বাড়ছে।
এর সঙ্গে কয়েকদিনে কাজিপুরে ভাঙনে বহু বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদী তীরবর্তী মানুষের। স্থানীয়রা আরও জানান, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যমুনার অরক্ষিত এলাকা চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বসতভিটা, চরাঞ্চলের আখ, পাট ও বাদামসহ বহু ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনকবলিতরা বলছেন, প্রতি বছর যমুনার ভাঙনে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। এক সময়ে অনেক জমির মালিক ও সামর্থ্যবান কৃষকরাও ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। তারা হয়ে পড়েছেন ভূমিহীন। গাছপালা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় পরিবেশেও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা নদীতে বিলীন হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক শিশুর লেখাপড়া। ছালাল এলাকার সুফিয়া বেগম (৬০) জানান, ৭ বার তার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। নদী এখন ঘরের কাছে। আয়-রোজগারের কেউ নেই।
আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, জমি ও বসতভিটা নদীতে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রাতে দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। মনে হয় কখন বুঝি বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাবে। একই গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, বাপ-দাদার প্রায় ১৫ বিঘা জমি ছিল। সময়ের ব্যবধানে সব নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন মাত্র কয়েক শতাংশ জমি আছে। তিনি বলেন, বারবার ঘর করেছি। কিন্তু নদীগর্ভে সব চলে গেছে। ভাঙনকবলিতদের অভিযোগ, এর আগে স্থায়ী বাঁধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। অতি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙনের হাত থেকে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষায় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, যমুনার অরক্ষিত ও ভাঙনকবলিত স্থানগুলোতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন