দৈনিক লাল বার্তা

তাড়াশে কোটি টাকার রাস্তা গিলে খাচ্ছে পুকুর: চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী



তাড়াশে কোটি টাকার রাস্তা গিলে খাচ্ছে পুকুর: চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পুকুর খনন করায় ধসে পড়ছে গ্রামীণ একটি পাকা রাস্তা। পুকুরের কোনো পাড় না রেখেই এক প্রভাবশালী ব্যক্তি পুকুর খনন করায় প্রতিবছরই রাস্তাটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ছে পানিতে। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, তাড়াশ পৌর এলাকার মঙ্গলবাড়িয়া বাজার থেকে শোলাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী সুলতান হোসেন রাস্তার একদম পাশ ঘেঁষে, কোনো প্রকার পাড় না রেখেই বিশাল পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেন। কোনো প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল বা পাড় না থাকায় রাস্তাটির বেশির ভাগ অংশ ধসে পুকুরের পেটে চলে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে: রাস্তাটির একপাশের বড় অংশ ভেঙে গিয়ে অত্যন্ত সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বা ভারী কোনো যানবাহন গেলেই মাটি ধসে পড়ছে পুকুরে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথেই চলাচল করছে ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহনগুলো।

স্থানীয় ভ্যানচালক আইয়ুব আলী আক্ষেপ করে বলেন, "রাস্তাটার অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। এই রাস্তা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নাই, তাই বাধ্য হয়ে জানের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাইতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চাই।"

একই সুর স্থানীয় চালা মাগুরা গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস, শামচুল আলম ও নিরাঞ্জনের কণ্ঠেও। তারা বলেন, "পুকুর মালিক যদি নিয়ম মেনে পাড় বেঁধে দিত, তবে রাস্তাটা ভাঙত না। বারবার সরকারি টাকায় রাস্তা মেরামত করা হলেও পুকুরের কারণে তা টিকছে না। অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কার এবং পুকুর মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, "রাস্তাটি একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে, কিন্তু পুকুরের পাড় না থাকায় ধস রোধ করা যাচ্ছে না। পুকুর মালিক সুলতান হোসেনকে সরকারি রাস্তা সুরক্ষার স্বার্থে নিজস্ব উদ্যোগে শক্তিশালী পাড় বা গাইড ওয়াল নির্মাণ করতে বলা হলেও তিনি তাতে কোনো কর্ণপাত করছেন না।"

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জোড়াতালির সংস্কার নয়, বরং সরকারি সম্পদ নষ্ট করার দায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাস্তার স্থায়ী সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


তাড়াশে কোটি টাকার রাস্তা গিলে খাচ্ছে পুকুর: চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image



সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পুকুর খনন করায় ধসে পড়ছে গ্রামীণ একটি পাকা রাস্তা। পুকুরের কোনো পাড় না রেখেই এক প্রভাবশালী ব্যক্তি পুকুর খনন করায় প্রতিবছরই রাস্তাটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ছে পানিতে। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ।


ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, তাড়াশ পৌর এলাকার মঙ্গলবাড়িয়া বাজার থেকে শোলাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী সুলতান হোসেন রাস্তার একদম পাশ ঘেঁষে, কোনো প্রকার পাড় না রেখেই বিশাল পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেন। কোনো প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল বা পাড় না থাকায় রাস্তাটির বেশির ভাগ অংশ ধসে পুকুরের পেটে চলে গেছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে: রাস্তাটির একপাশের বড় অংশ ভেঙে গিয়ে অত্যন্ত সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বা ভারী কোনো যানবাহন গেলেই মাটি ধসে পড়ছে পুকুরে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথেই চলাচল করছে ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহনগুলো।


স্থানীয় ভ্যানচালক আইয়ুব আলী আক্ষেপ করে বলেন, "রাস্তাটার অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। এই রাস্তা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নাই, তাই বাধ্য হয়ে জানের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাইতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চাই।"


একই সুর স্থানীয় চালা মাগুরা গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস, শামচুল আলম ও নিরাঞ্জনের কণ্ঠেও। তারা বলেন, "পুকুর মালিক যদি নিয়ম মেনে পাড় বেঁধে দিত, তবে রাস্তাটা ভাঙত না। বারবার সরকারি টাকায় রাস্তা মেরামত করা হলেও পুকুরের কারণে তা টিকছে না। অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কার এবং পুকুর মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।"


এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, "রাস্তাটি একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে, কিন্তু পুকুরের পাড় না থাকায় ধস রোধ করা যাচ্ছে না। পুকুর মালিক সুলতান হোসেনকে সরকারি রাস্তা সুরক্ষার স্বার্থে নিজস্ব উদ্যোগে শক্তিশালী পাড় বা গাইড ওয়াল নির্মাণ করতে বলা হলেও তিনি তাতে কোনো কর্ণপাত করছেন না।"


এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জোড়াতালির সংস্কার নয়, বরং সরকারি সম্পদ নষ্ট করার দায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাস্তার স্থায়ী সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।



দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা